Homeটুডে বাংলামহেশখালীতে এলএনজি খালাস শুরু, গ্যাস সরবরাহে কিছুটা স্বস্তি

মহেশখালীতে এলএনজি খালাস শুরু, গ্যাস সরবরাহে কিছুটা স্বস্তি

খারাপ আবহাওয়ায় একদিনে সরবরাহ ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমেছিল; শুক্রবার দুপুরে সরবরাহ বেড়ে ২ হাজার ৫২৫ মিলিয়ন ঘনফুট
সমুদ্রে খারাপ আবহাওয়ার কারণে একদিন বন্ধ থাকার পর কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি খালাস আবার শুরু হয়েছে। শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল থেকেই এলএনজি স্থানান্তর শুরু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহও বাড়তে থাকে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর ২টায় মোট গ্যাস সরবরাহ বেড়ে ২ হাজার ৫২৫ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছেছে। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস ১ হাজার ৬০৭ এবং পুনরায় গ্যাসে রূপান্তরিত এলএনজি বা আরএলএনজি ৯১৮ মিলিয়ন ঘনফুট।
এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সমুদ্রে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এলএনজি স্থানান্তর বন্ধ হয়ে যায়। বুধবার জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ছিল প্রায় ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ঘনফুট, যা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নেমে যায় প্রায় ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ঘনফুটে। অর্থাৎ একদিনে সরবরাহ কমে যায় প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

চাহিদার সঙ্গে এখনো বড় ব্যবধান

বাংলাদেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ঘনফুট। দীর্ঘ সময় ধরে সরবরাহ ছিল ২ দশমিক ৬৫ থেকে ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ঘনফুটের মধ্যে। শুক্রবার সকাল ১০টায় সরবরাহ বেড়ে ২ হাজার ৩৪১ মিলিয়ন ঘনফুট হয়েছিল। দুপুরে তা আরও বেড়ে ২ হাজার ৫২৫ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছে।
অর্থাৎ এলএনজি খালাস স্বাভাবিক হওয়ায় সাময়িক স্বস্তি এলেও চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে এখনো বড় ব্যবধান রয়েছে। শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সার কারখানা ও আবাসিক গ্রাহকদের ওপর এর প্রভাব নির্ভর করছে কোন খাতে কতটা গ্যাস দেওয়া হচ্ছে তার ওপর।

আবহাওয়ার কারণে কেন এমন সমস্যা

মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালে সমুদ্র থেকে বড় জাহাজে করে আনা এলএনজি খালাস করে তা গ্যাসে রূপান্তর করা হয়। সমুদ্রের আবহাওয়া খারাপ হলে জাহাজ থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তরের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। বৃহস্পতিবারের সমস্যাটিও ছিল এ ধরনের অপারেশনাল বিঘ্ন।
বাংলাদেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় আমদানি করা এলএনজির গুরুত্ব গত কয়েক বছরে বেড়েছে। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন ও সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম হওয়ায় শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে এলএনজি-নির্ভরতা বাড়ছে।

শিল্পে কী প্রভাব

গ্যাসের চাপ কমে গেলে গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্ষেত্রেও পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকলে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হয়, এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে।
বর্তমানে সরবরাহ পুনরুদ্ধার হলেও দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় এলএনজির পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস উৎপাদন, আমদানি ব্যয় এবং টার্মিনালের সক্ষমতা—সবগুলো বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পেট্রোবাংলার পরবর্তী সরবরাহ তথ্যেই বোঝা যাবে, শুক্রবারের উন্নতি কতটা স্থায়ী হয়।

তথ্যসূত্র: পেট্রোবাংলা; দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড; প্রথম আলো।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments