৭ হাজার ৭৭৩ নিশ্চিত রোগী, মৃত্যু ৩ হাজার ৭৫৯; নর্থ কিভুতে তিন সপ্তাহে রোগী বেড়েছে ৭৩ শতাংশ
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে ইবোলার প্রাদুর্ভাব এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, দেশটির সাতটি প্রদেশে এখন পর্যন্ত ৭ হাজার ৭৭৩টি নিশ্চিত সংক্রমণ এবং ৩ হাজার ৭৫৯টি মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে। নর্থ কিভু প্রদেশে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করছে। সেখানে মাত্র তিন সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৩ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ইতুরি প্রদেশে ২৬ শতাংশ এবং হাউত-উয়েলে ১৫ শতাংশ কমেছে। ফলে দেশের এক অঞ্চলে সংক্রমণ কমলেও অন্য অঞ্চলে তা বাড়ছে। ডব্লিউএইচও বলছে, সামগ্রিকভাবে প্রাদুর্ভাব এখনো নিয়ন্ত্রণে নেই।
চিকিৎসাকেন্দ্র আছে, কর্মী নেই
ইবোলা মোকাবিলায় নতুন চিকিৎসাকেন্দ্র তৈরি হলেও সেগুলো চালানোর জন্য পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী পাওয়া যাচ্ছে না। ডব্লিউএইচওর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একটি ইবোলা চিকিৎসাকেন্দ্র চালাতে অ্যানেসথেটিস্ট, নার্স, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ প্রায় ৩০০ জন স্বাস্থ্যকর্মী প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু অনেক কেন্দ্রেই প্রয়োজনীয় জনবল নেই। এর আগে ইতুরি অঞ্চলের কিছু স্বাস্থ্যকর্মী বকেয়া বেতন পরিশোধ না হওয়ায় ধর্মঘটও করেছিলেন। চলমান সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি ও মানুষের এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় চলাচল রোগ নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন করে তুলছে।
শিশুদের ঝুঁকি বেশি
ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এই বয়সী রোগীদের ক্ষেত্রে মৃত্যুহার ৬০ শতাংশের ওপরে, যেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে তা প্রায় ৪০ শতাংশ। ছোট শিশুদের উপসর্গ বোঝা এবং দ্রুত রোগ শনাক্ত করাও কঠিন বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই রোগী শনাক্ত, চিকিৎসা, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের নজরদারি এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছে। কোথাও সংক্রমণ কমলেও নতুন এলাকায় রোগী শনাক্ত হওয়ায় পুরো পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলা যাচ্ছে না।
সীমান্ত ও আন্তর্জাতিক ঝুঁকি
কঙ্গোর কয়েকটি এলাকায় মানুষের চলাচল বেশি থাকায় প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্যও নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো সীমান্ত, বিমানবন্দর ও বিভিন্ন প্রবেশপথে রোগ শনাক্তের ব্যবস্থা জোরদারের কথা জানিয়েছে। বর্তমান প্রাদুর্ভাবটি বান্দিবুগিও ধরনের ইবোলা ভাইরাসের কারণে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান ও চিকিৎসা গবেষণা চলছে। তবে মানুষের চলাচল, নিরাপত্তাহীনতা এবং স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি দ্রুত সমাধান না হলে রোগ নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন হতে পারে।
তথ্যসূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা; অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস; শিনহুয়া; এএফপি; ডিডব্লিউ।




