নভেম্বর থেকে সাত ধাপে ভোটের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল, পরীক্ষা ও রমজানের সূচি মিলিয়ে নতুন সময় খুঁজছে কমিশন
দেশের ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সাত ধাপে আয়োজনের প্রাথমিক পরিকল্পনা করলেও ভোটের কোনো তারিখ এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। ১৭ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠকের পর কমিশন জানিয়েছে, স্কুল-কলেজের পরীক্ষা, শিক্ষক প্রস্তুতি, রমজান এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার সময় বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে সময় সমন্বয় করতে হবে।
এর আগে কমিশন ১২ নভেম্বর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরুর একটি প্রাথমিক সময়সূচি প্রকাশ করেছিল। সেই পরিকল্পনায় সাতটি ধাপে ১২ নভেম্বর, ১৩ ডিসেম্বর, ৩০ ডিসেম্বর, ১৭ জানুয়ারি, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২২ এপ্রিল ও ২৭ মে ভোটের প্রস্তাব ছিল। তবে কমিশন তখনই জানিয়েছিল, এগুলো চূড়ান্ত তফসিল নয়। ১৭ সেপ্টেম্বরের বৈঠকের পরও কোনো তারিখ চূড়ান্ত হয়নি।
পরীক্ষা ও রমজান বড় বাধা
বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, সব পক্ষের মধ্যে একটি বিষয়ে একমত হওয়া গেছে—সম্ভব হলে আগামী বছরের ৬ জুন উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট বা এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর আগেই ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন শেষ করতে হবে। তবে কখন থেকে ভোট শুরু করা যাবে, সে জন্য উপযুক্ত সময় এখনো খুঁজে বের করা যায়নি।
নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা থাকায় ওই সময় দীর্ঘ সময়ের নির্বাচনী কার্যক্রম চালানো কঠিন হতে পারে বলে শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। জানুয়ারিতে কিছুটা সময় পাওয়া গেলেও ফেব্রুয়ারির শুরুতে রমজান শুরু হবে। এরপর রমজান শেষে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে নির্বাচন কমিশনের সামনে সময়ের পরিসর সীমিত।
সাম্প্রতিক বন্যার কারণে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থার কিছু ক্ষতি এখনো পুরোপুরি কাটেনি বলেও বৈঠকে জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি শিক্ষক প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরীক্ষার প্রস্তুতিও বিবেচনায় রাখতে হবে।
সরকারের সঙ্গে সমন্বয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল
ইউপি নির্বাচনের প্রাথমিক তারিখ প্রকাশের পর সরকারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ১৫ সেপ্টেম্বর বলেছিলেন, সরকার ও তার মন্ত্রণালয় কমিশনের ঘোষিত তারিখ সম্পর্কে আগে থেকে অবহিত ছিল না। তিনি জানান, বিষয়টি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানতে হয়েছে।
এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা পরিষ্কার করেন যে প্রকাশিত তারিখগুলো ছিল প্রাথমিক পরিকল্পনা। ১৭ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে বৈঠকের পর চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণের কথা ছিল।
১৭ সেপ্টেম্বরের বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, কমিশন আগের প্রাথমিক পরিকল্পনা থেকে সরে আসেনি। তবে পাওয়া তথ্য ও বিভিন্ন দপ্তরের চাহিদা বিশ্লেষণ করে ভোটের উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করতে হবে। বাজেটসহ নির্বাচনী প্রস্তুতির আরও কিছু কাজ দ্রুত শেষ করা প্রয়োজন বলেও তিনি জানান।
স্থানীয় নির্বাচন কবে শুরু হবে
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন কবে শুরু হবে, সেই প্রশ্নের এখনো নির্দিষ্ট উত্তর নেই। কমিশনের লক্ষ্য হলো আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা এবং এইচএসসি পরীক্ষার আগে ইউপি ভোট শেষ করা। তবে এর জন্য নভেম্বর-ডিসেম্বর, জানুয়ারি, রমজান ও এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি একসঙ্গে বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।
তাই ১২ নভেম্বর থেকে ভোট শুরু হবে—এমন প্রচারকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করার পরই ভোটের তারিখ নিশ্চিত হবে।
তথ্যসূত্র: নির্বাচন কমিশন, প্রথম আলো, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস।




