২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ জনের মৃত্যু; চলতি বছরে মোট আক্রান্ত ৫৬ হাজার ৯১৬, হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ৫২ হাজার ৫৭৯ জন
ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ৭৫৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা চলতি বছরে এক দিনে সর্বোচ্চ। একই সময়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্যের ভিত্তিতে এ হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিদিনের হাসপাতালে ভর্তির রেকর্ড ভাঙছে
নতুন ১ হাজার ৭৫৩ জনের হাসপাতালে ভর্তি আগের সর্বোচ্চ দৈনিক সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর এক দিনে ১ হাজার ৭৩৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
অর্থাৎ মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দৈনিক হাসপাতালে ভর্তির নতুন রেকর্ড হয়েছে। এতে হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর চাপ আরও বাড়ছে।
২৪ ঘণ্টায় ৭ মৃত্যু
নতুন সাতজন মৃত্যুর মধ্যে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগে একজন করে এবং খুলনা বিভাগে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
এ নিয়ে ২০২৬ সালে ডেঙ্গুতে সরকারি হিসাবে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭১।
মোট রোগী প্রায় ৫৭ হাজার
নতুন আক্রান্তদের যোগ করে চলতি বছরে দেশের মোট ডেঙ্গু সংক্রমণের সংখ্যা ৫৬ হাজার ৯১৬-তে পৌঁছেছে।
একই ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ১ হাজার ৬৩৮ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়া রোগীর মোট সংখ্যা ৫২ হাজার ৫৭৯।
তবে আক্রান্তের পাশাপাশি হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
মশা নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুত চিকিৎসাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ
ডেঙ্গুর বিস্তার কমাতে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের ওপর স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে আসছেন।
একই সঙ্গে জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা বা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে শরীরে পানিশূন্যতা ও রক্তের বিভিন্ন পরিবর্তন দ্রুত জটিলতা তৈরি করতে পারে।
বর্তমান পরিসংখ্যান বলছে, ডেঙ্গুর চাপ শুধু বাড়ছে না—হাসপাতালে রোগী ভর্তির দৈনিক হারও দ্রুত বেড়ে চলেছে। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহে রোগী সামলাতে হাসপাতালের প্রস্তুতি এবং মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের কার্যকারিতাই পরিস্থিতির গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।
তথ্যসূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (DGHS), The Business Standard, জাগো নিউজ ২৪, Reuters।




