Homeটুডে হেলথকঙ্গো থেকে চার দেশে ছড়িয়েছে ইবোলা, নাইজেরিয়ায় নতুন রোগী শনাক্ত

কঙ্গো থেকে চার দেশে ছড়িয়েছে ইবোলা, নাইজেরিয়ায় নতুন রোগী শনাক্ত

আন্তর্জাতিক ও স্বাস্থ্য ডেস্ক

আফ্রিকার কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে শুরু হওয়া ইবোলা প্রাদুর্ভাব আরও বিস্তৃত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ২১ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কঙ্গো থেকে ছড়িয়ে ভাইরাসটি আরও চারটি দেশে পৌঁছেছে—নাইজেরিয়া, উগান্ডা, কেনিয়া ও ফ্রান্সে। আক্রান্ত দেশগুলোর মধ্যে নাইজেরিয়া ও কেনিয়ায় নতুন সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই প্রাদুর্ভাবকে ইবোলার ইতিহাসে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া প্রাদুর্ভাবগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেছে।

নাইজেরিয়ায় রোগী শনাক্ত, ৪৪ জন নজরদারিতে

নাইজেরিয়ার রাজধানী আবুজায় উগান্ডা থেকে আসা এক নারীর শরীরে ইবোলা শনাক্ত হয়েছে। তিনি ৭ অক্টোবর থেকে উপসর্গ অনুভব করছিলেন এবং ১১ অক্টোবর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে পরীক্ষায় তাঁর সংক্রমণ নিশ্চিত হয়। রোগীর সংস্পর্শে আসা ৪৪ জনকে শনাক্ত করে তাঁদের পর্যবেক্ষণে রাখার কাজ শুরু করেছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

কেনিয়ায় প্রথম রোগী কঙ্গো হয়ে উগান্ডা পেরিয়ে দেশটিতে প্রবেশ করেছিলেন বলে জানানো হয়েছে। দেশটিতে সংক্রমণের সংখ্যা বেড়ে নয়টিতে পৌঁছেছে, যার মধ্যে চারজন রোগীর স্বজন এবং চারজন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। তাঁদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদেরও শনাক্ত করা হচ্ছে।

কঙ্গোতে প্রাণহানি সবচেয়ে বেশি

কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে মে মাসের মাঝামাঝি এই প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হয়। এপির প্রতিবেদনে কঙ্গোতে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ সংক্রমণের বিপরীতে অন্তত ৪ হাজার ৬০০ মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। তবে এসব সংখ্যা সংশ্লিষ্ট সময়ের প্রতিবেদনভিত্তিক; পরবর্তী স্বাস্থ্যবুলেটিনে তা পরিবর্তিত হতে পারে।

এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ভাইরাসটি ইবোলার বান্দিবুগিও ধরন। এই ধরনের বিরুদ্ধে অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই বলে এপি জানিয়েছে। ইবোলার অন্য ধরনের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত টিকা থাকলেও সব ধরনের ভাইরাসের ক্ষেত্রে তা সমানভাবে কার্যকর ধরে নেওয়া যায় না।

উগান্ডায় ২০টি সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আগস্টে প্রাদুর্ভাবের অবসান ঘোষণা করেছিল। ফ্রান্সে কঙ্গো থেকে ফেরা একজন চিকিৎসকের শরীরে জুনে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল; তিনি সুস্থ হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। ফলে একাধিক দেশে সংক্রমণ শনাক্ত হলেও সব দেশেই বর্তমানে সক্রিয় সংক্রমণ চলছে—এমন নয়।

সীমান্ত নজরদারি ও দ্রুত শনাক্তকরণ জরুরি

ইবোলা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা মানুষকে দ্রুত শনাক্ত করা, উপসর্গ দেখা দিলে পরীক্ষা করা এবং রোগীদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া সংক্রমণ ঠেকানোর প্রধান উপায়। কঙ্গো থেকে অন্য দেশে যাতায়াতের পর কিছু রোগীর ক্ষেত্রে উপসর্গ শুরু হওয়ার পরও দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়ায় ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত দেশগুলোর স্বাস্থ্যব্যবস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবে সংক্রমণ শনাক্ত হওয়া মানেই প্রতিটি দেশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কারণ নেই। পরিস্থিতির প্রকৃত মাত্রা নির্ধারণে নিয়মিত স্বাস্থ্যতথ্য ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।

তথ্যসূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments