কনটেন্ট ফাইল জটিলতা কাটিয়ে প্রথম দিনেই দর্শকদের তুমুল প্রশংসা; মারদাঙ্গা অ্যাকশনের বাইরে গিটার হাতে নতুন শাকিবকে নিয়ে উন্মাদনা
ঢাকা | ২৯ মে ২০২৬
সব ধরনের শঙ্কা ও জটিলতা কাটিয়ে এই ঈদের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হিসেবে দেশজুড়ে রেকর্ডসংখ্যক প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান অভিনীত নতুন সিনেমা ‘রকস্টার’। ডিজিটাল সিনেমা প্যাকেজ (DCP) তথা কনটেন্ট ফাইল সংক্রান্ত জটিলতার কারণে মুক্তির ঠিক আগের মুহূর্ত পর্যন্ত মাল্টিপ্লেক্সে প্রদর্শনী নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও, শেষ মুহূর্তে সব সংকট কেটে গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ মে) মুক্তির প্রথম দিনেই দর্শকদের অভূতপূর্ব সাড়া ও টিকিটের উপচে পড়া চাহিদার মুখে ঢাকার জনপ্রিয় মাল্টিপ্লেক্স চেইন স্টার সিনেপ্লেক্স তাদের শো সংখ্যা এক ধাক্কায় ১৮টি থেকে বাড়িয়ে ৩৬টি অর্থাৎ ঠিক দ্বিগুণ করেছে।
🎬 ডিসিপি জটিলতা নিরসন ও টিকিট বিক্রির ধুম
গত ঈদুল ফিতরে শাকিব খান অভিনীত ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন অ্যা টাইম ইন ঢাকা’ সিনেমার ক্ষেত্রেও একই ধরনের ডিসিপি জটিলতা দেখা দিয়েছিল, যার ফলে প্রথম কয়েক দিন মাল্টিপ্লেক্সে সিনেমাটি চালানো সম্ভব হয়নি। এবারও ‘রকস্টার’ এবং ‘মাসুদ রানা’ সিনেমার কনটেন্ট ফাইল সময়মতো হাত না পৌঁছানোয় স্টার সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ তাদের ফেসবুক পেজে শো-সূচি প্রকাশ ও টিকিট বিক্রি সাময়িক স্থগিতের ঘোষণা দিলে সিনেমাপ্রেমীদের মাঝে তীব্র শঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে।
তবে গতকাল বিকেলেই ছবির পরিচালক আজমান রুশো সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে ঈদের দিন থেকেই সিনেমাটি চলার সুখবর নিশ্চিত করেন। গতকাল রাত ১২টার পর থেকেই স্টার সিনেপ্লেক্স তাদের সব শাখায় অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করে। আজ শুক্রবার সকালে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বেশির ভাগ প্রদর্শনীর টিকিটই প্রায় শেষের পথে (সোল্ড আউট)।
📦 প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা ও নির্মাণের নেপথ্য গল্প
সিনেমার নির্বাহী প্রযোজক অজয় কুমার কুন্ডু প্রকাশিত অফিশিয়াল তালিকা অনুযায়ী, মাল্টিপ্লেক্স চেইন ও একক (সিঙ্গেল) হল মিলিয়ে দেশজুড়ে মোট ১০৩টি প্রেক্ষাগৃহে একযোগে প্রদর্শিত হচ্ছে ‘রকস্টার’, যা এই ঈদের সর্বোচ্চ হল সংখ্যা।
প্রথাগত মারদাঙ্গা অ্যাকশন বা চটকদার আইটেম গানের চেনা ধারার বাইরে গিয়ে একজন সংগীতশিল্পীর জীবনসংগ্রাম, উত্থান–পতন এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলো এই সিনেমায় তুলে ধরা হয়েছে। পরিচালক আজমান রুশো জানান, চলচ্চিত্র নির্মাণে আসার আগে তিনি নিজেও সরাসরি সংগীতের সাথে যুক্ত ছিলেন। ফলে নিজের জীবন এবং বাস্তব জীবনের বিভিন্ন রকস্টারদের নানা চড়াই-উতরাইয়ের অভিজ্ঞতার মিশেলেই তিনি এই ভিন্নধর্মী গল্পটি তৈরি করেছেন।
🎵 গান, কলাকুশলী ও কাস্টিং প্যানেল
একটি মিউজিক্যাল ড্রামা ঘরানার সিনেমা হওয়ায় ‘রকস্টার’-এর অন্যতম প্রধান শক্তি এর গানগুলো। সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার পর দর্শক মহলে এর গান ও আবহ সংগীত বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।
- প্রধান অভিনয়শিল্পী: শাকিব খান এবং তাঁর তিন নায়িকা—সাবিলা নূর, তানজিয়া মিথিলা ও সুনিধি নায়েক।
- পরিচালনা ও মূল গল্প: আজমান রুশো।
- চিত্রনাট্য ও সংলাপ: চিত্রনাট্য লিখেছেন নুসরাত মাটি; সংলাপ যৌথভাবে লিখেছেন আয়মান আসিব ও সামিউল ভূঁইয়া।
- সংগীত ও কণ্ঠ: সিনেমার বেশির ভাগ গানের কথা লিখেছেন, সুর করেছেন এবং কণ্ঠ দিয়েছেন আহমেদ হাসান সানি। এ ছাড়া গান লিখেছেন রাজীব হাসান, হাসান রোবায়েত ও অংকন।
- সংগীত পরিচালনা: জাহিদ নিরব।
- প্রযোজনা ও স্ট্রিমিং পার্টনার: অঞ্জন চৌধুরী নিবেদিত সান মোশন পিকচার্স লিমিটেড। ছবিটির এক্সক্লুসিভ ডিজিটাল স্ট্রিমিং পার্টনার ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘চরকি’।
📢 “নতুন এক শাকিবকে তুলে ধরতে চেয়েছি”
গতকাল সিনেমাটি মুক্তির পর থেকে ঢাকার বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া দেখতে হলে হলে ঘুরছেন পরিচালক আজমান রুশো ও প্রধান অভিনেত্রী সাবিলা নূর। প্রথাগত বাণিজ্যিক ফর্মুলার বাইরে রোমান্টিক ও ঘরোয়া আবহে শাকিব খানকে দেখে দর্শকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ইতিবাচক রিভিউ দিচ্ছেন।
সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পরিচালক আজমান রুশো বলেন:
“আমরা ‘রকস্টার’–এর মাধ্যমে দর্শকদের সামনে সম্পূর্ণ নতুন এক শাকিব খানকে তুলে ধরতে চেয়েছি। এই সিনেমায় কোনো অবাস্তব অ্যাকশন বা চটকদার আইটেম গান নেই। এত দিন ধরে যে বাণিজ্যিক ধারা চলে আসছিল, সেখান থেকে আমরা নতুন কিছু উপহার দেওয়ার চেষ্টা করেছি। ভালো লাগা বা মন্দ লাগা মানুষের আপেক্ষিক বিষয়, সিনেমাটি দর্শকদের পুরোপুরি কেমন লাগছে তা বুঝতে আমাদের আরও কিছুটা সময় লাগবে।”
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রথম দিনেই মাল্টিপ্লেক্সে শোর সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়া এবং একক হলগুলোতে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় সারণি ইঙ্গিত করছে যে, সব শঙ্কা কাটিয়ে ‘রকস্টার’ এই ঈদের অন্যতম শীর্ষ বাণিজ্যিক সফল সিনেমার তালিকায় নাম লেখাতে যাচ্ছে।
📌 তথ্যসূত্র:
- স্টার সিনেপ্লেক্স ও সান মোশন পিকচার্স লিমিটেড অফিশিয়াল প্রেস রিলিজ
- ভেরিফাইড স্থানীয় গণমাধ্যম (প্রথম আলো বিনোদন ডেস্ক)
- থিয়েটার অন-গ্রাউন্ড বুকিং স্ট্যাটিস্টিকস ও চরকি (Chorki) মিডিয়া ফাইলস (মে ২০২৬)



