Homeশোবিজ টুডেবারবার সতর্কতার পরও ফেসবুক পোস্ট, এবার বিটিভির পলাশ কুমার সাউকে কারণ দর্শানোর...

বারবার সতর্কতার পরও ফেসবুক পোস্ট, এবার বিটিভির পলাশ কুমার সাউকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

বিটিভির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে অশালীন ও মানহানিকর মন্তব্যের অভিযোগ; সাত কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ

বিটিভি, ঢাকা | শোবিজ টুডে ডেস্ক

বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) বিশেষ শ্রেণির শিল্পী পলাশ কুমার সাউকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্যের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে জারি করা নোটিশে বলা হয়েছে, পলাশ কুমার সাউ বিভিন্ন সময়ে তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিটিভির কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়ে অভিযোগ, কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর বক্তব্যসংবলিত পোস্ট করেছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য তাঁকে এর আগেও সতর্ক করা হয়েছিল।

তবে সতর্ক করার পরও একই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকার অভিযোগ ওঠায় এবার তাঁর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

আগের সতর্কতার পরও কেন ফের নোটিশ

নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, পলাশ কুমার সাউয়ের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও মন্তব্য কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। এসব পোস্টে বিটিভির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে অশালীন ও আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন পোস্ট পাঠানো বা শেয়ার করার বিষয়ও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে সতর্ক করার পরও একই ধরনের আচরণ অব্যাহত থাকায় বিষয়টি এবার প্রশাসনিক পর্যায়ে গড়িয়েছে।

কী বলা হয়েছে নোটিশে

৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জারি করা কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়েছে, পলাশ কুমার সাউয়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অসত্য, অশালীন, মানহানিকর ও প্ররোচনামূলক বক্তব্য প্রকাশের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এসব কর্মকাণ্ডকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিবেশ ও শৃঙ্খলার জন্য আপত্তিকর হিসেবে উল্লেখ করে জানতে চাওয়া হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে কেন বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

সাত কার্যদিবসের মধ্যে জবাব

নোটিশ পাওয়ার পর সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে পলাশ কুমার সাউকে।

তাঁর জবাব পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। তবে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি হওয়া মানেই কোনো অভিযোগ চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়; এটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য জানার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া।

মানহানি হলে কী শাস্তি হতে পারে?

বাংলাদেশের দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪৯৯ ধারায় মানহানির সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ৫০০ ধারায় দুই বছর পর্যন্ত সাধারণ কারাদণ্ড, অথবা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের ক্ষেত্রেও আইনি ঝুঁকি

বর্তমান সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ২৬ ধারা ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক ঘৃণা কিংবা জাতিগত বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে, যদি সেই বক্তব্য সহিংসতা সৃষ্টি, উদ্বেগ তৈরি, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নির্দেশনা দেয়। এমন অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

এখন নজর পলাশ কুমার সাউয়ের জবাবের দিকে

কারণ দর্শানোর নোটিশের পর এখন পলাশ কুমার সাউ কী ব্যাখ্যা দেন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর পোস্ট ও মন্তব্যের প্রেক্ষাপট এবং আগের সতর্কতার পরও একই ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকার অভিযোগের বিষয়ে তিনি কী বলেন, তা তাঁর লিখিত জবাবেই স্পষ্ট হবে।

এরপর কর্তৃপক্ষ তাঁর ব্যাখ্যা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

তথ্যসূত্র: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের জারি করা কারণ দর্শানোর নোটিশ; দণ্ডবিধি, ১৮৬০।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments