১৩ প্যাকেজের পাঁচটির অগ্রগতি এখনো অসন্তোষজনক, জমি অধিগ্রহণ হয়েছে ৫৬ শতাংশ
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ শেষ করে ২০২৯ সালের জুনে সড়কটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের শশই এলাকায় প্রকল্পের অগ্রগতি পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি কয়েক বছর আগে নেওয়া হলেও বাস্তবায়নের গতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন ছিল। মন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রকল্পের ১৩টি প্যাকেজের মধ্যে আটটির অগ্রগতি সন্তোষজনক। তবে পাঁচটি প্যাকেজে কাজ এখনো প্রত্যাশামতো এগোয়নি। এসব অংশে নির্মাণকাজ দ্রুত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জমি অধিগ্রহণে অগ্রগতি
প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘদিনের বড় বাধা ছিল জমি অধিগ্রহণ। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে জমি অধিগ্রহণের কাজ এগিয়ে বর্তমানে প্রায় ৫৬ শতাংশে পৌঁছেছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে বাকি প্রক্রিয়া শেষ করার আশা করছে সরকার।
এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর সংসদে দেওয়া তথ্যে মন্ত্রী বলেছিলেন, আগের সাড়ে চার বছরে জমি অধিগ্রহণ হয়েছিল মাত্র ১৮ শতাংশ। গত ছয় মাসে সেটি ৬৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে বলে তখন সংসদে জানিয়েছিলেন তিনি। তবে ১৯ সেপ্টেম্বর মাঠপর্যায়ের পরিদর্শনের সময় মন্ত্রণালয়ের দেওয়া হিসাব ৫৬ শতাংশ। অর্থাৎ সময় ও হিসাবের পদ্ধতির ভিন্নতার কারণে দুই সংখ্যার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সর্বশেষ মাঠপর্যায়ের বক্তব্যে ৫৬ শতাংশের কথাই বলা হয়েছে।
২০২৬ সালের শেষ হওয়ার কথা ছিল
প্রকল্পের সরকারি নথি অনুযায়ী, সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডর প্রকল্পের মূল অনুমোদিত বাস্তবায়নকাল ছিল ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির মোট ব্যয় প্রায় ১৬ হাজার ৯১৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। প্রকল্পে প্রায় ২০৯ দশমিক ৩২৮ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নসহ ৬৬টি সেতু, ১৩টি ফ্লাইওভার বা রেলওয়ে ওভারপাস, ২৬টি ফুটওভারব্রিজ এবং ৩০৫টি বক্স কালভার্টের কাজ রয়েছে।
জুলাইয়ে প্রকাশিত বাস্তবায়ন পরিস্থিতির এক পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রকল্পের সময়সীমার বড় অংশ পার হয়ে গেলেও ভৌত অগ্রগতি ছিল সীমিত। জমি অধিগ্রহণ, ইউটিলিটি স্থানান্তর, নকশা পরিবর্তন, ঠিকাদারি ব্যবস্থাপনা এবং টেন্ডার অনুমোদনে বিলম্বের মতো বিষয়গুলো কাজ ধীর করে দেয়।
যাত্রীদের দুর্ভোগের কথাও স্বীকার
মহাসড়কটির বিভিন্ন অংশে একসঙ্গে নির্মাণকাজ চলায় যাত্রীদের দুর্ভোগ হচ্ছে। মন্ত্রীও সাংবাদিকদের কাছে এই সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়নে গত কয়েক বছরের ধীরগতির কারণেই বর্তমান নির্মাণপর্বে সড়ক ব্যবহারকারীদের ওপর চাপ বাড়ছে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দেশের পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর অন্যতম প্রধান যোগাযোগপথ। এই করিডর দিয়ে পণ্য পরিবহন ও যাত্রী চলাচল হয়। সড়কটির উন্নয়ন শেষ হলে ভ্রমণের সময় কমানো, দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো এবং পণ্য পরিবহন আরও সহজ করার সুযোগ তৈরি হবে বলে প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। প্রকল্পের নকশা ও অবকাঠামোর মধ্যে সড়ক নিরাপত্তার বিষয়ও রাখা হয়েছে।
এখন প্রকল্পটির সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হলো বাকি জমি অধিগ্রহণ, ধীরগতির পাঁচ প্যাকেজে কাজ বাড়ানো এবং নির্মাণকাজের সঙ্গে যান চলাচল ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখা। ২০২৯ সালের জুনের লক্ষ্য পূরণ করতে হলে এসব কাজ সময়মতো শেষ করাই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
তথ্যসূত্র: সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, প্রথম আলো, দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস।




