প্রযুক্তি প্রতিবেদক
বাংলাদেশের ১৮ লাখের বেশি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য এবং অন্তত ১৭ হাজার ৩৬২ সেট লগইন তথ্য ডার্ক ওয়েবে পাওয়া গেছে বলে এক সাইবার নিরাপত্তা মূল্যায়নে উঠে এসেছে। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সাইবারস্টেশন তাদের ‘বাংলাদেশ সাইবার রেজিলিয়েন্স ব্রিফিং ২০২৬’-এ এই তথ্য প্রকাশ করে। ১৫ অক্টোবর ঢাকার ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সরকারি সেবা, ব্যাংক, টেলিযোগাযোগ, প্রযুক্তি ও শিক্ষা খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
১৫টি খাতে ৭৬৭টি ডোমেইন পরীক্ষা
প্রতিবেদন তৈরিতে ১৫টি খাতের ৭৬৭টি ওয়েব ডোমেইন পরীক্ষা করা হয়। এতে প্রায় সব খাতেই ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ হয়ে পড়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সরকারি সেবাসংশ্লিষ্ট খাতে নাগরিকদের তথ্য প্রকাশের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে তথ্য প্রকাশের হার ছিল সবচেয়ে বেশি।
প্রতিবেদনটি বলছে, পাওয়া সংখ্যাগুলো ন্যূনতম হিসাব; প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। তবে ডার্ক ওয়েবে তথ্য পাওয়া মানেই সব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থায় একই ধরনের সাইবার হামলা হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তথ্য কোন উৎস থেকে এসেছে, কত পুরোনো, কোন প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাব্যবস্থায় দুর্বলতা ছিল এবং তথ্যের অপব্যবহার হয়েছে কি না, তা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
ব্যক্তিগত তথ্যের ঝুঁকি কোথায়
ব্যক্তিগত তথ্য ও লগইন পরিচিতি অপরাধীদের হাতে গেলে পরিচয় চুরি, ভুয়া পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট খোলা, প্রতারণামূলক ফোন বা বার্তা পাঠানো এবং অনলাইন অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে একই পাসওয়ার্ড একাধিক সেবায় ব্যবহার করলে একটি অ্যাকাউন্টের তথ্য প্রকাশ অন্য অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তাকেও দুর্বল করতে পারে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা তথ্য প্রকাশের উৎস চিহ্নিত করা, ব্যবহৃত সেবাগুলোর নিরাপত্তা পরীক্ষা, দুর্বল পাসওয়ার্ড বদলানো এবং বহুস্তরীয় পরিচয় যাচাই চালুর ওপর জোর দিয়েছেন। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজন, সংরক্ষণব্যবস্থা, প্রবেশাধিকার এবং তথ্য ফাঁস হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতাও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
নাগরিকের করণীয়
ব্যবহারকারীদের গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা, সম্ভব হলে বহুস্তরীয় পরিচয় যাচাই চালু রাখা এবং সন্দেহজনক লিংকে প্রবেশ না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ফোন বা বার্তার মাধ্যমে কেউ পাসওয়ার্ড, একবার ব্যবহারযোগ্য কোড বা ব্যাংকিং তথ্য চাইলে তা সরবরাহ করা উচিত নয়।
এই মূল্যায়ন বাংলাদেশের ডিজিটাল সেবায় ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে তথ্য প্রকাশের প্রকৃত উৎস, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকা এবং তথ্য অপব্যবহারের পরিমাণ সম্পর্কে আরও যাচাই করা প্রয়োজন।
তথ্যসূত্র: দ্য ডেইলি স্টার, ঢাকা ট্রিবিউন, সাইবারস্টেশন, ব্রেইন স্টেশন ২৩।




