স্ত্রী, শ্যালক ও ৩ সন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যার পর পদ্মা সেতু থেকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন ফোরকান; সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল উদ্ধারের পর মিলল মরদেহ।
মুন্সীগঞ্জ | ১৬ মে ২০২৬
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালকসহ একই পরিবারের পাঁচ জনকে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত গৃহকর্তা মো. ফোরকান মোল্লার (৪০) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শনিবার (১৬ মে) বিকেল ৪টার দিকে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার ঘোড়দৌড় বাজার সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে তাঁর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে মাওয়া নৌপুলিশ।
মরদেহ উদ্ধার ও প্রাথমিক শনাক্তকরণ
মাওয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ ইলিয়াস জানান, শনিবার দুপুরে পদ্মা নদীতে কচুরিপানার সঙ্গে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে অর্ধগলিত ও বীভৎস অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে।
- স্বজনদের শনাক্তকরণ: কাপাসিয়া থানা পুলিশ ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা নিহতের পরিবারকে খবর দিলে ফোরকানের ভাই জব্বার মরদেহের পোশাক ও শারীরিক গঠন দেখে এটি ফোরকানেরই মরদেহ বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেন।
- পরবর্তী পদক্ষেপ: লাশটি দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় বিকৃত হয়ে গেছে। তাই পুরোপুরি নিশ্চিত হতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট অথবা ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ। বর্তমানে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
হত্যাকাণ্ড থেকে পদ্মা সেতুতে ঝাঁপ: ঘটনার বিবরণ
গত শনিবার (৯ মে) সকালে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামের একটি বহুতল বাড়ি থেকে একই পরিবারের পাঁচ জনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন—ফোরকানের স্ত্রী শারমিন (৩৫), তাঁদের তিন সন্তান মিম (১৬), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক মো. রসুল মোল্লা (২২)। ঘটনার পর থেকেই ফোরকান পলাতক ছিলেন।
গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন ঘটনার তদন্ত ও ফোরকানের আত্মহত্যার বিবরণ দিয়ে জানান:
- মোবাইল উদ্ধার: গত সোমবার (১১ মে) মেহেরপুর থেকে ফোরকানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে পুলিশ। একজন ট্রাক হেলপার জানান, তিনি ১১ মে ভোর ৬টা ৫০ মিনিটে পদ্মা সেতুর মাঝামাঝি স্থানে রেলিংয়ের পাশে ফোনটি পড়ে থাকতে দেখে তুলে নিয়েছিলেন।
- সিসিটিভি ফুটেজ: পুলিশ পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখতে পায়, ১১ মে ভোর ৬টা ৪২ মিনিটে একটি সাদা প্রাইভেটকার থেকে সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরিহিত এক ব্যক্তি নামেন। তিনি রেলিংয়ের পাশে মোবাইল ও ব্যাগ রেখে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করার পর ভোর ৬টা ৪৫ মিনিটে রেলিং টপকে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দেন।
- আত্মহত্যা: তদন্তে ও সিসিটিভি ফুটেজের ওই ব্যক্তি ফোরকান মোল্লাই ছিলেন বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ। পাঁচ জনকে নৃশংসভাবে হত্যার পর তীব্র অপরাধবোধ বা আইন থেকে বাঁচতে তিনি পূর্বপরিকল্পিতভাবে পদ্মা সেতু থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
মামলার বর্তমান পরিস্থিতি
হত্যাকাণ্ডের পর নিহত শারমিনের বাবা মো. শাহাদাত মোল্লা বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। প্রধান অভিযুক্তের মরদেহ উদ্ধারের পর এখন ডিএনএ টেস্টের রিপোর্টের অপেক্ষা করছে পুলিশ। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কারও ইন্ধন বা সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে কাপাসিয়া থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (DB) যৌথভাবে কাজ করছে।



