Homeটুডে হেলথদেশে হামে শিশুমৃত্যু ৫০০ ছুঁইছুঁই: ঢাকা বিভাগে প্রাণহানি সবচেয়ে বেশি, মোট আক্রান্ত...

দেশে হামে শিশুমৃত্যু ৫০০ ছুঁইছুঁই: ঢাকা বিভাগে প্রাণহানি সবচেয়ে বেশি, মোট আক্রান্ত ৬৮ হাজার পার

ঢাকা | ২২ মে ২০২৬ দেশে হাম ও হামজনিত জটিলতার উপসর্গ নিয়ে শিশুমৃত্যুর তালিকা দিন দিন আরও দীর্ঘ হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম ও এর উপসর্গে নতুন করে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে গত ১৫ মার্চের পর থেকে দেশে এই রোগে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯৯ জনে, যা প্রায় ৫০০-এর কোটায় পৌঁছেছে। নতুন করে প্রাণ হারানো শিশুদের মধ্যে দুজন ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে এবং বাকি ৯ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।

আজ শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত দেশের হাম-সংক্রান্ত নিয়মিত দৈনিক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত মাঠপর্যায়ের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চের পর থেকে দেশে হামের প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর বর্তমান পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো:

📊 হাম-সংক্রান্ত সামগ্রিক ডেটা পয়েন্ট:

  • মোট মৃত্যু: ৪৯৯ জন (নিশ্চিত হামে ৮৫ জন, সন্দেহভাজন বা উপসর্গে ৪১৪ জন)।
  • মোট আক্রান্তের সংখ্যা: ৬৮ হাজার ৮৬৯ জন (ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম ৮,৩২৯ জন, সন্দেহভাজন আক্রান্ত ৬০,৫৪০ জন)।
  • হাসপাতালে ভর্তি: এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৭ হাজার ৫১১ জন।
  • সুস্থতার হার: চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৩ হাজার ৪১১ জন।

বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর চিত্র: শীর্ষে ঢাকা

প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশের আটটি বিভাগের মধ্যে ঢাকা বিভাগে হামের প্রকোপ ও মৃত্যু সবচেয়ে বেশি। ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হাম এবং সন্দেহভাজন বা উপসর্গযুক্ত হাম—উভয় ক্ষেত্রেই ঢাকা বিভাগ শীর্ষে রয়েছে।

বিভাগের নামনিশ্চিত হামে মৃত্যু (জন)সন্দেহভাজন/উপসর্গে মৃত্যু (জন)
ঢাকা৫০১৬০
রাজশাহী০২৭৯
সিলেট০৩৪৫
চট্টগ্রাম১০৪০
ময়মনসিংহ০২৩৪
বরিশাল১৮৩০
খুলনা০০২১
রংপুর০০০৫
সর্বমোট৮৫৪১৪

জরুরি স্বাস্থ্য সেবা ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া

দেশে হঠাৎ হামের এই ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের মুখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আক্রান্ত রোগীদের জন্য বিশেষায়িত আইসোলেশন ইউনিট চালু করেছে। পাশাপাশি জরুরি স্থানান্তরের জন্য মাত্র ১০০ টাকায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, শিশুদের মধ্যে হামে মৃত্যুর এই ক্রমবর্ধমান সংখ্যায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। দেশের টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা এবং প্রান্তিক শিশুদের পুষ্টি ও চিকিৎসার আওতা বাড়াতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে সরকারের কাছে ৫ দফা দাবিতে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৯ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের হাম-রুবেলা (এমআর) টিকার বিশেষ ডোজ নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন।

  • [তথ্যসূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস) হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের দৈনিক প্রতিবেদন]
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular