স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
বাংলাদেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যু অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২০ অক্টোবরের সর্বশেষ প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৩৬৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে মারা গেছেন পাঁচজন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ১৫ হাজার ৬১৭ এবং মৃত্যুর সংখ্যা ৩৫৭।
আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু ড্যাশবোর্ডে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সংখ্যা এখনো উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখা এবং রোগীদের সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। জ্বর নিয়ে বাড়িতে থাকা রোগীদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। বৃষ্টির পর ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবন ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকলে মশার বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়। তাই নিয়মিত এসব স্থান পরিষ্কার করা এবং পানি জমতে না দেওয়া প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
শুধু ওষুধ ছিটানো যথেষ্ট নয়
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশা নিধনের পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা প্রয়োজন। বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, অফিস এবং নির্মাণাধীন ভবনে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। কোনো স্থানে পানি জমে থাকলে তা সরিয়ে ফেলতে হবে এবং পানির পাত্র ঢেকে রাখতে হবে।
স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার, ভবন মালিক, বাড়ির বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়লে চিকিৎসাসেবা, পরীক্ষার ব্যবস্থা এবং হাসপাতালে রোগী ব্যবস্থাপনার ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।
যেসব লক্ষণে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন
জ্বরের সঙ্গে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট কিংবা রোগীর আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন। ডেঙ্গু সন্দেহ হলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত পরিসংখ্যান পর্যবেক্ষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম বাড়ানোও প্রয়োজন।
তথ্যসূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, রয়টার্স।




