চীনের গবেষকদের ঐতিহাসিক সাফল্য; পাঁচ দিনের বেশি কাজ করেছে প্রতিস্থাপিত অঙ্গগুলো
বেইজিং | ৯ জুন ২০২৬
চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করলেন চীনা গবেষকরা। গুয়াংশি মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা জিনগতভাবে পরিবর্তিত শূকরের দুটি কিডনি ও একটি সম্পূর্ণ লিভার একই মানুষের শরীরে একসঙ্গে প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন। এটিই প্রথমবার যখন একাধিক প্রাণীর অঙ্গ একই সঙ্গে একজন মানুষের শরীরে বসানো হয়েছে এবং সেগুলো টানা পাঁচ দিনের বেশি সময় সফলভাবে কাজ করেছে।
কীভাবে সম্পন্ন হলো এই অস্ত্রোপচার
যে ব্যক্তির শরীরে অঙ্গগুলো প্রতিস্থাপন করা হয়েছে তিনি ব্রেন ডেড অবস্থায় ছিলেন। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত রোগে ভুগছিলেন তিনি, পাশাপাশি তাঁর দুটি কিডনিও বিকল হয়ে গিয়েছিল।
গবেষকরা প্রথমে শূকরের দুটি কিডনি প্রতিস্থাপন করেন। প্রতিস্থাপনের পর রোগীর শরীর সাড়া দিলে পরবর্তী ধাপে লিভারও বসানো হয়। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে অস্ত্রোপচারের পর তাৎক্ষণিক প্রত্যাখ্যান বা ‘হাইপারঅ্যাকিউট রিজেকশন’ ঘটেনি, শরীরের কোনো অঙ্গে তরল জমাও হয়নি।
কেন শূকরের অঙ্গ, কেন এত জিন পরিবর্তন
প্রাণীর শরীর থেকে নেওয়া অঙ্গ মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপনের পদ্ধতিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হয় ‘জেনোট্রান্সপ্ল্যান্টেশন’। স্বাভাবিক অবস্থায় মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অন্য প্রাণীর অঙ্গকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে এবং নষ্ট করে দেয়। এই বাধা অতিক্রম করতেই দরকার পড়ে জিনগত পরিবর্তন।
শূকরকে দাতা হিসেবে বেছে নেওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। শূকরের কিছু অঙ্গের আকার ও জিনের সঙ্গে মানুষের জিনের মিল রয়েছে বলে গবেষকরা দাবি করেছেন। বানর বা শিম্পাঞ্জির মতো প্রাইমেটদের সঙ্গে মানুষের জিনগত মিল বেশি হলেও সেগুলো নিয়ে গবেষণায় আইনি জটিলতা রয়েছে এবং প্রাইমেট থেকে ভাইরাস মানুষের শরীরে সহজে ছড়াতে পারে।
গবেষকরা মানুষের শরীর থেকে নির্বাচিত কিছু জিন শূকরের শরীরে প্রবেশ করিয়ে কঠোর পর্যবেক্ষণে সেই শূকরকে গবেষণাগারে বড় করেছেন। তারপরই সেই শূকরের অঙ্গ প্রতিস্থাপনের কাজ করা হয়েছে।
🔎 বিশ্লেষণ: কতটা এগোলো বিজ্ঞান
২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে প্রথমবার শূকরের হৃদপিণ্ড মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে ষাটোর্ধ্ব রিচার্ড স্লেম্যানের শরীরে শূকরের কিডনি বসানো হয়েছিল — তিনি কিছুদিন বেঁচেও ছিলেন, কিন্তু শেষপর্যন্ত অঙ্গ বিকলের কারণে মারা যান।
চীনের এই সাফল্য সেই পরীক্ষার তুলনায় আরও একধাপ এগিয়ে — কারণ এবার একটি নয়, তিনটি অঙ্গ একই সময়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে এবং সেগুলো আরও বেশি সময় কার্যকর ছিল। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই অঙ্গগুলোর কার্যকারিতা ধরে রাখা এখনো সম্ভব হয়নি। গবেষকরা বলছেন, জিনে আরও পরিবর্তন ঘটিয়ে ভবিষ্যতে সেটি সম্ভব হবে।
বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ অঙ্গ প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় থাকেন, অনেকে দাতার অভাবে মারা যান। জেনোট্রান্সপ্ল্যান্টেশন সেই সংকট কমাতে পারবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।
সূত্র: আনন্দবাজার ডটকম, গুয়াংশি মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি গবেষণা প্রতিবেদন



