প্রযুক্তি ও অর্থনীতি প্রতিবেদক
জাতীয় নির্বাচনে ভোট গ্রহণের জন্য কেনা প্রায় দেড় লাখ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। এসব যন্ত্র কিনতে ব্যয় হয়েছিল ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা। বর্তমানে অনেক যন্ত্র রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অচল হয়ে পড়েছে। কিছু যন্ত্র পুনর্ব্যবহার, বিক্রি কিংবা বাতিল করা যায় কি না, তা যাচাইয়ের জন্য কমিশন তালিকা তৈরি ও কারিগরি পরীক্ষা করার উদ্যোগ নিয়েছে।
৪১ জেলায় ছড়িয়ে আছে যন্ত্র
বিডিনিউজ২৪-এর ২২ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর আগে জানায়, অব্যবহৃত ইভিএমগুলো দেশের ৪১ জেলায় ছড়িয়ে রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮৬ হাজার যন্ত্র বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরিতে, প্রায় ৬২ হাজার মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন কার্যালয়ে এবং প্রায় ১ হাজার ২০০ যন্ত্র কমিশন ভবনে রাখা আছে। সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচও কমিশনের ওপর চাপ তৈরি করছে। কমিশন এখন যন্ত্রগুলোর বর্তমান অবস্থা, কতগুলো চালু করা সম্ভব, কতগুলো মেরামতযোগ্য এবং কতগুলো পুরোপুরি অচল—এসব তথ্য সংগ্রহ করতে চায়। তদন্ত বা আইনি কার্যক্রমের প্রয়োজনে যেসব যন্ত্র সংরক্ষণ করা দরকার, সেগুলো আলাদা রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।
কেন এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ
ইভিএমকে ভোট গণনা ও ফল প্রস্তুত করার আধুনিক প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিপুল অর্থ ব্যয়ের পর যন্ত্রগুলো দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় সরকারি কেনাকাটা, প্রকল্প পরিকল্পনা এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যন্ত্রের নির্ধারিত আয়ুষ্কাল, রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব এবং ব্যবহারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত শুরু থেকেই স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন ছিল। টিআইবি জানিয়েছে, অব্যবহৃত যন্ত্রগুলোর মালিকানা ও নিষ্পত্তির দায়িত্ব নিয়ে স্পষ্ট কাঠামো না থাকায় ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে সব যন্ত্র একসঙ্গে ধ্বংস বা বিক্রি করা হবে—এমন সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। কমিশন সরকার ও কারিগরি বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে চায়।
সামনে কী করতে হবে
প্রথমে প্রতিটি যন্ত্রের অবস্থান, কার্যক্ষমতা ও মেরামতের সম্ভাব্য খরচ যাচাই করতে হবে। পরে ব্যবহারযোগ্য যন্ত্র অন্য কাজে লাগানো সম্ভব কি না, বিক্রির আর্থিক সুবিধা কতটা এবং বাতিল করার ক্ষেত্রে পরিবেশগত নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে, তা নির্ধারণ করতে হবে। সরকারি অর্থে কেনা বড় প্রযুক্তিপণ্যের ক্ষেত্রে কেনাকাটার পর সঠিক ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। ইভিএমের ভবিষ্যৎ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তে এসব বিষয় স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ২৪, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।




