সেলুন কর্মী, কামার, লোকজ শিল্পী, বাঁশ-বেত ও নকশিকাঁথা শিল্পের ৩০ জন অংশ নিচ্ছেন
মতলব উত্তর (চাঁদপুর) | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬: চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় প্রান্তিক পেশাজীবীদের দক্ষতা ও কাজের সক্ষমতা বাড়াতে ১০ দিনব্যাপী ‘সফটস্কিলস’ প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। ‘বাংলাদেশ প্রান্তিক পেশাজীবী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন—দ্বিতীয় পর্যায়’ প্রকল্পের আওতায় উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর উপজেলা পরিষদ হলরুমে এই প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়।
পাঁচ ধরনের পেশার মানুষ প্রশিক্ষণে
প্রথম ব্যাচে মোট ৩০ জন প্রান্তিক পেশাজীবী প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে ১৪ জন সেলুন বা নরসুন্দর পেশার সঙ্গে যুক্ত, সাতজন কামার, চারজন লোকজ শিল্পী, তিনজন বাঁশ-বেত শিল্পী এবং দুজন নকশিকাঁথা শিল্পী। পেশাভিত্তিক এই অংশগ্রহণের মাধ্যমে পুরোনো ও স্থানীয় পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের আরও দক্ষ করে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণে শুধু নিজ নিজ কাজের কৌশল নয়, কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নানা সাধারণ দক্ষতার বিষয়েও আলোচনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে যোগাযোগ দক্ষতা, আচরণ, গ্রাহকসেবা, পেশাগত শিষ্টাচার, আত্মবিশ্বাস, সময় ব্যবস্থাপনা, দায়িত্বশীলতা ও সমস্যা সমাধানের মতো বিষয় রয়েছে।
পুরোনো পেশাকে নতুন বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্য
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, দেশের ঐতিহ্যবাহী ও পুরোনো শিল্পকর্ম টিকিয়ে রাখতে হলে সময়ের সঙ্গে মিল রেখে সেগুলোকে আধুনিকভাবে তৈরি করতে হবে। নতুন চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষতা বাড়ানো গেলে এসব পেশা ধরে রাখার পাশাপাশি আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রকল্পের লক্ষ্যও এ ধরনের প্রান্তিক পেশাজীবীদের দক্ষতা ও আয় বাড়ানো, তাদের তৈরি পণ্যের ব্যবহার ও বাজারজাতকরণে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা করা। প্রকল্পের কেন্দ্রীয় পরিকল্পনায় প্রশিক্ষণ শেষে নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীদের পেশা টেকসই করা ও উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে। মতলব উত্তরের এই প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া পেশাজীবীদের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে প্রশিক্ষণে পাওয়া জ্ঞান বাস্তবে কাজে লাগানো। বিশেষ করে স্থানীয় বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য বা সেবা উন্নত করা গেলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এসব পেশার সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলোর আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তথ্যসূত্র: দৈনিক চাঁদপুর খবর, দৈনিক ইনকিলাব, সমাজসেবা অধিদপ্তর।




