Homeটুডে ওয়ার্ল্ডশান্তি আলোচনার উদ্যোগের মধ্যেই কিয়েভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, পাল্টা ড্রোন পাঠাল ইউক্রেন

শান্তি আলোচনার উদ্যোগের মধ্যেই কিয়েভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, পাল্টা ড্রোন পাঠাল ইউক্রেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের মধ্যেই রাজধানী কিয়েভে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। একই রাতে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর দিকে শত শত ড্রোন পাঠানোর কথা জানিয়েছে মস্কো। বুধবার রাতে শুরু হওয়া হামলা বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর পর্যন্ত গড়ায়। যুদ্ধক্ষেত্রে এই পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে আগামী নভেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আবারও শান্তি আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

কিয়েভে তিন দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেন বলেছে, রাশিয়া অন্তত ২১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দাবি, এর মধ্যে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্রে ক্লাস্টার যুদ্ধাস্ত্র ছিল। এ ধরনের অস্ত্র বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে ছোট ছোট বিস্ফোরক ছোড়ে, যা বেসামরিক মানুষের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে।

জেলেনস্কি জানিয়েছেন, হামলায় বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত দুজন নিহত এবং ৩৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচটি শিশু রয়েছে। কিয়েভে আবাসিক এলাকা, অবকাঠামো ও পরিবহনব্যবস্থার ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, রাতভর মস্কোর দিকে ৬৩০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন পাঠানো হয়েছিল। রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, অধিকাংশ ড্রোন দূরেই ভূপাতিত করা হয়। তবে এসব সংখ্যার স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।

আলোচনায় ফিরতে রাজি মস্কো

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সেন্ট পিটার্সবার্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। বৈঠকের পর রাশিয়া আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। জেলেনস্কিও নভেম্বরের শুরুর দিকে বৈঠক হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন। ফেব্রুয়ারির পর এ ধরনের আলোচনা আবার শুরু হলে তা হবে যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানের নতুন চেষ্টা।

তবে আলোচনার মূল বাধা ভূখণ্ড ও নিরাপত্তার প্রশ্ন। রাশিয়া ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দনবাসের নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন শর্তে অনড়। ইউক্রেনের আশঙ্কা, ভূখণ্ড ছেড়ে দিয়ে চুক্তি করলে ভবিষ্যতে আবারও রুশ হামলার ঝুঁকি থেকে যাবে। ফলে আলোচনায় বসার সম্ভাবনা তৈরি হলেও দুই পক্ষের অবস্থানের বড় ব্যবধান এখনো রয়ে গেছে।

যুদ্ধ বন্ধের পথ কতটা খোলা

ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বেড়েছে। রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও পরিবহন অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে বলে কিয়েভের অভিযোগ। অন্যদিকে, ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও সামরিক সরবরাহব্যবস্থায় হামলা চালাচ্ছে।

কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি হামলা অব্যাহত থাকা থেকে বোঝা যায়, দুই পক্ষ এখনো সামরিক চাপ বজায় রেখে আলোচনায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। প্রস্তাবিত বৈঠক আদৌ হবে কি না এবং হলে যুদ্ধবিরতি, ভূখণ্ড ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো সমঝোতা আসবে কি না, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের দপ্তর।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments