চিকিৎসা শিক্ষার প্রসার ও চিকিৎসক সংকট দূর করতে সরকারের নতুন পদক্ষেপ; আসন সংখ্যা পুনর্নির্ধারণের পর দেশে মোট মেডিকেল আসন ১১,৫২৬টি।
ঢাকা | ১৫ মে ২০২৬ দেশের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা শিক্ষার মানোন্নয়নে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল সরকার। উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে নতুন একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গত বুধবার (১৩ মে) এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনের বিস্তারিত
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে:
- প্রতিষ্ঠার অনুমোদন: ‘ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ’ নামে নতুন এই সরকারি প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করবে।
- কার্যকারিতা: রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- অবগতি: প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
দেশের মেডিকেল শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান চিত্র
নতুন এই কলেজটি অনুমোদনের ফলে বাংলাদেশে সরকারি মেডিকেল কলেজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮টি। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশের বর্তমান শিক্ষা চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
| প্রতিষ্ঠানের ধরণ | সংখ্যা | আসন সংখ্যা (প্রায়) |
| সরকারি মেডিকেল কলেজ | ৩৮টি (নতুনসহ) | ৫,১০০ |
| বেসরকারি মেডিকেল কলেজ | ৬৬টি | ৬,০০১ |
| সেনাবাহিনী পরিচালিত | ৬টি | ৩৭৫ |
| নৌবাহিনী পরিচালিত | ১টি (চট্টগ্রাম) | ৫০ |
| সর্বমোট | ১১১টি | ১১,৫২৬টি |
বিশেষ দ্রষ্টব্য: গত নভেম্বর মাসে আসন পুনর্বিন্যাসের পর সরকারি মেডিকেলে আসন সংখ্যা ৫,৩৮০ থেকে কমিয়ে ৫,১০০ এবং বেসরকারিতে ৬,২৯৩ থেকে কমিয়ে ৬,০০১-এ আনা হয়েছে।
সেনা ও নৌবাহিনী পরিচালিত মেডিকেল কলেজসমূহ
স্বাস্থ্য শিক্ষার প্রসারে সশস্ত্র বাহিনীর অবদানও ক্রমবর্ধমান:
- বিইউপি-র অধীনে (৫টি): বগুড়া, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, যশোর ও রংপুরে একটি করে মেডিকেল কলেজ (প্রতিটিতে ৫০টি আসন)।
- এএফএমসি (ঢাকা): সশস্ত্র বাহিনী চিকিৎসা শাখার অধীনে ১২৫টি আসন।
- নৌবাহিনী মেডিকেল (চট্টগ্রাম): নতুনভাবে চালু হওয়া এই কলেজে আসন সংখ্যা ৫০টি।
🔎 বিশ্লেষণ: ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। এটি কেবল ঠাকুরগাঁও নয়, বরং পঞ্চগড় ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর সাধারণ মানুষের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে। একইসাথে এটি দেশের ক্রমবর্ধমান চিকিৎসক সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
তথ্যসূত্র: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর



