Homeটুডে ওয়ার্ল্ডগাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেও প্রাণহানি, ইসরায়েলি হামলা ও গুলিতে অন্তত তিন ফিলিস্তিনি নিহত

গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেও প্রাণহানি, ইসরায়েলি হামলা ও গুলিতে অন্তত তিন ফিলিস্তিনি নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও নতুন করে ইসরায়েলি হামলা ও গুলিতে অন্তত তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর গাজা সিটি, দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিস এবং উত্তরাঞ্চলের জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরের কাছে এসব ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন। নতুন এই প্রাণহানি যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা ও চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছে।

তিন এলাকায় প্রাণহানির খবর

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা সিটির তাল আল-হাওয়া এলাকায় একটি গাড়িতে হামলায় একজন নিহত হন। দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিসে সাইকেলে থাকা এক ফিলিস্তিনি পুরুষ নিহত হন। উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরের কাছে গুলিতে এক নারী নিহত হয়েছেন বলেও স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী খান ইউনিসে হামাসের একজন সদস্যকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। তবে গাজা সিটি ও জাবালিয়ার অন্য ঘটনাগুলোর বিষয়ে তারা তখনো তথ্য যাচাই করছিল। হামাসের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েল বলছে, হামাস অস্ত্র সংগ্রহ করছে এবং হামলা চালিয়ে চুক্তি লঙ্ঘন করছে। হামাস এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

যুদ্ধবিরতির পরও থামেনি মৃত্যু

গত বছরের যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে গাজা পুনর্গঠন এবং সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরির কথা ছিল। কিন্তু হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের শর্তে সমঝোতা না হওয়ায় আলোচনা থমকে আছে।

গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েল জানিয়েছে, একই সময়ে তাদের চারজন সেনা নিহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধে গাজায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হিসাবে মোট প্রাণহানি ৭৪ হাজার ছাড়িয়েছে। এসব সংখ্যা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে।

পুনর্গঠন ও স্থায়ী সমঝোতা অনিশ্চিত

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও নিয়মিত প্রাণহানি ঘটলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং ত্রাণ ও পুনর্গঠন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। গাজার ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর ঘরবাড়ি, হাসপাতাল, পানি ও বিদ্যুৎব্যবস্থা পুনরুদ্ধার জরুরি হয়ে উঠেছে। কিন্তু স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এসব কাজ দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এখন আলোচনার মূল বিষয় হচ্ছে, হামলা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা কীভাবে নিশ্চিত হবে, গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থান নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে এবং হামাসের অস্ত্রসংক্রান্ত শর্তে সমঝোতা সম্ভব কি না। এসব বিষয়ে অগ্রগতি না হলে যুদ্ধবিরতি থাকলেও গাজার মানুষের অনিশ্চয়তা কাটবে না।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স, গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments