Homeটুডে স্পোর্টস'ফুটবল ছেড়ো না বাবা'—কাঁদতে থাকা নেইমারকে বাবার আর্তি; শেষ কি সত্যিই শেষ?

‘ফুটবল ছেড়ো না বাবা’—কাঁদতে থাকা নেইমারকে বাবার আর্তি; শেষ কি সত্যিই শেষ?


ব্রাজিলের বিদায়ের রাতে ভেঙে পড়লেন নেইমার, কিন্তু একজন এখনো বিশ্বাস করেন—গল্পটা শেষ হয়নি

স্পোর্টস ডেস্ক | টুডে স্পোর্টস

একজন ছেলে কাঁদছিলেন।
একজন বাবা তাকিয়ে ছিলেন।

নিউ জার্সির আলো ঝলমলে স্টেডিয়ামে যখন শেষ বাঁশি বাজল, তখন শুধু একটি ম্যাচ শেষ হয়নি—হয়তো শেষ হয়ে গেল ব্রাজিল ফুটবলের একটি যুগও।

নরওয়ের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নেয় ব্রাজিল। শেষ বাঁশির পর হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন নেইমার। চোখে অশ্রু, মুখে হতাশা। কিছুক্ষণ পর তিনি ইঙ্গিত দেন, জাতীয় দলের জার্সিতে এটাই ছিল তাঁর শেষ ম্যাচ।

কিন্তু সেই মুহূর্তে একজন মানুষ এখনো হার মানেননি—তাঁর বাবা।

এক বাবার আবেগঘন চিঠি

ইনস্টাগ্রামে দীর্ঘ এক আবেগঘন বার্তায় নেইমার সিনিয়র লিখেছেন—

“আমরা অনেক দূর একসঙ্গে এসেছি। ছোট্ট যে ছেলেটা পায়ে বল নিয়ে স্বপ্ন দেখত, সে একদিন বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হবে—ভাবিনি।”

এরপরই আসে সেই আবেদন, যা এখন বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে—

“বাবা, তুমি ফুটবল খেলা চালিয়ে যাও।”

এটি শুধু একজন বাবার অনুরোধ নয়; এটি যেন কোটি সমর্থকের মনের কথাই।

মেটলাইফে শুরু, মেটলাইফেই সমাপ্তি?

ভাগ্যের কী অদ্ভুত নির্মাণ!

২০১১ সালে যে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ব্রাজিলের জার্সিতে নিজের যাত্রা শুরু করেছিলেন নেইমার, প্রায় দেড় দশক পর সেই একই স্টেডিয়ামে হয়তো শেষবারের মতো জাতীয় দলের হয়ে মাঠ ছাড়লেন তিনি।

ফুটবলের গল্পগুলো কখনো কখনো সিনেমার চেয়েও নাটকীয় হয়।

অসমাপ্ত বিশ্বকাপের গল্প

এই বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেও কেউ নিশ্চিত ছিলেন না, নেইমার আদৌ খেলতে পারবেন কি না।

দীর্ঘ চোট, ফর্মহীনতা, জাতীয় দল থেকে দীর্ঘ অনুপস্থিতি—সবকিছু কাটিয়ে তিনি বিশ্বকাপ দলে ফিরেছিলেন। কিন্তু ভাগ্য যেন আবারও নিষ্ঠুর।

ব্রাজিল বিদায় নিল, আর নেইমারের বিশ্বকাপ স্বপ্নও থেমে গেল শেষ ষোলোতেই।

চার বিশ্বকাপ, কিন্তু অধরা সোনালি ট্রফি

নেইমার বিশ্বকাপ খেলেছেন চারবার।

প্রতিবারই প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া। কিন্তু প্রতিবারই কোনো না কোনো বাধা এসে দাঁড়িয়েছে।

কখনো চোট, কখনো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ, কখনো দলগত ব্যর্থতা।

শেষ পর্যন্ত ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম প্রতিভাবান এই ফুটবলারের ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপ ট্রফি আর ধরা দিল না।

শেষ গোল, শেষ কান্না

নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের একমাত্র গোলটি করেন নেইমারই।

কিন্তু সেই গোলও হার এড়াতে পারেনি।

শেষ বাঁশির পর ক্যামেরায় ধরা পড়ে এক অসহায় মুখ। মাথা নিচু, চোখে জল, দু’হাত আকাশের দিকে তুলে প্রার্থনার ভঙ্গি।

এমন দৃশ্য শুধু একজন ফুটবলারের নয়—এটি ছিল একটি অপূর্ণ স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি।

তবু কি শেষ?

নেইমার জাতীয় দলকে বিদায় জানাতে পারেন।

কিন্তু ক্লাব ফুটবল?

এখনো তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি।

আর তাই তাঁর বাবার সেই একটি বাক্যই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—

“ফুটবল ছেড়ো না বাবা।”

হয়তো এটাই শেষ নয়।

হয়তো আরেকবার দেখা যাবে তাঁকে।

হয়তো অন্য কোনো জার্সিতে, অন্য কোনো স্টেডিয়ামে।

কারণ কিংবদন্তিদের গল্প কখনো শেষ হয় না—তারা শুধু নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments