Homeটুডে ওয়ার্ল্ডদিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ঠেকাতে ব্যাপক অভিযান: ৭ হাজারের বেশি আটক, অজ্ঞাত...

দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ঠেকাতে ব্যাপক অভিযান: ৭ হাজারের বেশি আটক, অজ্ঞাত স্থানে সিজেপির তিন শীর্ষ নেতা

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন; যন্তর মন্তরে পৌঁছাতে না পেরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ, বিরোধীদের নতুন কর্মসূচি ১২ অক্টোবর

নয়াদিল্লি | ১১ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে শনিবার নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা, ব্যাপক ধরপাকড় ও রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা গেছে। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং বিভিন্ন ছাত্র-যুব সংগঠনের ডাকে যন্তর মন্তরে সমাবেশ হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে পৌঁছানোর আগেই বহু বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। বিরোধী দলের নেতা, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী, ছাত্রনেতা, আইনজীবী, সমাজকর্মী ও সাংবাদিকদেরও আটক করা হয়।

রাতের সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লিতে আটক ব্যক্তির সংখ্যা ৭ হাজার ছাড়িয়েছে বলে পুলিশ সূত্রের বরাতে জানিয়েছে দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া। এর আগে রয়টার্স সরকারি সূত্রের বরাতে দুই হাজারের বেশি আটকের তথ্য দিয়েছিল। দুই সংখ্যার পার্থক্য প্রতিবেদন প্রকাশের সময় ও তথ্যের উৎসের কারণে; তাই এটিকে একই সময়ে গণনা করা চূড়ান্ত সংখ্যা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা এখনো পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন বলে সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁদের কোথায় রাখা হয়েছে, তা প্রকাশ্যে স্পষ্ট না হওয়ায় দলটি উদ্বেগ জানিয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ সূত্র বলেছে, এই তিন নেতার ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। শনিবার রাত পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অন্য আটক বিক্ষোভকারীদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। তবে তিন নেতার মুক্তি বা তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে এর পরের কোনো নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

যন্তর মন্তরে কী ঘটেছে?

যন্তর মন্তরে সমাবেশের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। কিন্তু কর্মসূচি শুরুর আগেই এলাকাটি ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথে বসানো হয় তল্লাশিচৌকি। বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভকারীদের বাস ও পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে পরিকল্পিত সমাবেশস্থলে বড় জমায়েত করা সম্ভব হয়নি।

তবে আন্দোলন পুরোপুরি থামেনি। যন্তর মন্তরে পৌঁছাতে না পেরে বিক্ষোভকারীদের ছোট ছোট দল দিল্লির বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ শুরু করে। দিল্লি হাট, সফদরজং ফ্লাইওভার, কনট প্লেস, গোল মার্কেট, সংসদ মার্গ ও রাজঘাটের আশপাশে বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়। বাংলা সাহিব গুরুদ্বারার কাছেও বিক্ষোভকারীদের আটকের ঘটনা ঘটে।

পুলিশের বাধা অতিক্রম করে এগোনোর চেষ্টা এবং কয়েকটি স্থানে ধস্তাধস্তির অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, আকাশবাণী ভবন ও কনট প্লেসের কাছে পাথর ছোড়ার ঘটনায় সাত পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় একাধিক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলার কথাও জানিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তাঁদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করতে দেওয়া হয়নি এবং বিভিন্ন স্থানে লাঠিচার্জ করে আটক করা হয়েছে। এসব অভিযোগের সবগুলোর স্বাধীন যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।

অভিজিৎ দীপকে ও সিজেপির দুই নেতা কোথায়?

শনিবার সকালে মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানো একটি বিমানের ভেতর থেকেই অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে পুলিশ। তাঁদের আটক করার দৃশ্য সিজেপির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতেও দেখা যায়। দীপকেকে বলতে শোনা যায়, তিনি বিক্ষোভে অংশ নিতে দিল্লিতে এসেছেন এবং তাঁকে আটক করতে হলে যেন তা করা হয়।

এরপর তিন নেতাকে পৃথক স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে সিজেপির অভিযোগ। দলটির বক্তব্য, তাঁদের নির্দিষ্ট অবস্থান জানানো হয়নি; পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আইনজীবীর সহায়তা পাওয়ার সুযোগ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। শনিবার বিকেলের দিকে দলটি আরও দাবি করে, তিন নেতাকে আলাদা জায়গায় রাখা হয়েছে এবং তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁদের অবস্থান বা শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সিজেপি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট তথ্য পাচ্ছিল না বলে অভিযোগ করেছে। পুলিশ সূত্রের বক্তব্য, তিন নেতার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। ফলে তাঁদের অবস্থান নিয়ে দলের অভিযোগ এবং পুলিশের বক্তব্যের মধ্যে এখনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগত ফাঁক রয়েছে। প্রকাশ্যে তাঁদের অবস্থান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের ‘নিরুদ্দেশ’ বলার চেয়ে অজ্ঞাত স্থানে আটক বলা অধিক নির্ভুল।

এই ঘটনার মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে আরও বেদনাদায়ক পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন অভিজিৎ দীপকে। তাঁর ৮৫ বছর বয়সী দাদি সাবিত্রীবাই দীপকে শনিবার মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি জেলায় মারা যান। রোববার সকালে তাঁর শেষকৃত্য হওয়ার কথা ছিল। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ও শেষকৃত্যে যোগ দেওয়ার সুযোগ চেয়ে সিজেপি কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, দীপকেকে তাঁর দাদির মৃত্যুসংবাদ জানানো হয়েছে এবং বাড়ি ফেরার জন্য সহায়তার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি শেষকৃত্যে যোগ দিতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিশ্চিত তথ্য নেই।

মমতা, কেজরিওয়ালসহ বিরোধী নেতাদের আটক

বিক্ষোভ ঘিরে শুধু সিজেপির নেতারাই নন, বিরোধী রাজনীতির বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখও পুলিশের আটক অভিযানের শিকার হন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং কেরলের রাজনীতির শীর্ষ নেতা পিনারাই বিজয়ন। ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারকেও আটক করা হয়েছে বলে বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

এ ছাড়া সিপিআই(এম)-এর নেতা এম এ বেবি, বৃন্দা কারাট ও অন্য বামপন্থী নেতাদের আটক করার খবর পাওয়া যায়। সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব, বাম ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা এবং ইউটিউবার ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার ধ্রুব রাঠিও আটক হন। সিজেপির আইনি বিভাগের প্রধান রত্না সিংকে আটক করার অভিযোগও সামনে আসে। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের সাময়িকভাবে আটক করার তথ্যও রয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটকের পর উত্তর দ্বারকা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে তাঁর দলের দাবি। সেখান থেকে দেওয়া ভিডিওবার্তায় তিনি ও তৃণমূলের অন্য নেতারা পুলিশের পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানান। মমতা অভিযোগ করেন, তাঁদের পুলিশের গাড়িতে দীর্ঘ সময় ঘোরানো হয়েছে। এর প্রতিবাদে তিনি দলের কয়েকজন সংসদ সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে থানার বাইরে ধর্নায় বসেন এবং জল না খেয়ে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও ভিডিওবার্তায় বলেন, পুলিশ যতই মোতায়েন করা হোক, বিরোধীরা পিছিয়ে যাবে না। সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক আটক অভিযানকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে বলেন, পরিস্থিতি দেখে তাঁর মনে হচ্ছে দেশে যেন অঘোষিত জরুরি অবস্থা চলছে। তিনি আরও জানান, রোববারের মধ্যে আন্দোলনকারীদের মুক্তি না দেওয়া হলে অনশন বা পদযাত্রার মতো কর্মসূচি বিবেচনা করবেন।

এই বক্তব্যগুলো বিরোধী নেতা ও আন্দোলনকারীদের প্রতিক্রিয়া। এগুলোকে সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি অবস্থা জারির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা আইনগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যাবে না। তবে আটকের ব্যাপকতা ও প্রতিবাদস্থলে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনা নাগরিক স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

কেন এই বিক্ষোভ? ভোটার তালিকার সংশোধন নিয়ে বিতর্ক

আন্দোলনের কেন্দ্রীয় দাবি হলো ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। সিজেপি ও বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক নাম বাদ পড়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, এই প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ভোটারদের একটি অংশ বাদ পড়তে পারেন এবং তার রাজনৈতিক প্রভাব নির্বাচনের ফলেও পড়তে পারে। সমালোচকদের দাবি, ভোটার তালিকার এই পরিবর্তন ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সুবিধা করতে পারে।

রয়টার্স জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, যাচাই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি ভোটার-এন্ট্রি খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এর মধ্যে কমিশনের হিসাবে প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ মানুষের ঠিকানা বদলেছে, ৩ কোটি মানুষকে খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই সংখ্যা বাদ পড়া এন্ট্রির মোট পরিমাণ; এর অর্থ এই নয় যে ১৩ কোটি যোগ্য ভোটারের ভোটাধিকার চূড়ান্তভাবে বাতিল হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, খসড়া তালিকা থেকে ভুল করে কোনো যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়লে তিনি পুনরায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারেন।

তবে বিতর্কের কারণ শুধু নাম বাদ পড়ার পরিমাণ নয়। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর অনুসন্ধান অনুযায়ী, ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ পড়ার পর নির্বাচন কমিশন সংশোধন শেষ হয়েছে এমন ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বাদ পড়া ভোটার এবং নতুন ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কমিশনের ভেতরেও ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আপত্তি উঠেছিল বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

