Homeটুডে নেশনপল্লবীর শিশুহত্যা: নিহত রামিসার পরিবারের পাশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পল্লবীর শিশুহত্যা: নিহত রামিসার পরিবারের পাশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

“আমি সারাজীবন কী করে এ দৃশ্য দেখে বেঁচে থাকবো স্যার!
আমি জানি না, আল্লাহ আমারে কী পরীক্ষায় ফেলছে।
মৃত্যু ছাড়া আমার আর কোনো পথ নাই, স্যার!”
— নিহত শিশু রামিসার বাবা, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়

ঢাকা | ২২ মে ২০২৬ — রাজধানীর পল্লবীতে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার আট বছর বয়সী শিশু রামিসার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার রাতের দিকে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে তিনি পল্লবীতে নিহত শিশুটির বাসায় যান এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি তাদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান এবং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাক্ষাতের সময় নিহত শিশুটির বাবা আবেগাপ্লুত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে মেয়ের কিছু ছবি দেখানোর চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি অত্যন্ত বেদনাদায়ক হয়ে ওঠে। পরে প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং শিশুটির ছোট বোনের দায়িত্ব নেওয়ার কথাও জানান বলে পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র দাবি করেছে। তবে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

প্রেস উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন

পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা গত মঙ্গলবার সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। পরে পাশের একটি ফ্ল্যাট থেকে তার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা শিশুটিকে ফুসলিয়ে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত শিশুটির বাবা ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে তাদেরসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও একজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারের পর সোহেল রানা আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তবে মামলার তদন্ত এখনো চলমান থাকায় পুলিশ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

📌 ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • ঘটনাস্থল: পল্লবী, ঢাকা
  • নিহত: ৮ বছর বয়সী এক শিশু (রামিসা)
  • ঘটনার সময়: মঙ্গলবার সকাল থেকে নিখোঁজ, পরে মরদেহ উদ্ধার
  • অভিযোগ: ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যা
  • গ্রেপ্তার: সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার
  • প্রধানমন্ত্রীর সফর: বৃহস্পতিবার রাত
  • তদন্তকারী সংস্থা: পল্লবী থানা পুলিশ

🔎 বিশ্লেষণ:
সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও নৃশংস অপরাধের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত বিচার ও কার্যকর সামাজিক নজরদারি ছাড়া এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ কঠিন হয়ে পড়বে।

এদিকে, রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। শিশুটির পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বিভিন্ন মহল থেকে আহ্বান জানানো হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: বাসস, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং, পুলিশ সূত্র, প্রথম আলো

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular