Homeটুডে নেশনঢাকায় পশুর হাটে ডিএমপির ত্রিমাত্রিক নিরাপত্তা: বসছে সিসিটিভি ও ওয়াচ টাওয়ার, গ্রেপ্তার...

ঢাকায় পশুর হাটে ডিএমপির ত্রিমাত্রিক নিরাপত্তা: বসছে সিসিটিভি ও ওয়াচ টাওয়ার, গ্রেপ্তার ১৯০০ অপরাধী

ঢাকা | ২২ মে ২০২৬

আগামী ২৮ মে দেশজুড়ে উদযাপিত হতে যাওয়া পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার পশুর হাটগুলোতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত ও ত্রিমাত্রিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এর অংশ হিসেবে দুই সিটি করপোরেশনের মোট ২৭টি পশুর হাটে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, সার্বক্ষণিক পুলিশ ক্যাম্প ও ওয়াচ টাওয়ার চালুর পাশাপাশি জাল নোট চক্র ও চাঁদাবাজ রোধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আজ শুক্রবার (২২ মে) ডিএমপির মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরউদ্দিন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) এই বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, হাটের আশপাশে ক্রেতা, বিক্রেতা ও পশুবাহী যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ দলও মাঠে থাকবে।

নিরাপত্তা ও নজরদারির মূল কৌশলসমূহ

রাজধানীর পশুর হাট ও সংলগ্ন প্রবেশপথগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডিএমপির পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ডেটা পয়েন্ট ও নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে:

  • হাটের বিন্যাস: এ বছর রাজধানীতে মোট ২৭টি পশুর হাট বসবে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অধীনে ১৬টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অধীনে ১১টি হাট পরিচালিত হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জায়গা অধিগ্রহণ করায় এবার স্থায়ী সারুলিয়া পশুর হাটটি বন্ধ থাকবে। অস্থায়ী হাটগুলোতে ঈদের দিনসহ মোট পাঁচ দিন বেচাকেনা চলবে।
  • প্রযুক্তিগত নজরদারি: সবকটি পশুর হাটকে স্থায়ী সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে। কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে উচু ওয়াচ টাওয়ার এবং অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে।
  • ২৪ ঘণ্টা চেকপোস্ট: ঢাকার প্রবেশ ও বাহিরমুখী প্রধান সড়কগুলোতে ২৪ ঘণ্টা সচল পুলিশ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এছাড়া গাড়ি ও মোটরসাইকেলসজ্জিত বিশেষ টহল দল (মোবাইল টিম) সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাবে।

জাল নোট প্রতিরোধ ও ‘মানি এসকর্ট’ সেবা

ঈদের মৌসুমে বড় অঙ্কের লেনদেনকে কেন্দ্র করে জাল নোটের বিস্তার রোধে ডিএমপির পক্ষ থেকে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরউদ্দিন বলেন, “ডিএমপির পক্ষ থেকে আমরা হাটগুলোতে ১৫০টি জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন সরবরাহ করব।” এর পাশাপাশি সিটি করপোরেশন, সংশ্লিষ্ট ইজারাদার ও ব্যাংকগুলোকেও অতিরিক্ত মেশিনের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১ মে থেকে শুরু হওয়া বিশেষ অভিযানে ইতিমধ্যে জাল নোট ও তা তৈরির সরঞ্জামসহ বেশ কয়েকজন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতারা যাতে হাটে বড় অঙ্কের অর্থ নিরাপদে বহন করতে পারেন, সেজন্য ডিএমপির ঐতিহ্যবাহী ‘মানি এসকর্ট’ বা পুলিশি পাহারায় অর্থ পরিবহন সেবা এবারও চালু থাকবে। যেকোনো ব্যবসায়ী চাইলে এই নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পের সহায়তা নিতে পারবেন।

ছিনতাই ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি

ঈদকে কেন্দ্র করে অজ্ঞানপার্টি, মলমপার্টি, ছিনতাইকারী ও চাঁদাবাজদের তৎপরতা বন্ধে গত ১ মে থেকে ঢাকা জুড়ে বিশেষ চিরুনি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। ডিএমপির মুখপাত্র জানান, এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৯০০ জনেরও বেশি অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

📊 অপরাধী গ্রেপ্তারের খতিয়ান:

  • মোট গ্রেপ্তার: ১,৯০০+ জন (ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজ)
  • তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ: প্রায় ২০০ জন
  • তালিকাবহির্ভূত চাঁদাবাজ: প্রায় ৪০০ জন

ডিএমপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, পশুবাহী ট্রাকে বা হাটে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না এবং ঈদের শেষ দিন পর্যন্ত এই দমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।

শপিং মল ও আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা

পশুর হাটের পাশাপাশি ঈদ কেনাকাটার শেষ মুহূর্তে প্রধান শপিং মল ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে নারী পুলিশ সদস্যসহ অতিরিক্ত বল মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া, ঈদের ছুটিতে রাজধানী ছেড়ে বিপুল সংখ্যক নগরবাসী গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়ায় ফাঁকা আবাসিক এলাকাগুলোতে চুরি-ডাকাতি ও লকার ভাঙার মতো অপরাধ প্রতিরোধে নিয়মিত টহল দলের পাশাপাশি ডিএমপির বিশেষ গোয়েন্দা দল (ডিবি) সতর্ক অবস্থানে থাকবে। একই সাথে যানজট নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে দুই সিটি করপোরেশনের ইজারাদারদের সাথে পুলিশ সমন্বয় করে কাজ করছে।

  • [তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া সেল]
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular