Homeনাগরিক দর্পণ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ শুধু একটি ট্রেন নয়, মানবজীবনের প্রতিচ্ছবি: এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ

‘বনলতা এক্সপ্রেস’ শুধু একটি ট্রেন নয়, মানবজীবনের প্রতিচ্ছবি: এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ

বাংলাদেশি চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, সিনেমাটি তার কাছে শুধু একটি ট্রেনযাত্রার গল্প নয়; বরং জন্ম, মৃত্যু, বেদনা, আশা ও মানবজীবনের রূপান্তরের এক গভীর রূপক।

ঢাকা | ২ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের আলোচিত চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দীর্ঘ এক পর্যালোচনা প্রকাশ করেছেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। সেখানে তিনি চলচ্চিত্রটিকে “জীবন্ত দুঃখের এক বাহন” হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, সিনেমার প্রতিটি চরিত্র যেন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামের প্রতীক।

নিজের ফেসবুক পোস্টে হাসনাত লেখেন, “মামুলি বিষয়কে বড় করে তোলাই তো মানুষের কাজ।” এই বক্তব্যের সূত্র ধরে তিনি উল্লেখ করেন, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ও ঠিক সেই কাজটিই করেছে—ছোট ছোট ব্যক্তিগত গল্পের মধ্য দিয়ে বৃহত্তর মানবজীবনের বেদনা ও বাস্তবতাকে তুলে ধরেছে।

চরিত্রগুলোর ভেতরে সাধারণ মানুষের প্রতিচ্ছবি

পোস্টে বিশেষভাবে উঠে এসেছে চলচ্চিত্রের চরিত্র ডাক্তার আশাব। হাসনাতের মতে, আশাব কেবল একটি সিনেমার চরিত্র নয়; বরং বাংলাদেশের সেই অসংখ্য তরুণের প্রতীক, যাদের জীবনে শৈশবের ট্রমা, অপূর্ণতা ও আত্মসংকট একসঙ্গে বাস করে।

তিনি লিখেছেন, “না পারলাম ভালো মানুষ হইতে, না পারলাম ভালো ডাক্তার হইতে”—এই সংলাপের মধ্য দিয়ে আশাব যেন সমগ্র প্রজন্মের না-পারা আর না-হওয়ার বেদনা বহন করছে।

তার ভাষায়, অনেক মানুষই বাস্তবে ‘অনর্থক কিছু ম্যাজিকের কার্ড’ আর ‘ফেইক হাসি’ নিয়ে জীবনযাপন করে; বাহ্যিক স্বাভাবিকতার আড়ালে লুকিয়ে থাকে অগণিত অপ্রকাশিত কষ্ট।

মৃত্যু ও জীবনের সমান্তরাল যাত্রা

হাসনাত আবদুল্লাহর বিশ্লেষণে চলচ্চিত্রটির অন্যতম শক্তিশালী দিক হলো জীবন ও মৃত্যুর সমান্তরাল উপস্থিতি।

তিনি উল্লেখ করেন, একই ট্রেনে একদিকে একজন তরুণের কফিন বহন করা হচ্ছে, অন্যদিকে এক তরুণী নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করছে। তার মতে, এই দৃশ্য মানবজীবনের চিরন্তন সত্যকে ধারণ করে—একজন বিদায়ের পথে, আরেকজন আগমনের পথে।

“শেষ আর শুরুকে একই রেখায় বেঁধে দিয়েছে বনলতা এক্সপ্রেস,”—লেখেন তিনি।

‘ম্যাথ আমাদের কারও হাতেই থাকে না’

চলচ্চিত্রের আরেকটি দৃশ্যের প্রসঙ্গ টেনে হাসনাত বলেন, গণিতের অধ্যাপকের কান্না এবং তার উচ্চারণ—“ম্যাথ আমার হাতে নাই”—আসলে মানুষের সীমাবদ্ধতার এক গভীর প্রতীক।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ম্যাথ কি আসলে আমাদের কারও হাতেই থাকে?” এবং সেখান থেকে জীবন, নিয়তি ও সৃষ্টিকর্তার পরিকল্পনা নিয়ে দার্শনিক ব্যাখ্যার দিকে এগিয়ে যান।

জন্মের আজান থেকে মৃত্যুর জানাজা

পোস্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়ে রয়েছে জীবন ও মৃত্যুর ধর্মীয় ও মানবিক ব্যাখ্যা।

হাসনাত লিখেছেন, “জানাজার নামাজের কোনো আজান হয় না। কারণ জন্মের সময়ই আমাদের কানে আজান দিয়ে দেওয়া হয়। জন্মের সময় আজান আর মৃত্যুর সময় তার নামাজ। এর মাঝখানের সময়টুকুই আমাদের জীবন।”

তার মতে, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এই জীবনচক্রকেই নানা চরিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরেছে।

রূপান্তরের গল্প হিসেবে বনলতা এক্সপ্রেস

চলচ্চিত্রটির সামগ্রিক মূল্যায়নে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এটি মূলত রূপান্তরের গল্প। এখানে মানুষ হারায়, আবার খুঁজে পায়; ভেঙে পড়ে, আবার উঠে দাঁড়ায়।

তার ভাষায়, “এই ট্রেন মানবজীবনেরই মতো, যেখানে স্থবিরতা নয়, কেবল রূপান্তরই চূড়ান্ত সত্য।”

তিনি আরও বলেন, মানুষ অশ্রুকে অভিজ্ঞতায়, সংগ্রামকে সাফল্যে, দুঃখকে মহাকাব্যে এবং সম্ভাবনাকে ইতিহাসে পরিণত করে। আর সেই চলমান যাত্রার প্রতীকই ‘বনলতা এক্সপ্রেস’।

সাংস্কৃতিক প্রতিক্রিয়ার তাৎপর্য

চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা মনে করেন, জনপ্রতিনিধিদের এমন সাংস্কৃতিক প্রতিক্রিয়া চলচ্চিত্রকে নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে যখন কোনো সিনেমাকে শুধুমাত্র বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং সমাজ, মানবমন ও জীবনের দার্শনিক বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হয়।

হাসনাত আবদুল্লাহর এই পোস্টও ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-কে ঘিরে নতুন করে দর্শক ও সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মূল বক্তব্য সংক্ষেপে

📌 ‘বনলতা এক্সপ্রেস’কে মানবজীবনের রূপক হিসেবে দেখছেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

📌 চলচ্চিত্রের চরিত্রগুলোকে তিনি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

📌 জীবন-মৃত্যু, আশা-নিরাশা ও নিয়তির প্রশ্নকে চলচ্চিত্রটির কেন্দ্রীয় শক্তি বলে মনে করেন তিনি।

📌 তার মতে, “স্থবিরতা নয়, রূপান্তরই জীবনের চূড়ান্ত সত্য”—আর সেই দর্শনই তুলে ধরেছে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’।

তথ্যসূত্র: সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর facebook স্ট্যাটাস অবলম্বনে প্রতিবেদনটি তৈরি হয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular