উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা; ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ হয়ে অচল ক্যাম্পাস
নিজস্ব প্রতিবেদক | বরিশাল | ১১ মে, ২০২৬
শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে স্থবির হয়ে পড়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)। আজ সোমবার সকাল থেকে আন্দোলনরত শিক্ষকেরা প্রশাসনিক ভবনের বিভিন্ন দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এর আগে গতকাল রবিবার উপাচার্য মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন আন্দোলনরত শিক্ষকেরা।
দপ্তরে তালা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বের করে প্রদান
সকাল থেকেই শিক্ষকেরা প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় অবস্থান নেন। দুপুরের দিকে তাঁরা একে একে বিভিন্ন দপ্তর থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বের করে দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ দপ্তরসহ গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলো বন্ধ থাকায় প্রশাসনিক কাজ পুরোপুরি থমকে গেছে। অর্থ দপ্তরের প্রধান সুব্রত কুমার বাহাদুর জানান, শিক্ষকদের অনুরোধে তাঁরা দপ্তর ছেড়ে উপাচার্যের কার্যালয়ের দিকে গিয়েছেন। বর্তমানে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে অলস সময় পার করছেন।
কেন এই আন্দোলন?
আন্দোলনরত শিক্ষকদের দাবি, গত ছয় মাস ধরে ৬০ জন শিক্ষকের পদোন্নতি বোর্ড গঠন করা হলেও উপাচার্য ইচ্ছাকৃতভাবে সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি তুলছেন না।
- সমঝোতা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ: গত ৩০ এপ্রিল বিভাগীয় কমিশনারের উপস্থিতিতে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে পদোন্নতির বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
- সিন্ডিকেট সভার ব্যর্থতা: মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল কাইউম জানান, ৮ মে অনুষ্ঠিত ৯৪তম সিন্ডিকেট সভায় সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও উপাচার্য অধিকাংশ সদস্যের মতামত অগ্রাহ্য করে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখেন।
- পদত্যাগ: আন্দোলনের সমর্থনে ইতিমধ্যে প্রক্টরসহ তিনজন শিক্ষক তাঁদের প্রশাসনিক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
“উপাচার্যকে আমরা অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি। তাঁর কোনো প্রশাসনিক কাজে আমরা সহযোগিতা করব না। পদোন্নতির ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই শাটডাউন চলবে।”
— ধীমান কুমার রায়, চেয়ারম্যান, ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগ।
🔎 বিশ্লেষণ: সেশন জট ও আইনি জটিলতার শঙ্কা
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অস্থিরতার ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের কারণে ক্লাস-পরীক্ষা নিয়মিত হচ্ছে না। যদিও শিক্ষকেরা সেশন জট পুষিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন, তবে বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন।
অন্যদিকে, উপাচার্য তৌফিক আলম এই কর্মসূচিকে ‘আইনবিরোধী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন:
“আপনারা নিজেরা কর্মবিরতি করতে পারেন, কিন্তু অন্যের কাজে বাধা দেওয়া সরাসরি আইনবিরুদ্ধ। এই ধরনের কাজ থেকে বিরত না থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
📊 আন্দোলনের ঘটনাক্রম ২০২৬
| তারিখ | কর্মসূচি / ঘটনা |
| ২১ এপ্রিল | পদোন্নতির দাবিতে প্রথম আন্দোলন শুরু। |
| ২৮ এপ্রিল | সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা। |
| ৩০ এপ্রিল | ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে সমঝোতা; শিক্ষকেরা পাঠদানে ফেরেন। |
| ৮ মে | সিন্ডিকেট সভায় সমাধান না হওয়ায় নতুন ক্ষোভ। |
| ১০ মে | উপাচার্যকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা ও শাটডাউনের ডাক। |
| ১১ মে | প্রশাসনিক ভবনে তালা ও সর্বাত্মক শাটডাউন শুরু। |
উপসংহার
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সংকট এখন চরম আকার ধারণ করেছে। একদিকে শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকারের দাবি, অন্যদিকে উপাচার্যের কঠোর অবস্থান—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত কোনো সম্মানজনক সমাধান না হলে বিশ্ববিদ্যালয়টি দীর্ঘমেয়াদী সেশন জটের কবলে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল ও বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ দপ্তর (১১ মে, ২০২৬)।



