Homeটুডে বাংলাহেলিকপ্টারে বিয়ে, ১৭ ভরি স্বর্ণ নিয়ে প্রেমিকের সাথে প্রবাসীর স্ত্রী চম্পট!

হেলিকপ্টারে বিয়ে, ১৭ ভরি স্বর্ণ নিয়ে প্রেমিকের সাথে প্রবাসীর স্ত্রী চম্পট!

মুন্সীগঞ্জে প্রবাসীর পরিবারের মামলা, আসামি স্ত্রী ও তাঁর দ্বিতীয় স্বামী; স্বামীর বিরুদ্ধে পরকীয়া ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ নারীর

টঙ্গিবাড়ী, মুন্সীগঞ্জ | TODAY TV BD | ক্রাইম ডেস্ক

কানাডাপ্রবাসী স্বামীর পাঠানো টাকা, স্বর্ণালংকার ও দুটি আইফোন নিয়ে অন্যত্র বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীর এক নারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাঁর বাবা-মা ও দ্বিতীয় স্বামীসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন প্রবাসীর বাবা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ওই নারী বলেছেন, স্বামী তাঁকে কানাডায় নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা পূরণ করেননি। প্রায় ছয় মাস আগে স্বামীকে তালাক দেওয়ার পর পারিবারিকভাবে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন তিনি। স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন ওই নারী।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। তবে প্রথম দিকে ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোতে স্ত্রীর বিরুদ্ধে টাকা ও স্বর্ণ নিয়ে পালানোর অভিযোগ গুরুত্ব পেলেও পরবর্তী প্রতিবেদনে তাঁর পাল্টা বক্তব্যও সামনে এসেছে। ফলে বিষয়টিকে এক পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বিয়ে, হেলিকপ্টার ও কানাডায় নেওয়ার পরিকল্পনা

আজকের পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, টঙ্গিবাড়ী উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের মান্দ্রা গ্রামের বাসিন্দা রবিন ঢালীর সঙ্গে একই উপজেলার কামারখাড়া ইউনিয়নের মালধা গ্রামের লামিয়া আক্তার প্রিয়ার বিয়ে হয় ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি। মুঠোফোনে বিয়ের পর ওই দিনই হেলিকপ্টারে করে লামিয়াকে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

প্রবাসী রবিনের দাবি, বিয়ের পর প্রায় দুই বছরে তিনি স্ত্রীর কাছে ৩০ লাখ ৩৩ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। স্ত্রীকে কানাডায় নেওয়ার জন্য আইইএলটিএস কোর্স করিয়েছেন এবং ভিসার প্রক্রিয়াও চালাচ্ছিলেন। কিন্তু এর মধ্যেই স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে যান এবং পরে অন্য এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেছেন বলে জানতে পারেন তিনি।

রবিনের পরিবারের অভিযোগ, লামিয়া শ্বশুরবাড়ি থেকে ১৭ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ পাঁচ লাখ টাকা এবং দুটি আইফোন ১৫ প্রো-ম্যাক্স নিয়ে চলে গেছেন। তাঁর বাবা আমিরুল ঢালীর করা মামলায় লামিয়া, তাঁর বাবা ধলু হাওলাদার, মা রেহানা বেগম এবং লামিয়ার দ্বিতীয় স্বামী মো. রাসেলকে আসামি করা হয়েছে।

স্ত্রীর পাল্টা বক্তব্য কী?

লামিয়া আক্তার প্রিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিয়ের সময় রবিন ছয় মাসের মধ্যে দেশে ফিরে তাঁকে কানাডায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু বিয়ের আড়াই বছর পার হলেও তিনি দেশে আসেননি এবং তাঁকে কানাডায় নেওয়ার ব্যবস্থাও করতে পারেননি।

লামিয়ার দাবি, স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং তাঁর বিভিন্ন নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয় সামনে আসে। এ নিয়ে আপত্তি জানালে স্বামী তাঁকে নিজের মতো চলার কথা বলতেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। পরে পারিবারিকভাবে বিষয়টির সমাধান না হওয়ায় প্রায় ছয় মাস আগে রবিনকে তালাক দেন এবং এরপর ঘটকের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিয়ে করেন বলে জানান তিনি।

স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের জবাবে লামিয়া বলেন, বিয়ের সময় তাঁকে যে স্বর্ণালংকার দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো তিনি সঙ্গে নিয়েছেন। তবে ১৭ ভরি স্বর্ণ বা বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, হাতখরচের জন্য সামান্য টাকা ছাড়া তাঁকে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া হতো না।

লামিয়ার দ্বিতীয় স্বামী মো. রাসেলও দাবি করেছেন, লামিয়ার আগে বিয়ে হয়েছিল—এ তথ্য তিনি জানতেন। তাঁর বক্তব্য, প্রথম স্বামীকে তালাক দেওয়ার পর পারিবারিকভাবে লামিয়াকে বিয়ে করেছেন।

আদালতে মামলা, তদন্তের দায়িত্ব সিআইডির

প্রবাসী রবিন দেশে না থাকায় তাঁর বাবা আমিরুল ঢালী গত ২৭ সেপ্টেম্বর মুন্সীগঞ্জের আদালতে মামলা করেন। মামলায় অর্থ ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। আইনজীবী হাবিবুর রহমান বাবুল জানিয়েছেন, মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ—সিআইডিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে মামলা হওয়া মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। স্বর্ণালংকারের প্রকৃত পরিমাণ, নগদ অর্থ নেওয়া হয়েছিল কি না, দুই পক্ষের মধ্যে আইনগতভাবে তালাক সম্পন্ন হয়েছিল কি না এবং দ্বিতীয় বিয়ের সময় সেই তালাক কার্যকর ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্ত ও প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করে নির্ধারণ করতে হবে।

সামাজিক মাধ্যমে একপক্ষের বক্তব্যেই কি সিদ্ধান্ত?

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীর ব্যক্তিগত জীবন ও দ্বিতীয় বিয়ে ঘিরে নানা মন্তব্য ছড়িয়েছে। কিন্তু প্রকাশিত সংবাদে দুই পক্ষের বক্তব্যে গুরুত্বপূর্ণ অমিল রয়েছে। রবিনের পরিবার বলছে, তাঁকে তালাক না দিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করা হয়েছে এবং স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে লামিয়া বলছেন, তিনি আগেই তালাক দিয়েছেন; স্বর্ণালংকার তাঁর নিজের এবং নগদ টাকা নেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা।

এই বিরোধের নিষ্পত্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্য দিয়ে নয়, বরং তালাকের নথি, বিয়ের কাগজপত্র, অর্থ পাঠানোর হিসাব, স্বর্ণালংকারের মালিকানা ও সংশ্লিষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে হওয়া প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। একইভাবে অভিযোগের কোনো অংশ অসত্য প্রমাণিত হলেও সেটি স্পষ্ট হওয়া জরুরি।

তথ্যসূত্র:
আজকের পত্রিকা, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬—প্রবাসীর স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বর্ণালংকার-নগদ অর্থ নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগে মামলা; ডি এস কে টিভি চ্যানেল, ১ অক্টোবর ২০২৬—কানাডাপ্রবাসী স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর অভিযোগ, দ্বিতীয় বিয়ের পর সামনে এলো নতুন দাবি.

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments