পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না থাকায় ব্যবস্থা, স্থাপনার অনুমোদন ও মালিকানা নিয়ে তদন্ত চলছে
মতলব উত্তর (চাঁদপুর) | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬: চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল লঞ্চঘাট এলাকায় মেঘনা নদীর তীরে গড়ে ওঠা ‘জলবিলাস’ হোটেল এবং নির্মাণাধীন ‘হাওয়া বদল’ হোটেলের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর দুই প্রতিষ্ঠানকেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, হোটেল দুটির মালিকপক্ষ পরিবেশগত ছাড়পত্র নেয়নি। তবে মালিকপক্ষ সম্পত্তিটি তাদের নিজস্ব বলে দাবি করেছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
নদীর তীরে স্থাপনা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে
ষাটনল লঞ্চঘাটের মেঘনা নদীর তীর এলাকায় হোটেল নির্মাণ ও পরিচালনা নিয়ে আগেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পর বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরের নজরে আসে। মঙ্গলবার অধিদপ্তরের চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান, পরিদর্শক শরমিতা আহমেদ লিয়াসহ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে ‘জলবিলাস’ হোটেল ও নির্মাণাধীন ‘হাওয়া বদল’ হোটেলের মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন তারা। পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, দুই হোটেলের মালিকের কেউই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেননি। তবে মালিকপক্ষ জায়গাটি তাদের নিজস্ব বলে দাবি করেছে। এ কারণে স্থাপনা নির্মাণের বৈধতা, জায়গার মালিকানা এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না—এসব বিষয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
আদালতের নির্দেশের পর নতুন পদক্ষেপ
এই ঘটনায় এর আগেও আইনি পর্যায়ে বিষয়টি গড়ায়। গত ২৪ আগস্ট মেঘনা নদীর তীর ও নদীতীরবর্তী সরকারি জায়গা দখল করে হোটেল নির্মাণের অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদ আমলে নিয়ে স্বপ্রণোদিতভাবে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন চাঁদপুরের মতলব আমলী আদালতের বিচারক ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নসরুল্লাহ। আদালত ওই এলাকায় কী পরিমাণ স্থাপনা নির্মাণ হয়েছে, নির্মাণকাজে কারা জড়িত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না—এসব বিষয় তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে মতলব উত্তর উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেন। প্রতিবেদনের জন্য ৩০ দিনের সময়ও নির্ধারণ করা হয়েছিল।
নদীর তীর রক্ষায় নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন
ষাটনল লঞ্চঘাট ও মেঘনা নদীর তীর মতলব উত্তরের গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। নদীর তীরে নতুন স্থাপনা গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে পরিবেশ, ভূমি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার অনুমোদন ঠিকভাবে নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রাথমিক নির্দেশের পর পরবর্তী তদন্তে স্থাপনাগুলোর প্রকৃত অবস্থান, জমির মালিকানা ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের বিষয়গুলো স্পষ্ট হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী হোটেল দুটির কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। পরবর্তী তদন্ত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপরই স্থাপনাগুলোর ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নির্ভর করবে। তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন, আজকের পত্রিকা, চাঁদপুর বুলেটিন।




