কোনো মন্ত্রী প্রত্যাশা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে না পারলে দপ্তর পুনর্বণ্টন বা নতুন দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী; ১৮০ দিনের মধ্যে পরিবর্তন হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়
ঢাকা | ২১ জুলাই ২০২৬
সরকারের কোনো মন্ত্রী প্রত্যাশা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে না পারলে প্রয়োজন অনুযায়ী দপ্তর পুনর্বণ্টন অথবা নতুন কাউকে দায়িত্ব দিতে পারেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে সরকারের ১৮০ দিন পূর্তির পরই মন্ত্রিসভায় রদবদল হবে, নাকি আরও সময় লাগবে—সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রশ্ন ছিল, বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের মধ্যে মন্ত্রিসভায় কোনো রদবদলের আলোচনা চলছে কি না।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও মন্ত্রিসভায় রয়েছেন ২৪ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করছেন ১০ জন উপদেষ্টা। প্রচলিত রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত।
প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটি মন্ত্রিসভা ও একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেছেন। তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে আলোচনার ভিত্তিতে তিনি মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী যদি কখনো মনে করেন কোনো সদস্য প্রত্যাশিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না, তাহলে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তর পুনর্বণ্টন অথবা নতুন কাউকে দায়িত্ব দিতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। সরকারের কার্যক্রম আরও কার্যকর করার সুযোগ থাকলে প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে সম্ভাব্য এ ধরনের পরিবর্তন সরকারের ১৮০ দিন পূর্তির পরই হবে, নাকি আরও পরে—এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
সাইবার বুলিং ও অপতথ্য মোকাবিলায় আইনজীবী প্যানেল
সংবাদ সম্মেলনে তথ্য উপদেষ্টা আরও জানান, সাইবার বুলিং এবং অপতথ্য-সংক্রান্ত আইনগত বিষয় দেখভালের জন্য একটি আইনজীবী প্যানেল গঠন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। এ সময় তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদও উপস্থিত ছিলেন।
রাজনৈতিক তাৎপর্য
বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোয় মন্ত্রীদের দপ্তর পুনর্বণ্টন বা মন্ত্রিসভায় রদবদলের সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে রয়েছে। তবে এ ধরনের পরিবর্তন সাধারণত সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকার, প্রশাসনিক প্রয়োজন কিংবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতার মূল্যায়নের ভিত্তিতে হয়ে থাকে।
ডা. জাহেদ উর রহমানের বক্তব্যে সম্ভাব্য রদবদলের ইঙ্গিত থাকলেও তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময় বা সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।
তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন, সমকাল, অর্থসংবাদ।



