লুইজিয়ানার আইনি চ্যালেঞ্জের মুখেও টেলিমেডিসিন ও ডাকযোগে ‘মিফেপ্রিস্টোন’ সরবরাহ চালু রাখার নির্দেশ দিলেন শীর্ষ আদালত।
ওয়াশিংটন | ১৫ মে ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক গুরুত্বপূর্ণ আদেশে জানিয়েছে যে, দেশটিতে গর্ভপাতের বড়ি (Abortion Pill) টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে প্রেসক্রিপশন করা এবং ডাকযোগে (Mail) সরবরাহ করা আগের মতোই অব্যাহত থাকবে। রিপাবলিকান শাসিত লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের পক্ষ থেকে এই সেবার ওপর কড়াকড়ি আরোপের আবেদন জানানো হলেও আদালত তা খারিজ করে দিয়েছেন।
আদালতের সিদ্ধান্ত ও পটভূমি
২০২৩ সালে বাইডেন প্রশাসনের সময় গৃহীত একটি নিয়মের মাধ্যমে মিফেপ্রিস্টোন (Mifepristone) বড়িটি ডাকযোগে পাওয়ার সুযোগ সহজ করা হয়েছিল। লুইজিয়ানা সরকার এই নিয়মের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করে। ১ মে নিউ অরলিন্সভিত্তিক একটি আপিল আদালত এই ডাকযোগে সেবা বন্ধ করে সরাসরি চিকিৎসকের কাছে গিয়ে বড়ি নেওয়ার নিয়ম ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্ট সেই নির্দেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করে আগের নিয়মটিই বহাল রেখেছেন।
সিদ্ধান্তের মূল পয়েন্ট:
- বড়ির প্রাপ্যতা: রোগীরা এখন সরাসরি ক্লিনিকে না গিয়েও টেলিমেডিসিনের পরামর্শ নিয়ে ডাকযোগে এই বড়ি সংগ্রহ করতে পারবেন।
- বিচারপতিদের অবস্থান: ৯ সদস্যের সুপ্রিম কোর্টে ৬-৩ রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও, আদালত সংক্ষিপ্ত আদেশে লুইজিয়ানার আবেদনটি বাতিল করেন। তবে রক্ষণশীল বিচারপতি স্যামুয়েল আলিটো এবং ক্ল্যারেন্স থমাস এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা (Dissent) করেছেন।
- বিরোধীদের যুক্তি: বিচারপতি থমাস যুক্তি দিয়েছেন যে, ‘কমস্টক অ্যাক্ট’ অনুযায়ী গর্ভপাতের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ড্রাগ ডাকযোগে পাঠানো নিষিদ্ধ।
মিফেপ্রিস্টোন এবং এর প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্রে মোট গর্ভপাতের প্রায় ৬৪ শতাংশ সম্পন্ন হয় এই মিফেপ্রিস্টোন বড়ি ব্যবহারের মাধ্যমে। ২০০০ সালে এফডিএ (FDA) এটি অনুমোদন করার পর থেকে কয়েক দশক ধরে এটি নিরাপদ হিসেবে প্রমাণিত। সাধারণত গর্ভধারণের প্রথম ১০ সপ্তাহের মধ্যে এটি ব্যবহার করা হয়।
🔎 বিশ্লেষণ: ডবস রায় পরবর্তী পরিস্থিতি
২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্ট ঐতিহাসিক ‘রো বনাম ওয়েড’ রায় বাতিল করার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাত অধিকার নিয়ে তীব্র সংঘাত চলছে। বর্তমানে ১৩টি অঙ্গরাজ্যে গর্ভপাত প্রায় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই অবস্থায় ডাকযোগে বড়ি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে গর্ভপাত সেবায় বড় ধরণের বিপর্যয় নেমে আসত বলে মনে করছেন অধিকারকর্মীরা।
বিভিন্ন পক্ষের প্রতিক্রিয়া
- অ্যাবোরশন কোয়ালিশন ফর টেলিমেডিসিন: সংগঠনের আইনি পরিচালক লিজি হিঙ্কলে বলেন, “রক্ষণশীল সুপ্রিম কোর্টও উগ্রপন্থীদের এই মরিয়া প্রচেষ্টাকে সমর্থন করতে রাজি হননি। এটি রোগীদের জন্য বড় স্বস্তি।”
- প্ল্যান্ড পেরেন্টহুড: সংগঠনের সভাপতি অ্যালেক্সিস ম্যাকগিল জনসন বলেন, “আদালত ন্যূনতম দায়িত্ব পালন করেছেন মাত্র, তবে এটি রোগীদের জন্য একটি বড় বিজয়।”
- ন্যাশনাল রাইট টু লাইফ (বিরোধী পক্ষ): সংগঠনের সভাপতি ক্যারল টোবিয়াস হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “এই সিদ্ধান্তের ফলে নারীরা শক্তিশালী গর্ভপাত ড্রাগের ঝুঁকির মুখে রয়ে গেলেন।”
📊 এক নজরে পরিসংখ্যান
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| মিফেপ্রিস্টোন অনুমোদন | ২০০০ সাল (FDA কর্তৃক) |
| গর্ভপাতে বড়ির ব্যবহার | ৬৪% (যুক্তরাষ্ট্রে মোট গর্ভপাতের) |
| ব্যবহারের সময়সীমা | গর্ভধারণের প্রথম ১০ সপ্তাহ পর্যন্ত |
| আদালতের বর্তমান রায় | ডাকযোগে সরবরাহ ও টেলিমেডিসিন বহাল |
উপসংহার: যদিও লুইজিয়ানার মূল মামলাটি এখনও আদালতে চলমান, তবে সুপ্রিম কোর্টের এই অন্তর্বর্তীকালীন রায়ের ফলে গর্ভপাত সেবা প্রত্যাশীরা বড় ধরণের সংকট থেকে রক্ষা পেলেন। সামনে নভেম্বরের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই ইস্যুটি মার্কিন রাজনীতিতে আরও উত্তাপ ছড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: অ্যান্ড্রু চুং, রয়টার্স এবং সুপ্রিম কোর্ট ডকেট।



