Homeটুডে হেলথকঙ্গোতে ইবোলা সংক্রমণ ৯ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ৪ হাজার ৩৮১

কঙ্গোতে ইবোলা সংক্রমণ ৯ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ৪ হাজার ৩৮১

মধ্য আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলার প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মঙ্গলবার প্রকাশিত হিসাবে, নিশ্চিত সংক্রমণের সংখ্যা ৯ হাজার ৬৬ এবং মৃত্যুর সংখ্যা ৪ হাজার ৩৮১। সাতটি প্রদেশের ৬৫টি স্বাস্থ্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এই সংক্রমণ। রোগ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করলেও সংঘাত, মানুষের চলাচল এবং চিকিৎসাসামগ্রীর ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে।

বিরল ধরনের ভাইরাসে সংক্রমণ

বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ভাইরাসটি ইবোলার বান্দিবুগিও ধরন। এ ধরনের ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করা, সংক্রমিতদের আলাদা রাখা, নিবিড় চিকিৎসা এবং তাঁদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণ করা রোগ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাবে নতুন করে ৮৮টি নিশ্চিত সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে। সংক্রমণ ও মৃত্যু—দুটিরই বড় অংশ চিকিৎসাকেন্দ্রের বাইরে ঘটছে বলে স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এতে অনেক রোগী শনাক্ত হওয়ার আগেই অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

সাত প্রদেশে ছড়িয়েছে সংক্রমণ

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাদুর্ভাবের বিস্তার ঠেকাতে কর্তৃপক্ষকে একাধিক সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। আক্রান্ত অঞ্চলে সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সংঘাত, দুর্বল চিকিৎসাব্যবস্থা, চিকিৎসাসামগ্রীর ঘাটতি এবং মানুষের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত রোগ নিয়ন্ত্রণকে জটিল করেছে।

কর্তৃপক্ষের ধারণা, নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা প্রকৃত সংক্রমণের পুরো চিত্র তুলে ধরছে না। অনেক রোগীর পরীক্ষা বা চিকিৎসা না হওয়ায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। তবে শনাক্ত না হওয়া রোগীর প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেশী দেশেও ছড়ানোর উদ্বেগ

কঙ্গো থেকে উগান্ডা হয়ে কেনিয়ায় যাওয়া এক ব্যক্তির শরীরে ইবোলা শনাক্ত হওয়ার পর আঞ্চলিক উদ্বেগ বেড়েছে। কেনিয়ায় ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ইউরোপীয় রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর পর্যন্ত কেনিয়ার ওই রোগীর সংস্পর্শে আসা ১২২ জনের মধ্যে ১০৮ জনকে পৃথক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল এবং তাঁদের মধ্যে তখন উপসর্গ দেখা যায়নি।

বর্তমান প্রাদুর্ভাব কঙ্গোর আগের ১৬টি ইবোলা প্রাদুর্ভাবের তুলনায় বড় হয়ে উঠেছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পরীক্ষা, চিকিৎসা ও সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের অনুসরণ করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জনও জরুরি। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সংক্রমণ ও প্রাণহানি কমিয়ে আনা এবং সীমান্ত পেরিয়ে ভাইরাসের আরও বিস্তার ঠেকানো।

তথ্যসূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP), ইউরোপীয় রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (ECDC), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments