নিজস্ব প্রতিবেদক রাঙামাটির সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকদের ভ্রমণ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। স্থানীয় দুটি সংগঠন সাজেক পর্যটন সড়কে আবারও অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দেওয়ার পর বুধবার, ২১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। বর্তমানে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার মধ্যে এলাকা ছেড়ে নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
কেন আবার অবরোধ
সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে অবরোধের ঘোষণা দেয়। সংগঠন দুটির অভিযোগ, সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র তৎপরতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের কারণে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কথিত সশস্ত্র সদস্যদের এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) পক্ষ থেকে অভিযোগগুলো অস্বীকার করা হয়েছে। সংগঠনটির একজন প্রতিনিধি বলেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ তোলা হচ্ছে। ফলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রকৃত অবস্থা এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রশাসনের তদন্ত ও নিরপেক্ষ তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।
দুর্গাপূজার পর আবার অচলাবস্থা
দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ স্থগিত ছিল। ওই সময় প্রশাসন পর্যটনকেন্দ্রটি আবার খুলে দিয়েছিল। উৎসব শেষ হওয়ার পর স্থানীয় সংগঠনগুলো আবার কর্মসূচি ঘোষণা করলে জেলা প্রশাসন ভ্রমণ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে ১১ অক্টোবরও একই ধরনের অবরোধের কারণে সাজেকে পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ হয়েছিল।
পর্যটন ব্যবসায় অনিশ্চয়তা
সাজেকের পর্যটন ব্যবসা মূলত পর্যটকদের যাতায়াত, আবাসন, খাবার ও পরিবহনসেবার ওপর নির্ভরশীল। বারবার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি হলে পর্যটক, হোটেল-রিসোর্ট মালিক, পরিবহনকর্মী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। তবে নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকলে পর্যটন চালু রাখাও বিপজ্জনক হতে পারে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, উত্থাপিত অভিযোগ যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে প্রশাসনের কার্যকর আলোচনা প্রয়োজন। নতুন নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত পর্যটকদের সাজেক ভ্রমণের পরিকল্পনা স্থগিত রাখা উচিত। তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ২৪, রাঙামাটি জেলা প্রশাসন, সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন, সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির বক্তব্য।




