Homeটুডে নেশনগ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে, সামনে ১৫০ কূপ ও নতুন এলএনজি টার্মিনালের পরিকল্পনা

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে, সামনে ১৫০ কূপ ও নতুন এলএনজি টার্মিনালের পরিকল্পনা

শিল্পে সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলায় নতুন গ্যাসকূপ খনন এবং এলএনজি আমদানি অবকাঠামো সম্প্রসারণে সরকারের পরিকল্পনা

ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টানা কয়েক সপ্তাহের সংকটের পর দেশের শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সংকট কমাতে ১৫০টি গ্যাসকূপ খনন এবং নতুন এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক গ্যাস ঘাটতির পেছনে দেশীয় উৎপাদনের সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি এলএনজি অবকাঠামোর সমস্যাও ভূমিকা রেখেছে।

শিল্পে চাপ কমানোর চেষ্টা

কয়েক দিন আগে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছিলেন, এলএনজি টার্মিনালের দুর্ঘটনাজনিত সমস্যা কাটিয়ে শিল্পকারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ আগের অবস্থার কাছাকাছি নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

এর পরদিন থেকেই সরবরাহ বাড়ার খবর পাওয়া যায়। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, গ্যাসের চাপ আগের তুলনায় বেড়েছে।

শিল্প মালিকদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গ্যাস সংকটে কারখানার উৎপাদন কমে যাওয়া, জেনারেটর চালাতে বাড়তি খরচ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ—সব মিলিয়ে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছিল।

শুধু আমদানি নয়, দেশীয় গ্যাস খোঁজার পরিকল্পনা

সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশে নতুন গ্যাস মজুত শনাক্ত ও উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সরকারি পক্ষ বলছে, দীর্ঘ সময় ধরে নতুন অনুসন্ধানে কাঙ্ক্ষিত গতি না থাকায় দেশীয় গ্যাসের ওপর চাপ বাড়েনি; বরং আমদানিনির্ভরতা বেড়েছে। নতুন কূপ খননের পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো সেই নির্ভরতা কিছুটা কমানো।

এলএনজি অবকাঠামোও বড় হচ্ছে

দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন এলএনজি টার্মিনাল যোগ করার পরিকল্পনাও রয়েছে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপে ভাসমান ও স্থলভিত্তিক টার্মিনালের মাধ্যমে আমদানি সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

এতে একদিকে শিল্পে সরবরাহ স্থিতিশীল করার সুযোগ তৈরি হতে পারে, অন্যদিকে বৈশ্বিক বাজারে এলএনজির দাম, জাহাজ পরিবহন খরচ এবং আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যয়ের বড় অংশ নির্ভর করবে।

সংকট পুরোপুরি কাটতে সময় লাগবে

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বহু বছরের জমে থাকা জ্বালানি খাতের সমস্যা অল্প সময়ে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। তাই স্বল্পমেয়াদে সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি অনুসন্ধান ও অবকাঠামো সম্প্রসারণ একসঙ্গে চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এখন শিল্প খাতের জন্য মূল প্রশ্ন হলো—সাম্প্রতিক উন্নতি কতটা স্থায়ী হয় এবং নতুন গ্যাসকূপ ও এলএনজি টার্মিনাল বাস্তবে কত দ্রুত উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত করা যায়।

তথ্যসূত্র: The Business Standard, প্রথম আলো, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম অনুসন্ধান ও উৎপাদন কোম্পানি (বাপেক্স), পেট্রোবাংলা।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments