সম্প্রতি নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এনইউবি) প্রাঙ্গণে ড্রিমস অব বাংলাদেশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ৮ম বিশ্ব উদ্ভাবন প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনীর (ডব্লিউআইসিই) বাংলাদেশ জাতীয় পর্ব। ৯ মে দিনভর চলা এই প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আসা প্রায় ১৬০০ তরুণ উদ্ভাবক অংশ নেন। মূলত ১৭০টিরও বেশি গবেষণা ও উদ্ভাবনী দলের অংশগ্রহণে ক্যাম্পাসটি হয়ে উঠেছিল প্রযুক্তিনির্ভর সৃজনশীলতার এক মিলনমেলা।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে উপস্থিত ছিলেন এনইউবির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য লাবিবা আবদুল্লাহ। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি ও তরুণদের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি এক যুগান্তকারী দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির যে জয়জয়কার চলছে, সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদ্ভাবনই হবে আগামী দিনের চালিকাশক্তি। লাবিবা আবদুল্লাহ তার বক্তব্যে বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলেন যে, বাংলাদেশকে এখন স্রেফ ‘সস্তা শ্রমের দেশ’ হিসেবে পরিচিত হওয়ার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমাদের তরুণ প্রজন্মের যে মেধা এবং নতুন পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে, তা সত্যিই অসাধারণ। তাদের সঠিক কর্মক্ষেত্র ও সুযোগ দিতে পারলে বাংলাদেশ খুব দ্রুতই একটি বৈশ্বিক উদ্ভাবন কেন্দ্র হিসেবে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি মনে করেন, শ্রম-নির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞান ও প্রযুক্তি-নির্ভর সমাজে রূপান্তরের এই যাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মূল ভূমিকা পালন করতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু ডিগ্রি নেবে না বরং একেকজন উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবক হিসেবে গড়ে উঠবে।

অনুষ্ঠানে এনইউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য কম্পিউটার বিজ্ঞানী ড. এম. কায়কোবাদ। অনুষ্ঠানে এনইউবিটি সদস্য সাদ আল জাবির আবদুল্লাহও তার বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে একটি উদ্ভাবন ও নতুন উদ্যোগ-চালিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সব মিলিয়ে এই আয়োজনটি ছিল বাংলাদেশের তরুণদের মেধাকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করার এক সাহসী পদক্ষেপ।



