অভিবাসন নীতিতে শাবানা মাহমুদের কঠোর অবস্থান, বিদ্রোহী এমপিদের চাপ—শেষ পর্যন্ত কি পুরোনো নিয়মে থাকা অভিবাসীরা ছাড় পাবেন?
যুক্তরাজ্যে অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি—ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন বা ILR—পাওয়ার নিয়ম বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী অধিকাংশ অভিবাসীর স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতার সাধারণ সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করা হবে। তবে শুধু অপেক্ষার সময় বাড়ানোই নয়, নতুন ব্যবস্থায় স্থায়ী বসবাসকে ‘অধিকার’ নয়, বরং কাজ, কর প্রদান, ভাষাজ্ঞান, অপরাধমুক্ত আচরণ ও সমাজে অবদানের মাধ্যমে অর্জন করতে হবে—এমন একটি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।
এই পরিকল্পনার রাজনৈতিক চাপ এখন সবচেয়ে বেশি পড়ছে লেবার সরকারের ওপরই। কারণ বিরোধিতা শুধু কনজারভেটিভ বা ডানপন্থী দলগুলোর কাছ থেকে নয়; লেবার দলের ভেতর থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক এমপি এর বিরোধিতা করছেন।
আর সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হলো—নতুন নিয়ম কি ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত অভিবাসীদের ওপরও কার্যকর হবে?
কেন পাঁচ বছর থেকে ১০ বছর?
বর্তমান ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট কিছু ভিসা রুটে সাধারণত পাঁচ বছর বৈধভাবে বসবাসের পর একজন অভিবাসী ILR-এর জন্য আবেদন করতে পারেন। কিন্তু সরকারের প্রস্তাবিত ‘Earned Settlement’ ব্যবস্থায় এই স্বাভাবিক পথকে ১০ বছরে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্য সরকার বলছে, স্থায়ী বসবাস এমন কিছু হওয়া উচিত নয় যা নির্দিষ্ট সময় পার হলেই প্রায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায়। বরং যিনি ব্রিটেনে স্থায়ী হতে চান, তাকে দীর্ঘমেয়াদে দেশটির অর্থনীতি ও সমাজে অবদান রাখার প্রমাণ দিতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের পরিকল্পনায় এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কয়েকটি শর্ত—পরিষ্কার অপরাধমূলক রেকর্ড, উচ্চমানের ইংরেজি ভাষাজ্ঞান, ধারাবাহিক অর্থনৈতিক অবদান এবং যুক্তরাজ্যে কোনো বকেয়া ঋণ না থাকা।
অন্যদিকে যারা ব্রিটিশ অর্থনীতি ও সমাজে তুলনামূলক বেশি অবদান রাখবেন, তাদের জন্য অপেক্ষার সময় কমিয়ে দেওয়ার সুযোগ রাখা হচ্ছে। সরকারের প্রস্তাবে উচ্চ আয়ের ব্যক্তি, উদ্যোক্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ জনসেবায় কাজ করা ব্যক্তিদের দ্রুত স্থায়ী হওয়ার পথ দেওয়ার কথা রয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফ্রন্টলাইন কর্মীরাও তুলনামূলক দ্রুত settlement পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
অর্থাৎ নতুন দর্শনটি মোটামুটি এমন—
“ব্রিটেনে থাকলেই স্থায়ী হওয়ার অধিকার নয়; ব্রিটেনের জন্য কী অবদান রেখেছেন, সেটিই নির্ধারণ করবে কত দ্রুত স্থায়ী হবেন।”
কিন্তু বিপদটা তৈরি হয়েছে পুরোনো অভিবাসীদের নিয়ে
নীতিটির সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ এখানেই।
যারা ইতোমধ্যে পাঁচ বছরের নিয়ম মাথায় রেখে যুক্তরাজ্যে এসেছেন, চাকরি নিয়েছেন, পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেছেন এবং ভবিষ্যতে ILR পাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন—তাদের ক্ষেত্রেও যদি নতুন ১০ বছরের নিয়ম কার্যকর হয়, তাহলে তাদের অপেক্ষার সময় হঠাৎ দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে।
সরকারের ২০২৫ সালের প্রস্তাবেই বলা হয়েছিল, ২০২১ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে আসা প্রায় ২০ লাখ অভিবাসী নতুন ব্যবস্থার আওতায় পড়তে পারেন। তবে যাদের ক্ষেত্রে পুরোনো ও নতুন ব্যবস্থার মধ্যবর্তী পর্যায় তৈরি হবে, তাদের জন্য ‘transitional arrangements’ বা রূপান্তরকালীন ব্যবস্থা কী হবে, তা নিয়ে পরামর্শ নেওয়া হয়েছে।
এ কারণেই লেবার দলের ভেতরে প্রশ্ন উঠেছে—
একজন মানুষ যখন পাঁচ বছরের নিয়ম জেনে ব্রিটেনে এসেছিলেন, তখন মাঝপথে নিয়ম বদলে তাকে আরও পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে বলা কতটা ন্যায়সংগত?
লেবারের ভেতরেই কেন বিদ্রোহ?
এখানেই শাবানা মাহমুদের জন্য রাজনৈতিক সমস্যা সবচেয়ে বড়।
২০২৬ সালের জুলাইয়ে পার্লামেন্টে শাবানা মাহমুদ নিজেই স্বীকার করেছেন যে ILR-এর যোগ্যতার সময় পাঁচ বছর থেকে ১০ বছরে নেওয়া সরকারের প্রতিষ্ঠিত নীতি। তবে তিনি একই সঙ্গে বলেছেন, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে থাকা ব্যক্তিদের জন্য কী ধরনের transitional arrangements থাকবে, সেটি নিয়ে সরকার পরামর্শ করছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।
পার্লামেন্টে এমনকি ৮০ জন লেবার এমপির বিরোধিতার কথাও উঠে এসেছে।
এর অর্থ হলো, বিষয়টি এখন আর কেবল অভিবাসন নীতি নয়; এটি লেবার সরকারের অভ্যন্তরীণ ঐক্যেরও পরীক্ষা।
সামাজিক কেয়ার কর্মীরা কেন সবচেয়ে বেশি আলোচনায়?
যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য ও সামাজিক কেয়ার খাত দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি কর্মীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
অভিবাসন-ভিত্তিক শ্রমশক্তির একটি বড় অংশ কাজ করেন NHS, care home এবং সামাজিক কেয়ার খাতে। ফলে এই কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের পথ দীর্ঘ হলে এর প্রভাব শুধু অভিবাসীদের ওপর নয়, যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা ব্যবস্থার ওপরও পড়তে পারে।
বিশেষ করে সামাজিক কেয়ার কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় অপেক্ষার সময় আরও দীর্ঘ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
এখানে একটি বাস্তব রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে।
সরকার বলছে—
“যারা ব্রিটিশ সমাজে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখবেন, তাদের দ্রুত settlement দেওয়া হবে।”
কিন্তু সমালোচকদের প্রশ্ন—
“যে বিদেশি কর্মী বছরের পর বছর বৃদ্ধ, অসুস্থ কিংবা প্রতিবন্ধী মানুষকে সেবা দিচ্ছেন, কর দিচ্ছেন এবং ব্রিটিশ অর্থনীতিকে সচল রাখতে কাজ করছেন, তিনি কি কম অবদান রাখছেন?”
এই প্রশ্নটিই লেবার দলের ভেতরের বিরোধিতাকে শক্তিশালী করছে।
জনমতের জায়গাটিও গুরুত্বপূর্ণ
সরকারের জন্য বিষয়টি আরও জটিল করে তুলেছে ব্রিটিশ জনমতের বিভাজন।
একদিকে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের দাবি ক্রমশ শক্তিশালী হয়েছে। ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে অবৈধ অভিবাসন, সরকারি আবাসন ব্যয় এবং অভিবাসীদের সংখ্যা—এসব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক চাপ রয়েছে।
অন্যদিকে, ইতোমধ্যে বৈধভাবে ব্রিটেনে থাকা এবং কাজ করা মানুষদের হঠাৎ নতুন নিয়মের আওতায় আনা নিয়ে সহানুভূতিও রয়েছে।
সাম্প্রতিক একটি জরিপে ৪৫ শতাংশ মানুষ বলেছেন, ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে থাকা অভিবাসীদের নতুন নিয়ম থেকে বাদ দেওয়া উচিত। বিপরীতে ৩৩ শতাংশ নতুন নিয়ম তাদের ক্ষেত্রেও কার্যকর করার পক্ষে।
অর্থাৎ ব্রিটিশ জনগণের মধ্যেও বিষয়টি একেবারে একমুখী নয়।
শাবানা মাহমুদের অবস্থান কী?
