Homeশোবিজ টুডে৭২-এ পা দিলেন সাবিনা ইয়াসমীন, এখনো প্রজন্মের পর প্রজন্মের কণ্ঠ

৭২-এ পা দিলেন সাবিনা ইয়াসমীন, এখনো প্রজন্মের পর প্রজন্মের কণ্ঠ

পাঁচ দশকের বেশি সময়ের সংগীতযাত্রায় ১০ হাজারের বেশি গান; স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পদক ও ১৪টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার

ঢাকা | ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের সংগীতের অন্যতম শক্তিশালী ও পরিচিত কণ্ঠ সাবিনা ইয়াসমীন আজ ৭২ বছরে পা দিয়েছেন। ১৯৫৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরায় জন্ম নেওয়া এই শিল্পী পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে বাংলা গান, চলচ্চিত্রের গান, দেশাত্মবোধক সংগীত, আধুনিক, লোক ও শাস্ত্রীয় ধারায় কণ্ঠ দিয়েছেন। তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে গাওয়া গানের সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি বলে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে।

শৈশব থেকেই সংগীতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক। মাত্র সাত বছর বয়সে মঞ্চে গান করেন তিনি। ১৩ বছর বয়সে উস্তাদ পি.সি. গোমেজের কাছে নিয়মিত সংগীত শিক্ষা শুরু করেন। ১৯৬২ সালে ‘নতুন সুর’ চলচ্চিত্রের একটি শিশুগানে অংশ নেন এবং ১৯৬৭ সালে ‘আগুন নিয়ে খেলা’ চলচ্চিত্রে গায়িকা হিসেবে অভিষেক হয় তাঁর।

যে কণ্ঠ সিনেমার গানকে ছাপিয়ে হয়ে উঠেছে জাতীয় স্মৃতির অংশ

সাবিনা ইয়াসীনের কণ্ঠ শুধু চলচ্চিত্রের গানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয় চেতনার সঙ্গে যুক্ত বহু দেশাত্মবোধক গান তাঁর কণ্ঠে জনপ্রিয় হয়েছে।

‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’, ‘ও আমার বাংলা মা’, ‘জন্ম আমার ধন্য হলো মা গো’ এবং ‘একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার’—এসব গান বহু প্রজন্মের শ্রোতার কাছে বিশেষ আবেগের সঙ্গে যুক্ত।

তাঁর জনপ্রিয়তা কোনো একটি নির্দিষ্ট সময় বা ধারায় আটকে নেই। বাংলা আধুনিক গান, চলচ্চিত্রের গান, লোকগান ও অন্যান্য ধারায় দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকায় তাঁর কণ্ঠ বাংলাদেশের সংগীত-ইতিহাসের একাধিক পর্যায়ের সঙ্গে যুক্ত।

দেশের বাইরে ও দুই বাংলার সঙ্গেও তৈরি হয়েছিল সংযোগ

সাবিনা ইয়াসমীন ভারতীয় উপমহাদেশের একাধিক কিংবদন্তি শিল্পী ও সুরকারের সঙ্গে কাজ করেছেন। তিনি কিশোর কুমার ও মান্না দে-র সঙ্গে দ্বৈত গান গেয়েছেন। আর.ডি. বর্মনের সুর করা গানে এবং ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্রেও তাঁর কণ্ঠ শোনা গেছে।

এই সহযোগিতা তাঁর সংগীতভুবনের পরিসরকে বাংলাদেশের সীমার বাইরেও ছড়িয়ে দেয়।

পুরস্কারের সংখ্যাও বলে দেয় তাঁর দীর্ঘ প্রভাব

সাবিনা ইয়াসীনের অর্জনের তালিকায় রয়েছে ১৯৮৪ সালে একুশে পদক এবং ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে তিনি ১৪ বার এবং Bachsas Awards-এ ছয়বার স্বীকৃতি পেয়েছেন।

তবে তাঁর প্রভাবের সবচেয়ে বড় মাপকাঠি পুরস্কারের সংখ্যা নয়। কয়েক দশক ধরে চলচ্চিত্র ও জনপ্রিয় সংগীতে একই সঙ্গে সক্রিয় থাকা এবং একাধিক প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছে পরিচিত থাকা তাঁকে বাংলাদেশের সংগীতের বিশেষ অবস্থানে নিয়ে গেছে।

জন্মদিনেও গানেই পরিচয়

সাবিনা ইয়াসমীনের ৭২তম জন্মদিন উপলক্ষে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইয়ে ‘শুধু গান গেয়ে পরিচয়’ নামে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার হবে। শুক্রবার ও শনিবার রাত ১০টা ২০ মিনিটে প্রচারের জন্য নির্ধারিত এ অনুষ্ঠানে তাঁর দীর্ঘ সংগীতজীবনকে ঘিরে স্মৃতিচারণ ও সংগীত পরিবেশনা থাকবে।

📊 ক্যারিয়ারের কয়েকটি মাইলফলক

• জন্ম: ৪ সেপ্টেম্বর ১৯৫৪
• বর্তমান বয়স: ৭২ বছর
• সংগীতজীবন: ৫ দশকের বেশি
• গাওয়া গান: ১০,০০০+
• একুশে পদক: ১৯৮৪
• স্বাধীনতা পুরস্কার: ১৯৯৬
• জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার: ১৪ বার

🎵 সময় পেরিয়েও যে কণ্ঠ রয়ে গেছে

বাংলা সংগীতের বহু শিল্পীর জনপ্রিয়তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। সাবিনা ইয়াসমীনের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমটি হলো—পুরোনো গান যেমন টিকে আছে, তেমনি তাঁর কণ্ঠ নতুন প্রজন্মের কাছেও পরিচিত।

তাঁর ৭২তম জন্মদিন তাই শুধু একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত মাইলফলক নয়; এটি বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতের দীর্ঘ ইতিহাসেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (BSS), The Daily Star, Bangladesh National Film Awards archives।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments