ইরানের সাত দিনের প্রস্তাবে তেলের দাম কমেছে; তবে জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক হয়নি
হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন কূটনৈতিক বার্তায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং বন্দর অবরোধ শিথিল করলে সাত দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ পুনরায় খুলে দেওয়া যেতে পারে। ২২ সেপ্টেম্বর এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে।
হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরের মধ্যে অন্যতম প্রধান নৌপথ। যুদ্ধের আগে বিশ্বে পরিবহিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যেত। এখন সেখানে জাহাজ চলাচল তীব্রভাবে কমে যাওয়ায় এশিয়া ও ইউরোপের বহু দেশ জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
জাহাজ চলাচল প্রায় থেমে যাওয়ার পরিস্থিতি
রয়টার্সের উদ্ধৃত কেপলার তথ্য অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার হরমুজ দিয়ে মাত্র পাঁচটি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে এবং পরদিন কোনো পণ্যবাহী জাহাজ নিবন্ধিত হয়নি। আগের সপ্তাহান্তে এই সংখ্যা ছিল ৩১। আরেক দফা তথ্য অনুযায়ী, পুরো সপ্তাহান্তে ট্র্যাক করা জাহাজের সংখ্যা ছিল ১২টি, আগের সপ্তাহে যেখানে ছিল ৩৫টি।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে জাহাজ মালিক ও বীমা কোম্পানিগুলোর ঝুঁকি বেড়ে যায়। পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় বাড়ে, বিকল্প রুটে যেতে হয় এবং সরবরাহের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘ হলে শুধু তেল নয়, সার, এলপিজি, খাদ্যপণ্য ও শিল্পের কাঁচামাল পরিবহনেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া
২২ সেপ্টেম্বর ইরানের প্রস্তাব সামনে আসার পর ব্রেন্ট তেলের দাম প্রায় ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ২৩ ডলারে নেমে আসে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। তবে বাজার এখনো পুরোপুরি আশ্বস্ত নয়। এর আগে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার অভিজ্ঞতা এবং হরমুজে চলাচলকারী জাহাজে হামলার খবর বিনিয়োগকারীদের সতর্ক রেখেছে।
সৌদি আরবও বিকল্প সরবরাহপথ সচল রাখার চেষ্টা করছে। দেশটির পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের কার্যক্রম পুনরায় বাড়ানো হয়েছে এবং ইয়ানবু বন্দর দিয়ে রপ্তানি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ চলছে। তবে হরমুজে স্বাভাবিক নৌ চলাচলের বিকল্প হিসেবে এসব ব্যবস্থা সীমিত সক্ষমতার।
এখনো নিশ্চিত নয় পুনরায় খুলবে কি না
ইরানের প্রস্তাবকে সম্ভাব্য কূটনৈতিক দরজা হিসেবে দেখা হলেও এটিকে এখনই হরমুজ প্রণালী স্বাভাবিকভাবে খুলে যাওয়ার ঘোষণা হিসেবে ধরা যাচ্ছে না। আল জাজিরার প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, একই সময়ে ইরান আবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আঞ্চলিক উপস্থিতির বিরোধিতা করছে। হরমুজে চলাচলকারী একটি জাহাজে অজ্ঞাত উৎসের ক্ষয়ক্ষতির খবরও এসেছে।
অর্থাৎ বাজারে স্বস্তির একটি খবর এলেও বাস্তবে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়া, বীমা ঝুঁকি কমা এবং জ্বালানি সরবরাহ আগের অবস্থায় ফেরার বিষয়টি নির্ভর করছে পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর। এই কারণেই বিশ্বের জ্বালানি বাজার এখন নিউইয়র্কের জাতিসংঘ অধিবেশন ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য যোগাযোগের দিকে তাকিয়ে আছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স; আল জাজিরা; দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড; কেপলারভিত্তিক জাহাজ চলাচল তথ্য।