শাবানা মাহমুদের যুক্তি মূলত ‘contribution’ বা অবদানের ওপর দাঁড়িয়ে।
তিনি মনে করেন, যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে থাকার সুযোগ এমন ব্যক্তিদের পাওয়া উচিত যারা দেশটির অর্থনীতি ও সমাজে দীর্ঘমেয়াদি অবদান রাখছেন।
সরকারের ‘earned settlement’ ধারণায় একজন অভিবাসীকে ইংরেজিতে দক্ষতা অর্জন, নিয়ম মেনে চলা, অপরাধমুক্ত থাকা এবং অর্থনৈতিকভাবে অবদান রাখার মতো বিষয় প্রমাণ করতে হবে।
সরকার ইতোমধ্যে ইংরেজি ভাষার ক্ষেত্রেও নিয়ম কঠোর করার পথে এগিয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চে সরকার ঘোষণা করেছে, অধিকাংশ settlement আবেদনকারীর জন্য ইংরেজির প্রয়োজনীয় মান GCSE স্তর থেকে A-level সমমান করা হচ্ছে; এই পরিবর্তন ২০২৭ সালের মার্চ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।
অর্থাৎ সরকার যে পথে হাঁটছে, সেটি কেবল পাঁচ বছরকে ১০ বছর করার পরিকল্পনা নয়। বরং স্থায়ী বসবাসের পুরো দর্শনটাই বদলে দেওয়া হচ্ছে।
তবে সরকার কি পিছিয়ে যাচ্ছে?
এখানে বিষয়টি একটু সূক্ষ্ম।
সরকার এখনো মূল ১০ বছরের নীতি থেকে সরে যায়নি। শাবানা মাহমুদ পার্লামেন্টে স্পষ্ট করেছেন যে পাঁচ বছর থেকে ১০ বছর করার সিদ্ধান্ত সরকারের নীতিতে বহাল রয়েছে।
তবে ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে থাকা অভিবাসীদের জন্য রূপান্তরকালীন ছাড় দেওয়ার দরজা খোলা রেখেছে সরকার।
এটাই সম্ভবত ভবিষ্যৎ সমঝোতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা।
সম্ভাব্য সমাধান হতে পারে—
- নতুন করে আসা অভিবাসীদের ক্ষেত্রে ১০ বছরের নিয়ম;
- ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে থাকা ব্যক্তিদের জন্য পুরোনো পাঁচ বছরের ব্যবস্থা বহাল রাখা;
- অথবা যারা নির্দিষ্ট সময় ধরে চাকরি, কর ও সামাজিক অবদান বজায় রেখেছেন, তাদের জন্য transitional pathway;
- স্বাস্থ্য, সামাজিক কেয়ার ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে কর্মীদের জন্য আলাদা settlement route;
- উচ্চ দক্ষতা ও উচ্চ আয়ের কর্মীদের জন্য দ্রুত settlement।
তবে এগুলো এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়; এগুলো সম্ভাব্য নীতিগত পথ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
লেবার সরকারের জন্য এটি কেন বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা?
লেবার ঐতিহ্যগতভাবে শ্রমিক, অভিবাসী এবং বহুসাংস্কৃতিক সমাজের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি দল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রিটেনে অভিবাসন ইস্যু এতটাই রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে যে লেবারও এখন কঠোর সীমান্ত ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের দিকে এগোচ্ছে।
সরকারের জন্য সমস্যা হলো—একদিকে তাকে দেখাতে হবে যে তারা অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ করছে; অন্যদিকে তাদের এমন কোনো নীতি গ্রহণ করা যাবে না, যা NHS, সামাজিক কেয়ার, নির্মাণ, পরিবহন কিংবা অন্যান্য শ্রমঘন খাতে কর্মী সংকট তৈরি করে।
এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্যই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
অভিবাসীদের জন্য এর অর্থ কী?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৫ বছর থেকে ১০ বছর মানেই সবাইকে ১০ বছর অপেক্ষা করতেই হবে—এমন সরল সমীকরণ এখনো নেই।
প্রস্তাবিত ‘earned settlement’ কাঠামোয় সময় কমানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। যারা বেশি অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবদান রাখবেন, তারা দ্রুত settlement-এর যোগ্য হতে পারেন।
আবার বিপরীতে যারা নিয়ম ভঙ্গ করবেন, সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল থাকবেন বা অন্যান্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হবেন, তাদের জন্য অপেক্ষার সময় আরও বাড়তে পারে। সরকারের প্রস্তাবে কিছু ক্ষেত্রে ১০ বছরের চেয়েও দীর্ঘ সময়ের কথা বলা হয়েছে।
অর্থাৎ ভবিষ্যতের ব্রিটিশ অভিবাসন ব্যবস্থা সম্ভবত হবে একটি স্তরভিত্তিক ব্যবস্থা—যেখানে সবার জন্য একই সময়সীমা থাকবে না।
শেষ পর্যন্ত কী হতে পারে?
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে সম্ভাব্য চিত্র হলো—সরকার ১০ বছরের মূল নীতি পুরোপুরি বাতিল করবে না। কারণ এটি ইতোমধ্যেই সরকারের অভিবাসন সংস্কারের অন্যতম কেন্দ্রীয় স্তম্ভ।
কিন্তু লেবার দলের অভ্যন্তরীণ চাপের কারণে ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে থাকা অভিবাসীদের জন্য একটি transitional arrangement বা বিশেষ সুরক্ষা আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
বিশেষ করে যারা—
- বৈধভাবে দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটেনে আছেন,
- নিয়মিত চাকরি করছেন,
- কর ও National Insurance দিচ্ছেন,
- NHS ও সামাজিক কেয়ারের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে কাজ করছেন,
- অপরাধমুক্ত,
- এবং পুরোনো পাঁচ বছরের নিয়ম অনুসরণ করেই জীবন পরিকল্পনা করেছেন,
তাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা তৈরির রাজনৈতিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে।
বড় প্রশ্ন: কঠোরতা, নাকি ন্যায়সংগত রূপান্তর?
যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতির সামনে এখন মূল দ্বন্দ্বটি আসলে পাঁচ বছর বনাম ১০ বছর নয়।
দ্বন্দ্বটি হলো—
রাষ্ট্র কি অভিবাসন কমাতে গিয়ে ইতোমধ্যে দেশটির অর্থনীতি ও সমাজে অবদান রাখা মানুষদের ওপরও একই কঠোরতা প্রয়োগ করবে, নাকি নতুনদের জন্য কঠোর নিয়ম রেখে পুরোনো অভিবাসীদের জন্য ন্যায্য transitional ব্যবস্থা তৈরি করবে?
শাবানা মাহমুদের ‘earned settlement’ ধারণা ব্রিটিশ অভিবাসন ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দিতে পারে। কিন্তু সেই পরিবর্তন বাস্তবায়নের সবচেয়ে কঠিন জায়গা হবে—যারা ইতোমধ্যে ব্রিটেনে আছেন, তাদের সঙ্গে করা পুরোনো প্রত্যাশার কী হবে?
সরকারের পরামর্শ প্রক্রিয়ায় দুই লাখের বেশি মতামত জমা পড়েছে এবং সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। চূড়ান্ত নীতি এ বছরের শেষ দিকে প্রকাশ হওয়ার কথা।
তাই এখনো শেষ কথা বলা হয়নি।
তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—যুক্তরাজ্যে অভিবাসনের যুগ বদলাচ্ছে।
আগের ব্রিটেন যেখানে বলত, ‘নির্দিষ্ট সময় বৈধভাবে থাকুন, তারপর স্থায়ী হওয়ার সুযোগ পাবেন’, নতুন ব্রিটেন সেখানে বলতে চাইছে—
“এ দেশে স্থায়ীভাবে থাকতে হলে শুধু সময় পার করলেই হবে না; আপনাকে প্রমাণ করতে হবে—আপনি এই দেশের জন্য কী করেছেন।”
আর সেই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা এখন সরকারের নিজের দল—লেবার পার্টির ভেতরেই।