অর্থাৎ, একদিকে কমিশনের দাবি—মৃত, স্থানান্তরিত বা শনাক্ত করা যায়নি এমন ব্যক্তিদের রেকর্ড সরিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে; অন্যদিকে বিরোধী দল ও সমালোচকদের প্রশ্ন—যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ পড়া ঠেকানোর যথেষ্ট নিশ্চয়তা আছে কি না। এই প্রশ্নের নিষ্পত্তির জন্য রাজ্যভিত্তিক তথ্য, নাম বাদ দেওয়ার কারণ, পুনরায় নাম তোলার সুযোগ এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির স্বচ্ছতা গুরুত্বপূর্ণ। এখন পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের সব অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রকাশ্য তথ্য নেই; একইভাবে শুধু কমিশনের সাধারণ ব্যাখ্যা থেকেই প্রতিটি বাদ পড়া নাম যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছে বলে ধরে নেওয়াও ঠিক হবে না।

বিক্ষোভের অনুমতি কেন দেয়নি পুলিশ?

দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরের কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। পুলিশের বক্তব্য, সিজেপি ৭ অক্টোবর বিক্ষোভের বিষয়ে আবেদন করেছিল, অথচ কর্মসূচি নির্ধারিত ছিল ১০ অক্টোবর। পুলিশের দাবি, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী যন্তর মন্তরে কর্মসূচির জন্য অন্তত ১০ দিন আগে আবেদন বা বিজ্ঞপ্তি দিতে হয়। আগের এক বিক্ষোভে দেওয়া শর্ত ও নির্দেশ মানা হয়নি বলেও অভিযোগ করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের কথা উল্লেখ করে অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হয়।

নয়াদিল্লি এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারার অধীনে নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশও জারি করা হয়েছিল। বিক্ষোভের আগে হাজার হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়; যান চলাচল ও জনসমাগমে ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সীমিত করা এবং একাধিক মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ-প্রস্থান বন্ধ রাখার ঘটনাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।

এদিকে সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার বলেছিল, বিক্ষোভ ঠেকানোর জন্য দিল্লি মেট্রো পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, প্রতিবাদ কর্মসূচির কারণে পুরো শহরের স্বাভাবিক চলাচল অচল করা সাধারণ মানুষের জন্য গুরুতর অসুবিধা তৈরি করবে।

এই অবস্থায় দুটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে: প্রশাসন কি নির্দিষ্ট নিরাপত্তাঝুঁকির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ও সীমিত বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, নাকি বিধিনিষেধের ব্যাপ্তি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সুযোগকেই সংকুচিত করেছে? এর উত্তর পেতে পুলিশের সিদ্ধান্ত, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ, আটক রাখার আইনগত ভিত্তি এবং তাঁদের পরিবার ও আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ—সবকিছু স্বচ্ছভাবে জানা প্রয়োজন।

এখন আন্দোলনের অবস্থা কী?

সর্বশেষ পাওয়া নিশ্চিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন আটককেন্দ্রে নেওয়া ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ সূত্র। তবে সিজেপির তিন নেতা—অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা—তখনো আটক ছিলেন। তাঁদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান এবং পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

যন্তর মন্তরে মূল সমাবেশ হতে না পারলেও বিক্ষোভের প্রভাব দিল্লির একাধিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। একই দিনে মুম্বাইয়েও সিজেপির সমর্থনে প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে শত শত মানুষকে আটক করার খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। ফলে আন্দোলনটি শুধু একটি নির্দিষ্ট সমাবেশস্থলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং ভোটার তালিকা, নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি এবং প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নিয়েছে।

বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে ১২ অক্টোবর দিল্লিতে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা এসেছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। সিজেপির নেতারাও জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে নতুন কর্মসূচির চূড়ান্ত স্থান, অনুমতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে পরবর্তী ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

সামনে কোন বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ?

প্রথমত, সিজেপির তিন নেতাকে কোথায় রাখা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে কী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তাঁরা পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন কি না—এ বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য আসা জরুরি। দ্বিতীয়ত, আটক হওয়া অন্য নেতাকর্মীদের মুক্তি এবং বিক্ষোভের সময় পুলিশি আচরণ নিয়ে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ পর্যালোচনা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামের প্রকৃত হিসাব, বাদ দেওয়ার কারণ এবং পুনরায় নাম অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া কতটা সহজ—সেটি জনসমক্ষে পরিষ্কার করা দরকার।

যন্তর মন্তরের শনিবারের ঘটনা শুধু একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি ঠেকানোর ঘটনা নয়। এর কেন্দ্রে রয়েছে নির্বাচনী তালিকার নির্ভুলতা, নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা, প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রয়োগ এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিবাদের পরিসর। আন্দোলন কোন দিকে যাবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করবে আটক নেতাদের বিষয়ে স্বচ্ছতা, ১২ অক্টোবরের সম্ভাব্য কর্মসূচি এবং ভোটার তালিকা নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক জবাবের ওপর।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা, রয়টার্স, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া, আল জাজিরা, অনমনোরমা

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments