স্টাফ রিপোর্টার | টুডে টিভি বিডি
বাংলাদেশের তরুণ গবেষকদের আরেকটি আন্তর্জাতিক সাফল্যে গর্বিত হলো দেশ। দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে অনুষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ World Invention Creativity Olympics (WICO) 2026-এ স্বাস্থ্যসেবা খাতে যুগান্তকারী উদ্ভাবনের জন্য স্বর্ণপদক অর্জন করেছে বাংলাদেশের Polynomial Institute-এর গবেষক দল Team SMRITIKOTHA (স্মৃতিকথা)।
ডিমেনশিয়া ও আলঝেইমার রোগীদের নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় এবং প্রযুক্তিনির্ভর পরিচর্যার লক্ষ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও স্মার্ট সেন্সরভিত্তিক একটি সমন্বিত কেয়ার সিস্টেম তৈরি করে দলটি আন্তর্জাতিক বিচারকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। একই প্রতিযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটির আরেকটি উদ্ভাবন রৌপ্য পদকও অর্জন করেছে।
আলঝেইমার রোগীদের জন্য কী তৈরি করেছে টিম ‘স্মৃতিকথা’?
গবেষকদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তিটি মূলত একটি সমন্বিত AI-ভিত্তিক স্মার্ট কেয়ার প্ল্যাটফর্ম। এতে রোগীর জন্য একটি স্মার্টওয়াচ (অথবা ঐতিহ্যবাহী চুড়ির নকশায় পরিধানযোগ্য ডিভাইস), একটি টেবিলটপ কন্ট্রোল ইউনিট এবং ঘরের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত স্মার্ট সেন্সর একসঙ্গে কাজ করে।
এর মাধ্যমে রোগীর শারীরিক অবস্থা, নিরাপত্তা এবং দৈনন্দিন চলাফেরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।
প্রযুক্তিটির প্রধান বৈশিষ্ট্য
উদ্ভাবিত সিস্টেমে রয়েছে—
- রোগীর হৃদস্পন্দন ও শারীরিক অবস্থার রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ।
- রোগী ঘর থেকে বেরিয়ে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে Wandering Prevention System।
- রোগী হঠাৎ পড়ে গেলে তাৎক্ষণিক Fall Detection এবং সতর্কবার্তা।
- বিভ্রান্তি বা আতঙ্কের মুহূর্তে পরিবারের সদস্যদের পূর্বে রেকর্ড করা পরিচিত কণ্ঠস্বর বাজিয়ে রোগীকে মানসিকভাবে শান্ত করার বিশেষ ব্যবস্থা।
- পরিচর্যাকারীদের জন্য দ্রুত নোটিফিকেশন ও পর্যবেক্ষণ সুবিধা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিমেনশিয়া রোগীদের ক্ষেত্রে এমন প্রযুক্তি পরিচর্যাকারীদের চাপ কমানোর পাশাপাশি রোগীর নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কেন এই উদ্ভাবন গুরুত্বপূর্ণ?
বিশ্বজুড়ে জনসংখ্যার বার্ধক্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। রোগের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে অনেক রোগী পথ হারিয়ে ফেলেন, পড়ে গিয়ে আহত হন বা পরিচিত মানুষকেও চিনতে পারেন না।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেন্সর প্রযুক্তি এবং রিমোট মনিটরিংভিত্তিক সমাধান ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
বাংলাদেশি তরুণদের এই উদ্ভাবন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কারা রয়েছেন টিম স্মৃতিকথায়?
স্বর্ণজয়ী গবেষক দলে ছিলেন—
- Abdullah Al Junaed
- Mumin Uz Zaman
- K M Jehad
- Egshiglen (Mongolia)
- Md Easin Arafat
- Radwan Hossain Reshad
বাংলাদেশের জন্য গর্বের অর্জন
স্বাস্থ্য প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উদ্ভাবনী গবেষণায় বাংলাদেশের তরুণদের অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রমেই বাড়ছে। WICO ২০২৬-এ Team SMRITIKOTHA-এর স্বর্ণপদক অর্জন শুধু একটি প্রতিযোগিতায় জয় নয়, বরং বাংলাদেশে স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি গবেষণার সম্ভাবনাকেও বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছে।
তবে উল্লেখ্য, এই প্রযুক্তিটি একটি উদ্ভাবনী গবেষণা ও প্রোটোটাইপ হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এটি বর্তমানে চিকিৎসা ব্যবস্থায় বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত কোনো অনুমোদিত মেডিকেল ডিভাইস নয়। ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত যাচাই, ক্লিনিক্যাল মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের পর বাস্তব স্বাস্থ্যসেবায় এর ব্যবহার নির্ধারিত হবে।
নিউজ সোর্স:
- Alzheimer Bangladesh (Official)
- Polynomial Institute
- World Invention Creativity Olympics (WICO) 2026 Official Information




