Homeটুডে ওয়ার্ল্ডহিন্দু পরিচয়ের আড়ালে, ‘মুসলিম’ পরিচয়ে ভয় ছড়ানোর অভিযোগ: ভুয়া পরিচয়ে অপরাধের প্রবণতার...

হিন্দু পরিচয়ের আড়ালে, ‘মুসলিম’ পরিচয়ে ভয় ছড়ানোর অভিযোগ: ভুয়া পরিচয়ে অপরাধের প্রবণতার কথা তুলে ধরেছেন ধ্রুব রাঠী

লন্ডন–গ্লাসগো উড়োজাহাজের ঘটনায় অভয় নায়েক থেকে অযোধ্যা ও মহাকুম্ভ—কয়েকটি ঘটনায় মুসলিম পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ বা হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে; বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো কি একটি অভিন্ন ‘কেন্দ্রীয় ষড়যন্ত্র’?

টুডে টিভি বিডি | আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান

ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে অপরাধের খবর ছড়িয়ে পড়া নতুন কিছু নয়। কিন্তু কিছু ঘটনায় পরে তদন্তে দেখা গেছে, অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি নিজে মুসলিম না হয়েও মুসলিম নাম, পরিচয় বা অনলাইন প্রোফাইল ব্যবহার করেছে। উদ্দেশ্য ছিল ব্যক্তিগত প্রতিশোধ, প্রচার, ভয় সৃষ্টি কিংবা অন্য কাউকে ফাঁসানোর চেষ্টা—এমন দাবি তদন্তকারীদের পক্ষ থেকে এসেছে।

ভারতীয় কনটেন্ট নির্মাতা ধ্রুব রাঠী তাঁর নিজস্ব চ্যানেলের সাম্প্রতিক একটি ভিডিও প্রতিবেদনে এই প্রবণতাটিকেই সামনে এনেছেন। ভিডিওতে তিনি লন্ডন থেকে গ্লাসগোমুখী উড়োজাহাজের ঘটনা, উত্তর প্রদেশে গরু হত্যার ঘটনায় একজন মুসলিমকে ফাঁসানোর অভিযোগ, মহাকুম্ভে বোমা হামলার ভুয়া হুমকি এবং অযোধ্যার রামমন্দিরে হামলার হুমকির ঘটনায় মুসলিম পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ পাশাপাশি তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রীয় প্রশ্ন—কোনো অপরাধের ঘটনায় প্রথমে যে ধর্মীয় পরিচয়টি সামনে আসে, সেটি কি সত্যিই অপরাধীর পরিচয়?

লন্ডন–গ্লাসগো উড়োজাহাজে ‘আল্লাহু আকবর’ স্লোগান, বোমার হুমকি—অভয় নায়েক কে?

২০২৫ সালের ২৭ জুলাই লন্ডন লুটন থেকে গ্লাসগোর উদ্দেশে যাওয়া ইজিজেটের একটি ফ্লাইটে ৪১ বছর বয়সী অভয় দেবদাস নায়েক হইচই সৃষ্টি করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাঁকে ‘আল্লাহু আকবর’, ‘ডেথ টু আমেরিকা’ এবং ‘ডেথ টু ট্রাম্প’ বলতে শোনা যায়। তিনি উড়োজাহাজে বোমা থাকার কথাও বলেন বলে একাধিক প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়। পরে কয়েকজন যাত্রী তাঁকে মাটিতে চেপে ধরেন এবং গ্লাসগোতে উড়োজাহাজ অবতরণের পর পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

অভয় নায়েকের বিরুদ্ধে স্কটল্যান্ডে উড়োজাহাজের নিরাপত্তা বিপন্ন করা এবং হামলার অভিযোগ আনা হয়। তিনি ওই পর্যায়ে কোনো দোষী বা নির্দোষতার আবেদন করেননি এবং তাঁকে হেফাজতে রাখা হয়। পুলিশ জানিয়েছিল, ঘটনাটি এক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করেই সীমাবদ্ধ ছিল এবং অন্য কেউ এতে জড়িত বলে তখন মনে করা হয়নি। কাউন্টার-টেররিজম কর্মকর্তারা ভিডিও পর্যালোচনা করলেও নায়েকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী অভিযোগ আনা হয়নি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পরে পুলিশ সূত্রে জানায়, বেঙ্গালুরুর সঙ্গে নায়েকের পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে এবং তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর মানসিক অসুস্থতার ইতিহাসের কথা বলা হয়েছিল।

প্রথমে ‘মুসলিম সন্ত্রাসী’ মনে হলেও তদন্তে কী বের হয়েছিল?

অভয় নায়েকের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সবচেয়ে দৃশ্যমান অংশ ছিল তাঁর ‘আল্লাহু আকবর’ বলা এবং বোমার হুমকি। কিন্তু পরবর্তী তথ্য তাঁর পরিচয় সম্পর্কে ভিন্ন চিত্র দেয়—তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত একজন ব্রিটিশ নাগরিক/বাসিন্দা হিসেবে সংবাদে পরিচিত হন।

এখানে ধ্রুব রাঠীর মূল বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক পাওয়া যায়: অপরাধীর মুখে মুসলিম ধর্মীয় শব্দ উচ্চারিত হওয়া আর অপরাধীর ধর্মীয় পরিচয় একই বিষয় নয়।

উত্তর প্রদেশে গরু জবাই করে মুসলিমকে ফাঁসানোর অভিযোগ

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদে গরুর দেহাবশেষ উদ্ধারের দুটি ঘটনায় পুলিশ তদন্ত করে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মোরাদাবাদ জেলার বজরং দলের প্রধান মোনু বিষ্ণোই ওরফে সুমিত। পুলিশের অভিযোগ ছিল, এক ব্যক্তিকে শত্রুতার জেরে মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে গরু জবাইয়ের ঘটনা সাজানো হয়েছিল।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস–এর প্রতিবেদনে পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চেয়েছিলেন যাতে অন্য একজন মুসলিম ব্যক্তিকে ফাঁসানো যায়। তদন্তে পুলিশ ঘটনাটিকে পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখেছিল।

মহাকুম্ভে বোমা হামলার হুমকি: মুসলিম বন্ধুর নামে ভুয়া পরিচয়

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মহাকুম্ভকে লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বোমা হামলার হুমকির ঘটনায় উত্তর প্রদেশ পুলিশ বিহারের পূর্ণিয়া থেকে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করে। পুলিশ জানায়, কিশোরটি তার এক মুসলিম সহপাঠীর নামে একটি ভুয়া ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট খুলেছিল এবং সেই পরিচয় ব্যবহার করে মহাকুম্ভে বোমা হামলা ও ব্যাপক প্রাণহানির হুমকি দেয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্দেশ্য ছিল ওই সহপাঠীর সঙ্গে ব্যক্তিগত বিরোধের প্রতিশোধ নেওয়া।

পুলিশ তার আইপি ঠিকানা অনুসরণ করে পরিচয় শনাক্ত করে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রয়াগরাজে নেওয়া হয় এবং কিশোর হেফাজতে রাখা হয়।

এই ঘটনা ধ্রুব রাঠীর ভিডিওর সবচেয়ে সরাসরি উদাহরণগুলোর একটি। কারণ এখানে পুলিশি তদন্তের ভাষ্য অনুযায়ী, হুমকি দেওয়ার ব্যক্তি এবং যে ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছিল—দুটিই আলাদা।

রামমন্দিরে হামলার হুমকিতেও মুসলিম পরিচয় ব্যবহার?

২০২৩ সালের শেষ দিকে অযোধ্যার নির্মীয়মাণ রামমন্দির উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ই-মেইল পাঠানোর ঘটনা সামনে আসে। প্রথমদিকে ই-মেইল প্রেরক হিসেবে ‘জুবের খান’ নামটি সামনে আসে। পরে উত্তর প্রদেশ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে—তাহার সিং ও ওমপ্রকাশ মিশ্র। স্ক্রল–এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে পুলিশের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, তাঁরা মুসলিম পরিচয়ে ই-মেইল পাঠিয়েছিলেন। পুলিশের অভিযোগ ছিল, পুরো ঘটনাটি সাজানোর পেছনে দেবেন্দ্র তিওয়ারির ভূমিকা ছিল এবং তিনি ওই দুই ব্যক্তিকে এমন ই-মেইল পাঠাতে বলেছিলেন।

স্ক্রল আরও অনুসন্ধান করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ড, হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রকাশ্য ছবি নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

এই ঘটনা কেবল বোমার হুমকি নয়; এটি পরিচয় ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সন্দেহ তৈরি করার সম্ভাব্য কৌশল নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

ধ্রুব রাঠীর বক্তব্যের মূল ভিত্তি কোথায়?

ধ্রুব রাঠী তাঁর ভিডিওতে স্ক্রল–এর একটি পুরোনো অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেছেন। ২০২৩ সালের ওই প্রতিবেদনে আম্বানি পরিবারকে পাঠানো মৃত্যুর হুমকি, রামমন্দির নিয়ে ভুয়া হুমকি এবং অন্যান্য ঘটনায় মুসলিম নাম ব্যবহার করার উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়েছিল—কয়েকটি ঘটনায় প্রকৃত অভিযুক্ত মুসলিম ছিলেন না।

স্ক্রল লিখেছিল, সামাজিকভাবে মেরুকৃত পরিবেশে কোনো অপরাধের সঙ্গে মুসলিম নাম জড়িয়ে গেলে সেই পরিচয় অনেক সময় অপরাধের প্রকৃত তথ্যের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেতে পারে। প্রতিবেদনে এমন ঘটনাও ছিল যেখানে ব্যক্তিগত বিরোধ, প্রচার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বা অন্য উদ্দেশ্যে ভুয়া মুসলিম পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ উঠে এসেছে।

গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: এগুলো কি একটি ‘কেন্দ্রীয় ষড়যন্ত্র’?

ধ্রুব রাঠীর ভিডিওর শেষ অংশে তিনি আরও বড় একটি দাবি করেন। তাঁর বক্তব্যের সারকথা—এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; একটি শক্তিশালী সংগঠিত ‘ইকোসিস্টেম’ পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনা ব্যবহার করে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বিভাজন ও ঘৃণা সৃষ্টি করে।

‘প্রথম অর্ধেক’ ভাইরাল, পরে আসল তথ্য আড়ালে

ধ্রুব রাঠী ভিডিওতে দাবি করেছেন, এ ধরনের ঘটনায় প্রথমে শুধু মুসলিম পরিচয় বা ধর্মীয় স্লোগান সামনে আসে, সেটিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়; পরে প্রকৃত তদন্তের ফল প্রকাশ পেলেও তা একই মাত্রায় ছড়ায় না।

এই ঘটনাগুলোর সবচেয়ে বড় সামাজিক শিক্ষা কী?

এই ঘটনাগুলো থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া যায়—কোনো অপরাধের সঙ্গে কোনো ধর্মের নাম জড়িয়ে গেলে প্রতিক্রিয়া জানানোর আগে তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ফল অপেক্ষা করা জরুরি।

কারণ ভুল পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ করা সম্ভব।

ব্যক্তিগত শত্রুতায় ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে কাউকে ফাঁসানোর চেষ্টা সম্ভব।

ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট খুলে অন্যের পরিচয়ে হুমকি দেওয়াও সম্ভব।

আবার এটাও সত্য, কোনো ঘটনার অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি বাস্তবেই কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের অনুসারী হন, কেবল সম্ভাব্য অপব্যবহারের কথা বলে তাঁর প্রকৃত পরিচয় অস্বীকার করারও সুযোগ নেই।

সুতরাং মূলনীতি হওয়া উচিত—পরিচয়ের আগে প্রমাণ।

ধ্রুব রাঠীর ভিডিও: কী নিশ্চিত, কী ব্যাখ্যা?

নথিভুক্ত ঘটনা: লন্ডন–গ্লাসগো ফ্লাইটে অভয় নায়েককে উড়োজাহাজের নিরাপত্তা বিপন্ন করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল; তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী অভিযোগ আনা হয়নি।

নথিভুক্ত ঘটনা: মোরাদাবাদে বজরং দলের জেলা প্রধানসহ চারজনকে গরু জবাই করে একজনকে ফাঁসানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।

নথিভুক্ত ঘটনা: মহাকুম্ভের বোমা হুমকির ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর মুসলিম সহপাঠীর নামে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করেছিল বলে পুলিশ জানিয়েছিল।

নথিভুক্ত ঘটনা: রামমন্দিরে হামলার হুমকি-সংক্রান্ত ঘটনায় মুসলিম পরিচয় ব্যবহার করে ই-মেইল পাঠানোর অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল; স্ক্রল পুলিশের বক্তব্য উদ্ধৃত করে এই ঘটনার পেছনে অন্য ব্যক্তির ভূমিকার কথাও লিখেছে।

বিশ্লেষণ: এই ঘটনাগুলো দেখায় যে মুসলিম পরিচয়কে ভুয়া পরিচয় হিসেবে ব্যবহার করে ভয়, উত্তেজনা বা ফাঁসানোর চেষ্টা কিছু ক্ষেত্রে তদন্তে উঠে এসেছে।

অপ্রমাণিত বিস্তৃত দাবি: সব ঘটনাই একই কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার অংশ এবং একটি সংগঠিত ‘কেন্দ্রীয় ষড়যন্ত্র’ এগুলো পরিচালনা করছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো স্বাধীন প্রমাণ এই অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি। তবে বেশিরভাগ বিশ্লেষণই মনে করেন এটি একটি কেন্দ্রীয় ষড়যন্ত্রটি অংশ। এবং এর পিছনে বিজিপি এবং গদি মিডিয়া জড়িত।

শেষ কথা: ভাইরাল পরিচয় নয়, তদন্তের ফলই শেষ কথা

ধ্রুব রাঠীর ভিডিওর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি তাই হয়তো তাঁর রাজনৈতিক ব্যাখ্যার চেয়েও সহজ—কোনো অপরাধের খবর সামনে এলে আমরা প্রথমে কী বিশ্বাস করি?

ভিডিওতে ‘আল্লাহু আকবর’ শুনে কাউকে মুসলিম ধরে নেওয়া যায় না।

ই-মেইলে ‘জুবের খান’ লেখা থাকলেই প্রেরক জুবের খান হয়ে যায় না।

কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে মুসলিম নাম থাকলেই সেটি প্রকৃত ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট নয়।

আবার বিপরীত দিক থেকেও একই নিয়ম প্রযোজ্য—অভিযুক্ত ব্যক্তি হিন্দু বা অন্য কোনো ধর্মের হলেই অপরাধের দায় থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুক্ত হয়ে যান না।

অপরাধীর ধর্মীয় পরিচয় নয়, অপরাধের প্রমাণ হওয়া উচিত তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু।

ভারতে সাম্প্রদায়িকভাবে সংবেদনশীল পরিবেশে এই পার্থক্য আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি ভুল পরিচয় শুধু একজন নির্দোষ মানুষকে ফাঁসাতে পারে না; এর মাধ্যমে একটি পুরো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে জনমতও উত্তপ্ত হতে পারে।

আর তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন হতে পারে—

ভাইরাল হওয়ার আগে নয়, সত্যতা যাচাইয়ের পরে আমরা কোনো খবরকে বিশ্বাস করছি কি না।

তথ্যসূত্র: পুলিশ ও আদালত-সংশ্লিষ্ট প্রকাশ্য তথ্য; স্ক্রল, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ইন্ডিয়া টুডে, এসটিভি নিউজ, স্কাই নিউজ এবং সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রতিবেদন। ধ্রুব রাঠীর ভিডিওর বক্তব্য পৃথকভাবে উপস্থাপন ও যাচাই করা হয়েছে; ভিডিওতে থাকা বৃহত্তর রাজনৈতিক ব্যাখ্যাগুলোকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments