কেমোথেরাপির পর সংকটাপন্ন ১২ বছরের আলিফ; বিদেশের হাসপাতালের বিল, চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার অনিশ্চয়তা—পরিবারের আকুতি, ‘তাড়াতাড়ি সাহায্য না পেলে ওকে দেশে ফিরিয়ে নিতে হবে’
নাগরিক দর্পণ | ফলোআপ প্রতিবেদন
একসময় আমরা লিখেছিলাম—
“টাকার অভাবে কি নিভে যাবে ছোট্ট আলিফের জীবন? বাঁচার আকুতি ১২ বছরের নিষ্পাপ শিশুর”।
সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।
বরং সময় যত গড়িয়েছে, আলিফের লড়াই তত কঠিন হয়েছে। ১২ বছরের এই শিশুটি এখন বিদেশের একটি হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার জন্য হাসপাতাল দ্রুত অর্থ জমা দিতে বলেছে। টাকা না দিতে পারলে আলিফকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে—এমন আশঙ্কায় ভেঙে পড়েছে পরিবার।
পরিবারের একজন সদস্য আমাদের কাছে আকুতি জানিয়ে বলেছেন—
“হাসপাতাল আজকে বলছে টাকা জমা না করলে দেশে নিয়ে যেতে। বাসায় কান্নাকাটি করছে সবাই। আব্বুও আর ম্যানেজ করতে পারছে না, অন্য লোন হয়েছে।”
একটি ১২ বছরের শিশুর জীবন কি এখন ব্যাংক ব্যালান্সের ওপর দাঁড়িয়ে আছে?
আলিফের শরীর এখন ‘নেগেটিভ ফেজে’
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, আলিফের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত সংকটাপন্ন। চিকিৎসকদের মতে, সে এমন এক পর্যায়ে রয়েছে যেখান থেকে যেকোনো সময় তার অবস্থার আরও অবনতি হতে পারে।
পরিবারের সদস্যের ভাষায়—
“ও এখন নেগেটিভ ফেজে আছে। যেকোনো টাইম ব্যাক করতে পারে, তাড়াতাড়ি না করলে।”
শিশুটির চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে এখনই অর্থের প্রয়োজন। কিন্তু পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য প্রায় শেষ।
একদিকে হাসপাতালের বিল।
অন্যদিকে আগের ঋণ।
তার ওপর চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেলে শিশুটিকে দেশে ফিরিয়ে আনার ভয়।
একটি পরিবার যেন একসঙ্গে তিনটি যুদ্ধ লড়ছে—শিশুর জীবন, হাসপাতালের বিল এবং নিজেদের ভেঙে পড়া অর্থনীতি।
কেমোথেরাপির প্রভাব, নাকি চিকিৎসাজনিত জটিলতা?
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও গুরুতর একটি অভিযোগ সামনে এসেছে।
তাদের দাবি, আলিফের বর্তমান শারীরিক সংকট শুধু কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে তৈরি হয়নি। বরং LP বা লাম্বার পাংচার/লম্বার পাংচার-সংক্রান্ত একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়ার সময় জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
পরিবারের সদস্যের দাবি, একজন জুনিয়র চিকিৎসকের কাছ থেকে তাঁরা জানতে পেরেছেন যে ওই প্রক্রিয়ার সময় স্পাইনাল কর্ডে গুরুতর ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ স্বীকার করেনি বলে পরিবার জানিয়েছে।
এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি—এই অভিযোগের স্বাধীন চিকিৎসাগত যাচাই আমাদের হাতে নেই। ফলে এটিকে নিশ্চিত চিকিৎসা-সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না।
কিন্তু অভিযোগটি গুরুতর। কারণ পরিবারের দাবি অনুযায়ী, এই জটিলতার পর থেকেই চিকিৎসা ব্যয় আরও বেড়েছে এবং আলিফের শারীরিক অবস্থাও আরও খারাপ হয়েছে।
একটি শিশুর শরীরের প্রতিটি অঙ্গ যেন এখন লড়াই করছে
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, আলিফ এখন নিজে স্বাভাবিকভাবে মলত্যাগ করতেও পারছে না। লিভারেও জটিলতা দেখা দিয়েছে। তার সারা শরীর দুর্বল ও নানা ধরনের চিকিৎসাজনিত জটিলতায় আক্রান্ত।
একজন স্বজনের কণ্ঠে তাই আতঙ্ক—
“ও যে কীভাবে সারভাইভ করতেসে… পুরো বডি ওর নষ্ট করে দিয়েছে।”
এই কথাটি হয়তো চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষা নয়। কিন্তু এটি একজন স্বজনের আতঙ্ক, অসহায়ত্ব ও ভেঙে পড়ার ভাষা।
হাসপাতালের সামনে টাকা, আর ঘরের ভেতর কান্না
আলিফের পরিবারের সবচেয়ে বড় সংকট এখন চিকিৎসা নয়—চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য।
পরিবারের সদস্য জানিয়েছেন, হাসপাতাল থেকে আর্থিক সহায়তার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা করা হয়নি। অর্থ জমা না দিলে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
অন্যদিকে পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যও নতুন ঋণে জর্জরিত।
এতদিনে আত্মীয়স্বজন, পরিচিতজন—যার কাছে পেরেছেন, সাহায্য চেয়েছেন।
কিন্তু সেখানেও হতাশা।
“আমার কোনো আত্মীয়ও পাশে নাই এই মুহূর্তে। মা না হইলেও ১৫ জনকে কল দিলো, মাত্র কেউ ধরে নাই। জানে টাকা চাইবে।”
একজন পরিবারের সদস্য যখন এই কথাগুলো বলেন, তখন বোঝা যায় অর্থের সংকট শুধু চিকিৎসার বিছানায় আঘাত করে না—এটি মানুষকে সামাজিকভাবেও কতটা একা করে দিতে পারে।
বিদেশে চিকিৎসা, কিন্তু বিপদে অসহায় বাংলাদেশি পরিবার
পরিবারের আরেকটি ভয়—বিদেশের হাসপাতালের সঙ্গে জটিলতা তৈরি হলে তারা আইনগতভাবেও অসহায় বোধ করছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা বা বাস্তব সুযোগ তাঁদের নেই বলে তারা জানিয়েছেন।
সবশেষে তাঁদের সামনে এক ভয়ংকর আশঙ্কা—
চিকিৎসা চালানো না গেলে আলিফকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।
কিন্তু এমন অবস্থায় ১২ বছরের শিশুকে বিদেশ থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা কতটা নিরাপদ, সেই প্রশ্নও পরিবারের সামনে।
তাঁরা বলছেন, দেশে ফেরার পর মাঝপথে কী হবে, কীভাবে চিকিৎসা চলবে—কিছুই তাঁরা জানেন না।
একটি শিশুর জীবন কি শুধু টাকার হিসাব?
এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
আলিফ কোনো পরিসংখ্যান নয়।
সে একটি পরিবারের সন্তান।
কারও আদরের ছেলে।
কারও ভাই।
কারও ভবিষ্যতের স্বপ্ন।
তার বয়স মাত্র ১২।
এই বয়সে শিশুর হাতে থাকার কথা বই, খেলার ব্যাট, স্কুলব্যাগ কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে হাসির গল্প।
কিন্তু আলিফের হাতে এখন হাসপাতালের কাগজ, পরীক্ষার রিপোর্ট আর জীবন বাঁচানোর চিকিৎসা।
তার পরিবার এখন প্রতিদিন নতুন একটি হিসাব করে—
আজ কত টাকা লাগবে?
আগামীকাল কোথা থেকে আসবে?
আর কতদিন চিকিৎসা চালানো সম্ভব?
এখনই সাহায্য না পেলে কী হবে?
পরিবারের বর্তমান বার্তা খুবই স্পষ্ট—
অর্থের দ্রুত ব্যবস্থা না হলে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
এটা কোনো রাজনৈতিক অনুদানের আবেদন নয়।
এটা কোনো ব্যবসায়িক প্রকল্প নয়।
এটা কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানের চাঁদা নয়।
এটা একটি শিশুর চিকিৎসার জন্য জরুরি মানবিক সহায়তার আবেদন।
আলিফের পরিবারের দাবি, এখন সামান্য সময়ের মধ্যেই অর্থের ব্যবস্থা করা না গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
আমাদের সমাজ কি আবারও একজন আলিফকে হারাতে বসেছে?
আমরা প্রায়ই বলি—মানুষ মানুষের জন্য।
কেউ অসুস্থ হলে আমরা দোয়া করি।
কেউ বিপদে পড়লে সহানুভূতি জানাই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট শেয়ার করি।
কিন্তু একজন শিশুর জীবন বাঁচাতে সবচেয়ে দরকার সময়মতো বাস্তব সহায়তা।
কেবল সমবেদনা দিয়ে আইসিইউর বিল দেওয়া যায় না।
কেবল কান্না দিয়ে ওষুধ কেনা যায় না।
কেবল দোয়া দিয়ে হাসপাতালের টাকা জমা দেওয়া যায় না—যদিও দোয়া কখনোই অমূল্য নয়।
তাই আলিফের মতো একটি শিশুর জন্য এখন প্রয়োজন দোয়ার সঙ্গে সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহযোগিতাও।
আলিফের পরিবারের শেষ আকুতি
পরিবারের ভাষায়, তারা আর কাউকে হারাতে চায় না। তারা শুধু চায় চিকিৎসা যেন বন্ধ না হয়।
একজন স্বজনের কণ্ঠে সেই আকুতি—
“যদি পারেন, কাইন্ডলি একটু… অনেক উপকার হতো।”
এই “একটু”-র অর্থ হয়তো কারও কাছে কয়েকশ টাকা, কারও কাছে কয়েক হাজার, কারও কাছে আরও বেশি।
কিন্তু একটি শিশুর জন্য অনেক মানুষের ছোট ছোট সহযোগিতাই একসময় হয়ে উঠতে পারে বেঁচে থাকার বড় আশ্রয়।
শেষ কথা
আমরা জানি না আলিফ শেষ পর্যন্ত আমাদের কাছে ফিরে আসবে কি না।
চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন কি না, তাও পরিবারের বাইরে থেকে নিশ্চিত করে বলা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
কিন্তু আমরা এটুকু জানি—
একজন ১২ বছরের শিশু এখনো বেঁচে থাকার লড়াই করছে।
আর তার পরিবারের হাতে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য ফুরিয়ে আসছে।
এই লড়াইয়ে শেষ সিদ্ধান্ত হয়তো চিকিৎসকরা নেবেন, কিন্তু পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তটা নিতে পারে সমাজ।
একজন মানুষ একা হয়তো আলিফকে বাঁচাতে পারবেন না।
কিন্তু অনেক মানুষ মিলে হয়তো হাসপাতালের সেই বিলটা জমা দিতে পারবেন, যেটা আজ একটি শিশুর চিকিৎসা চালু থাকার শর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আলিফের জন্য সময় খুব কম।
তাই সাহায্যের সময়ও এখনই।
আল্লাহ ছোট্ট আলিফকে সুস্থ করে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিন। আমিন।
🆘 যেভাবে আলিফের পাশে দাঁড়াতে পারেন
💳 ইসলামী ব্যাংক — ক্যান্টনমেন্ট শাখা
হিসাবধারী: সুলতান মাহমুদ মিয়া (আলিফের বাবা)
অ্যাকাউন্ট নম্বর: 20502030204396400
রাউটিং নম্বর: 125260738
💳 ট্রাস্ট ব্যাংক — প্রিন্সিপাল শাখা
হিসাবধারী: সুলতান মাহমুদ মিয়া
অ্যাকাউন্ট নম্বর: 00020310835397
রাউটিং নম্বর: 240275358
📲 বিকাশ/নগদ (পার্সোনাল): 01789199683
📞 ভারত থেকে যোগাযোগ: +91 78260 07194
নাগরিক দর্পণ | মানবিক ফলোআপ প্রতিবেদন




