রুশ জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাত লক্ষ্য, রুশ তেল-গ্যাসের বড় ক্রেতাদের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের ক্ষমতা
ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর নতুন ও বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞার আইনে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার স্বাক্ষরের পর আইনটি কার্যকর করার আইনি ভিত্তি তৈরি হয়েছে। এতে রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাত, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত রুশ তেলবাহী ‘শ্যাডো ফ্লিট’-কে লক্ষ্য করা হয়েছে।
আইনটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’। প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে নামকরণ করা এই বিল কয়েক মাস ধরে কংগ্রেসে আটকে ছিল। শেষ পর্যন্ত প্রতিনিধি পরিষদে ২৬২-১৫৯ ভোটে পাস হওয়ার পর প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর পায়।
রাশিয়ার তেল-গ্যাসের বড় ক্রেতাদের লক্ষ্য
নতুন আইনের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতাদের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা। আইনটি রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা করা কিছু দেশ বা কোম্পানিকেও এর আওতায় আনার সুযোগ তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি থেকে পাওয়া রাজস্ব কমানো এবং ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোর অর্থায়নের ওপর চাপ তৈরি করা। তবে এই শুল্কের প্রয়োগ কবে, কোন দেশ বা পণ্যের ওপর কত হারে হবে—সবকিছুই তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।
রয়টার্স জানিয়েছে, সম্ভাব্যভাবে চীন ও ভারতসহ রুশ জ্বালানির বড় ক্রেতারা নতুন ব্যবস্থার প্রভাবের মধ্যে পড়তে পারে। ভারত এরই মধ্যে জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ অব্যাহত রাখবে।
ইউক্রেন বলছে, এটি রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াবে
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আইনটি নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে এবং কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় চাপ তৈরির একটি উপায় হতে পারে।
তবে আইনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে। এর আগে রাশিয়ার ওপর একাধিক দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও দেশটির জ্বালানি রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। নতুন আইনের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা কীভাবে প্রয়োগ করা হবে এবং বড় ক্রেতা দেশগুলো কী প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা বাস্তব ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
বাণিজ্যে প্রভাবের আশঙ্কা
নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে শুল্কের বিষয়টি যুক্ত হওয়ায় এর প্রভাব শুধু রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। রাশিয়ার তেল বা গ্যাস কেনা তৃতীয় কোনো দেশের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ করলে নতুন শুল্ক বা বাণিজ্যিক ব্যবস্থা প্রযোজ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ করে ভারত ও চীন রাশিয়ার বড় জ্বালানি ক্রেতা হওয়ায় তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্কের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে কোন ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রভাবের পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন।
আইনটি এমন সময়ে এসেছে, যখন ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকার কথা বলছে এবং একই সময়ে রাশিয়ার ওপর নতুন অর্থনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে। ফলে সামনে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন, রুশ প্রতিক্রিয়া এবং বড় জ্বালানি ক্রেতা দেশগুলোর অবস্থান আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP), এএফপি, আল জাজিরা।




