Homeটুডে নেশন১৪ বছরেও চালু হয়নি বিআরটি, ২ হাজার ৮১১ কোটি টাকা ব্যয়ের পর...

১৪ বছরেও চালু হয়নি বিআরটি, ২ হাজার ৮১১ কোটি টাকা ব্যয়ের পর প্রকল্প বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প বাতিল করেছে সরকার। প্রায় ১৪ বছর ধরে চলা নির্মাণকাজে ২ হাজার ৮১১ কোটি টাকা ব্যয়ের পর প্রকল্পটির অবকাঠামো ব্যবহার করে সড়কটিকে ছয় লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ১৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯ অক্টোবর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের চিঠিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বিআরটির বদলে সাধারণ সড়ক

২০১২ সালের ডিসেম্বরে নেওয়া প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত নির্দিষ্ট পথে দ্রুত বাস চলাচলের ব্যবস্থা করা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি। কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পরও প্রকল্পটি চালু করা সম্ভব হয়নি। নির্মাণকাজের বিভিন্ন পর্যায়ে নকশাগত ত্রুটি, যান চলাচলে বিঘ্ন এবং বাস্তবায়ন নিয়ে নানা সমস্যা দেখা দেয়। ফলে গাজীপুর ও উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকায় যাতায়াতকারী মানুষকে দীর্ঘ যানজট ও বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

কীভাবে ব্যবহার হবে বিদ্যমান অবকাঠামো

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ২০ কিলোমিটার সড়কে বিআরটির জন্য নির্মিত স্টেশন, সড়ক বিভাজক এবং সংশ্লিষ্ট স্থাপনা সরিয়ে সাধারণ যানবাহনের চলাচলের উপযোগী ছয় লেনের সড়ক তৈরি করা হবে। দুই লেনের দুটি উড়ালসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। ঢাকা বিআরটি কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ করে দায়িত্ব সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ব্যয় ও জবাবদিহির প্রশ্ন

প্রকল্পটি বাতিলের সিদ্ধান্তের পর সরকারি অর্থের ব্যবহার, পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং প্রকল্প তদারকির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এত অর্থ ব্যয়ের পর নির্ধারিত সেবা চালু করতে না পারার কারণ চিহ্নিত করা জরুরি। একই সঙ্গে নির্মিত অবকাঠামো নতুনভাবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যয় কত হবে, কাজ শেষ করতে কত সময় লাগবে এবং যাত্রীদের বাস্তব সুবিধা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সেসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। বিআরটির পরিবর্তে ছয় লেনের সড়ক হলে সাধারণ যানবাহনের চলাচলে কিছু সুবিধা তৈরি হতে পারে। তবে শুধু সড়কের লেন বাড়ালেই যানজট স্থায়ীভাবে দূর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। প্রকল্পের নতুন নকশা, বাস্তবায়ন সময়সীমা ও ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করা হলে এর সামগ্রিক ফলাফল মূল্যায়ন করা সহজ হবে।

তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ২৪, দ্য ডেইলি স্টার, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments