ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য বিহারে যাত্রীবোঝাই একটি নৌকা ডুবে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই শিশু। মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর বৈশালী জেলার একটি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বুধবার পুলিশের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, নৌকাটিতে থাকা আরও ছয়জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্য গ্রামে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনা
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটি যাত্রীদের নিয়ে পাশের একটি গ্রামে আয়োজিত ভোজে যাচ্ছিল। বৈশালী জেলার মাঝামাঝি এলাকায় চলার সময় সেটি উল্টে যায়। দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বর্ষা সিং গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নৌকাডুবির ঘটনায় প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে আঞ্চলিক পুলিশ কর্মকর্তা সুবোধ কুমার রয়টার্সকে উদ্ধার হওয়া ছয়জনের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তদন্ত করছে পুলিশ
নৌকাটি কী কারণে ডুবে গেল, যাত্রীসংখ্যা নির্ধারিত সীমার মধ্যে ছিল কি না এবং যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ। দুর্ঘটনার পর উদ্ধার তৎপরতা ও নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ নিয়েও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম চলছে।
ভারতের বিভিন্ন নদীবিধৌত অঞ্চলে নৌযান মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় নদী পারাপার ও স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের জন্য অনেক মানুষ নৌকার ওপর নির্ভর করেন। তবে নৌযানের ধারণক্ষমতা, নিরাপদ চলাচল এবং জরুরি উদ্ধারব্যবস্থার ঘাটতি থাকলে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ে।
নিরাপদ নৌযাত্রার প্রশ্ন
এ দুর্ঘটনা আবারও স্থানীয় নৌপরিবহনে নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং যাত্রীদের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে এ ঘটনায় নৌকার ধারণক্ষমতা বা নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্তের আগে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের প্রাণহানি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এখন স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স




