দুই বছরের চুক্তিতে হামজা-জামালদের দায়িত্ব নিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক বিশ্বকাপ অধিনায়ক; প্রথম মিশন ৫ জুন সান মারিনোর বিপক্ষে
ঢাকা | ২২ মে ২০২৬
অবশেষে অবসান হলো দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানামুখী জল্পনা-কল্পনার। প্রায় ২৫০টি জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাই এবং কয়েক দফা ইন্টারভিউ শেষে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে টমাস ডুলিকে বেছে নিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। আজ শুক্রবার সকালে বাফুফে তাদের অফিশিয়াল সামাজিক মাধ্যম হ্যান্ডেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেয়। ৬৫ বছর বয়সী এই জার্মান বংশোদ্ভূত আমেরিকান কোচ আজ সকালেই ঢাকায় পা রেখেছেন এবং বিকেলে বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসপিএ) ‘কুল-বিএসপিএ স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠানে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে সবার সামনে পরিচয় করিয়ে দেন।
বাফুফে আগামী দুই বছরের জন্য হামজা চৌধুরী ও জামাল ভূঁইয়াদের দলের ডাগআউট সামলানোর দায়িত্ব দিয়েছে ডুলির হাতে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী রোববার থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতীয় দলের কন্ডিশনিং ক্যাম্পে যোগ দেবেন তিনি। আগামী ৫ জুন সান মারিনোর বিপক্ষে একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ দিয়ে লাল-সবুজের ডাগআউটে তাঁর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে।
অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ প্রোফাইল: খেলোয়াড় ও কোচ ডুলি
টমাস ডুলির খেলোয়াড়ি ও কোচিং প্রোফাইল উভয়ই আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিরিখে বেশ ভারী। জন্মসূত্রে জার্মান হলেও মাঠের ফুটবলে তিনি প্রতিনিধিত্ব করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের।
টমাস ডুলির ক্যারিয়ারের মূল পরিসংখ্যান ও অর্জনসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:
- আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার: যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ৭ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে ৮১ ম্যাচে মাঠে নেমেছেন এবং গোল করেছেন ৭টি।
- বিশ্বকাপের মঞ্চ: ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে স্বাগতিক দলের হয়ে ৪টি ম্যাচের সবকটিতেই খেলেন। চার বছর পর, ১৯৯৮ বিশ্বকাপে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অধিনায়ক হিসেবে দল পরিচালনা করেন।
- ক্লাব ফুটবল: জার্মানির বিখ্যাত ক্লাব বায়ার লেভারকুসেন ও শালকের হয়ে খেলেছেন। ১৯৯৭ সালে শালকের হয়ে উয়েফা কাপ (বর্তমানে ইউরোপা লিগ) এবং এফসি কাইজারস্লাটার্নের হয়ে ১৯৯০–৯১ মৌসুমে বুন্দেসলিগা শিরোপা জেতেন। ক্লাব ক্যারিয়ারে মোট ৪৩৩ ম্যাচে তাঁর গোল সংখ্যা ৬৪টি।
- কোচিং ও পরিচালনা: ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের প্রধান কোচ ইয়ুর্গেন ক্লিন্সম্যানের সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। এরপর ফিলিপাইন জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়ে দলটিকে অপরাজিত রেখে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে তোলেন এবং দেশটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ ফিফা র্যাঙ্কিং নিশ্চিত করেন। এছাড়া ভিয়েতনামের ক্লাব ‘ভিয়েতেল’-এর স্পোর্টিং ডিরেক্টর এবং আফ্রিকার দেশ গায়ানা জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যেখানে তাঁর অধীনে দল শতভাগ জয় পায়।
বাস্তবসম্মত লক্ষ্য ও ফুটবল দর্শনের তাগিদ
বিএসপিএর অনুষ্ঠান মঞ্চে দাঁড়িয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে টমাস ডুলি বাংলাদেশ ফুটবলকে নিয়ে তাঁর প্রাথমিক পরিকল্পনার কথা জানান। বর্তমানে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১৮০-এর আশপাশে থাকা বাংলাদেশকে একটি সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যাওয়া তাঁর প্রধান লক্ষ্য। ডুলি বলেন,
“আমার লক্ষ্য হলো র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশকে ১৬০ বা ১৫০-এর মধ্যে নিয়ে আসা। লক্ষ্য বাস্তবসম্মত হতে হবে। ১৬০-এর নিচে আসা অবশ্যই বাস্তবসম্মত, তবে আগামীকালই নয়; হয়তো এক বছরের মধ্যে আমরা তা অর্জন করতে পারব।”
২০০৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের পর বড় কোনো আঞ্চলিক ট্রফি না পাওয়া বাংলাদেশের ফুটবলারদের মানসিকতায় বড় পরিবর্তনের তাগিদ দিয়েছেন এই নতুন কোচ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, মাঠের প্রথাগত কৌশলে বদল এনে বলের পেছনে না ছুটে, বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে সুন্দর ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার দর্শন তৈরি করতে চান তিনি। ফুটবলারদের কঠোর পরিশ্রম ও ত্যাগের মানসিকতাই বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে বলে মনে করেন এই মার্কিন কিংবদন্তি।
- [তথ্যসূত্র: বাফুফে অফিশিয়াল স্টেটমেন্ট, বিএসপিএ মিডিয়া ব্রিফিং]



