বেলারুশ দিক থেকে ঢোকা ড্রোনটি জনবসতিপূর্ণ এলাকার কাছে উড়ছিল; বাল্টিক সাগরে রুশ যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে ডেনিশ হেলিকপ্টারের দিকে ফ্লেয়ার ছোড়ার অভিযোগ
ভিলনিয়াস | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ন্যাটো সদস্য লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে ন্যাটোর যুদ্ধবিমান। ইতালির একটি ইউরোফাইটার এই অভিযানে অংশ নেয়। পরে ড্রোনটিতে বিস্ফোরক থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
লিথুয়ানিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ড্রোনটি বেলারুশের দিক থেকে দেশটির আকাশসীমায় ঢুকেছিল এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকার কাছাকাছি উড়ছিল।
বিস্ফোরক পাওয়া গেল ড্রোনে
ভূপাতিত করার পর ড্রোনটির ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে বিস্ফোরক ডিভাইস পাওয়া যায়। সেটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ইতালির কর্মকর্তারা ড্রোনটির সঙ্গে রাশিয়ার সম্ভাব্য যোগসূত্রের কথা বলেছেন। তবে লিথুয়ানিয়া জানিয়েছে, পূর্ণ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ড্রোনটির উৎস সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে না।
ন্যাটোর পূর্ব সীমান্তে কেন এত উদ্বেগ
লিথুয়ানিয়া, লাতভিয়া ও এস্তোনিয়া রাশিয়া ও বেলারুশের কাছাকাছি অবস্থিত। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই তিন দেশের আকাশসীমা ও সীমান্ত নিরাপত্তা ন্যাটোর জন্য বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
রাশিয়া ও ন্যাটো সরাসরি যুদ্ধে না জড়ালেও সীমান্তের কাছাকাছি ড্রোন, বিমান ও সামরিক ইউনিটের চলাচল বেড়ে যাওয়ায় ভুল বোঝাবুঝি বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
বাল্টিক সাগরেও সামরিক উত্তেজনা
একই সময়ে বাল্টিক সাগরে রুশ একটি যুদ্ধজাহাজ থেকে ডেনমার্কের একটি সামরিক হেলিকপ্টারের দিকে দুটি ফ্লেয়ার ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে।
ডেনমার্ক ঘটনাটিকে উসকানিমূলক ও বেপরোয়া আচরণ হিসেবে দেখছে। দেশটি রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে, ডেনিশ হেলিকপ্টার রুশ যুদ্ধজাহাজের কাছে বিপজ্জনকভাবে উড়ছিল।
একই দিনে একাধিক নিরাপত্তা ঘটনা
লিথুয়ানিয়ার আকাশে ড্রোন ভূপাতিত এবং বাল্টিক সাগরে রুশ যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে ডেনিশ সামরিক হেলিকপ্টারের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি—দুটি ঘটনাই ইউরোপের পূর্বাঞ্চলীয় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
পোল্যান্ডও ইউক্রেনের ওপর রুশ ড্রোন হামলার সময় নিজেদের যুদ্ধবিমান প্রস্তুত রেখেছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব সীমান্ত ছাড়াচ্ছে
ইউক্রেন যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা প্রস্তুতি বাড়ছে। ড্রোন হামলা, আকাশসীমা লঙ্ঘন এবং সামরিক নজরদারি এখন ইউরোপের প্রতিদিনের নিরাপত্তা আলোচনার অংশ।
লিথুয়ানিয়ার ঘটনার পূর্ণ তদন্ত তাই শুধু একটি ড্রোন কোথা থেকে এসেছিল তা জানার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। এর সঙ্গে ন্যাটোর প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি, রাশিয়ার সামরিক কৌশল এবং ইউরোপের পূর্ব সীমান্তের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তাও জড়িয়ে আছে।
তথ্যসূত্র: Reuters, AP, The Guardian, NATO।




