Homeটুডে বাংলাকুমিল্লা জেলা পরিষদের তহবিল নিয়ে বিতর্ক: আসিফ মাহমুদ ও হাসনাতের বিরুদ্ধে অর্থ...

কুমিল্লা জেলা পরিষদের তহবিল নিয়ে বিতর্ক: আসিফ মাহমুদ ও হাসনাতের বিরুদ্ধে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ, পাল্টা ব্যাখ্যা

জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অভিযোগ তুললেন জেলা পরিষদ প্রশাসক মোস্তাক মিয়া; অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দের ব্যাখ্যা দিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ

কুমিল্লা | ৩০ মে ২০২৬

কুমিল্লা জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া অভিযোগ করেছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে জেলা পরিষদ থেকে ১৫ কোটি টাকা নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন।

শনিবার দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মসূচির আয়োজন করে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও মহানগর বিএনপি।

মোস্তাক মিয়া বলেন, জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব তহবিল থেকে এই অর্থ নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বৈষম্যবিরোধী রাজনীতির কথা বললেও বাস্তবে সেই নীতির প্রতিফলন দেখা যায়নি।

অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কাজ করছে।

অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে যোগাযোগ

অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে অনুষ্ঠান শেষে মোস্তাক মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী জানান, তিনি অন্য একটি কর্মসূচিতে ব্যস্ত রয়েছেন। এ বিষয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানানো হয়।

হাসনাত আবদুল্লাহর পাল্টা বক্তব্য

জেলা পরিষদ প্রশাসকের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগের ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক যে অর্থের কথা বলেছেন, তা কোনো ব্যক্তিকে দেওয়া হয়নি; সংশ্লিষ্ট উপজেলার উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

হাসনাত আবদুল্লাহর ভাষ্য, দেবীদ্বার উপজেলার জন্য যে অর্থ বরাদ্দ হয়েছে, তার খাতভিত্তিক তথ্য জেলা প্রশাসনের কাছে রয়েছে এবং কোথায় কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তার হিসাবও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত আছে।

তিনি বলেন, “উপজেলার উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন হলে আমি মানুষের স্বার্থে যেকোনো জায়গায় সহযোগিতা চাইতে প্রস্তুত। কিন্তু এই অর্থ ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করা হয়নি।”

সংসদ সদস্য আরও দাবি করেন, আলোচিত অর্থ স্থানীয় সরকার বিভাগের বিশেষ বরাদ্দের অংশ, যা জেলা পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে। তাঁর মতে, দেবীদ্বার উপজেলার জন্য ৫ কোটি টাকা এডিপি প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল এবং এর সঙ্গে জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিলের কোনো সম্পর্ক নেই।

জেলা পরিষদ প্রশাসকের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বক্তব্যটি এমন ধারণা তৈরি করেছে যেন অর্থ ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করা হয়েছে, অথচ প্রকৃতপক্ষে তা উন্নয়নমূলক কাজের জন্য বরাদ্দ ছিল।


🔍 ফ্যাক্ট চেক

✅ যা নিশ্চিত

  • কুমিল্লায় বিএনপির আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদ প্রশাসক মোস্তাক মিয়া এ অভিযোগ করেছেন।
  • হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগের জবাবে প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দের ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
  • উভয় পক্ষের বক্তব্য প্রকাশ্যে এসেছে।

⚠ যা দাবি করা হচ্ছে

  • আসিফ মাহমুদ ১৫ কোটি টাকা এবং হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা জেলা পরিষদ থেকে নিয়েছেন—এ দাবি করেছেন মোস্তাক মিয়া।
  • অর্থটি জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে নেওয়া হয়েছে—এ দাবিও তাঁর।

❓ যা এখনো নিশ্চিত নয়

  • অভিযোগে উল্লিখিত অর্থের উৎস, অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং ব্যয়ের প্রকৃতি সম্পর্কে স্বাধীন যাচাই।
  • সংশ্লিষ্ট নথি বা সরকারি ব্যাখ্যার মাধ্যমে অভিযোগের পূর্ণ সত্যতা।

✅ যা জানা গেছে

  • অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য প্রকাশ্যে এসেছে।
  • অর্থ বরাদ্দ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট ভিন্নতা রয়েছে।

❓ যা জানা যায়নি

  • সংশ্লিষ্ট অর্থ বরাদ্দের পূর্ণ প্রশাসনিক নথি।
  • আসিফ মাহমুদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া।

🔍 যা তদন্তাধীন

  • অর্থ বরাদ্দের উৎস, খাত ও ব্যয়ের প্রকৃত অবস্থা।

⏭ এরপর কী

  • জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এ বিতর্কের বিষয়ে আরও স্পষ্টতা দিতে পারে।

📌 তথ্যসূত্র:
প্রকাশ্য বক্তব্য, কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসকের বক্তব্য, হাসনাত আবদুল্লাহর প্রতিক্রিয়া, স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular