মস্কো | ২২ মে ২০২৬
চলতি বছরের শুরু থেকে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার তীব্রতা দ্বিগুণ করেছে ইউক্রেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এসব হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে দেশটির বড় বড় তেল শোধনাগারগুলো। উপর্যুপরি এই আক্রমণের মুখে ক্রেমলিন জ্বালানি উৎপাদন কমিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ বাজারের সুরক্ষায় এপ্রিল থেকে আগামী জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত দেশ থেকে গ্যাসোলিন (পেট্রোল) রপ্তানির ওপর আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শোধনাগারের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে।
জ্বালানি খাতে বড় ধাক্কা ও বন্ধ হওয়া শোধনাগারসমূহ
সূত্র ও স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ও বন্ধ হয়ে যাওয়া শোধনাগারগুলোর সম্মিলিত বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৮৩ মিলিয়ন মেট্রিক টনেরও বেশি, যা দৈনিক হিসাবে প্রায় ২ লাখ ৩৮ হাজার টন তেল পরিশোধনের সমান। রাশিয়ার জাতীয় জ্বালানি উৎপাদনে এই শোধনাগারগুলোর অবদান অপরিসীম; এগুলো দেশের মোট উৎপাদিত গ্যাসোলিনের ৩০ শতাংশ এবং ডিজেলের প্রায় ২৫ শতাংশ সরবরাহ করে থাকে।
ক্ষতিগ্রস্ত প্রধান প্রধান তেল শোধনাগারের তালিকায় রয়েছে:
- কিরিশি তেল শোধনাগার: পশ্চিম রাশিয়ায় অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহত্তম এই শোধনাগারটির বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ২ কোটি মেট্রিক টন, যা রাশিয়ার মোট শোধনাগার সক্ষমতার প্রায় এক-চতুর্থাংশ। গত ৫ মে ড্রোন হামলার পর থেকে এই স্থাপনাটি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
- নোরসি তেল শোধনাগার: বার্ষিক ১৭ মিলিয়ন টন উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই প্রধান শোধনাগারটি গত বুধবার (২০ মে) ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘাতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার পর কারখানাটি আংশিক সচল আছে নাকি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে, তা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
- অন্যান্য প্ল্যান্ট: এছাড়া মস্কো তেল শোধনাগারসহ ভলগা নদীর তীরে অবস্থিত নিজনি নোভগোরোদ, রিয়াজান এবং ইয়ারোস্লাভলের তেল প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রগুলো ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে।
বাজেট ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের পর রাশিয়া বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম জ্বালানি তেল উৎপাদনকারী দেশ। রুশ কর্মকর্তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট এবং প্রশাসনিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, ড্রোন হামলার কারণে কেবল শোধনাগারই নয়, বরং বিভিন্ন অঞ্চলের প্রধান পাইপলাইন এবং তেল সংরক্ষণাগারগুলোও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই পরিস্থিতির কারণে মস্কোর ফেডারেল বাজেটের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, রাশিয়ার মোট জাতীয় রাজস্বের প্রায় ২৫ শতাংশ বা এক-চতুর্থাংশ আসে তেল ও গ্যাস খাতের কর থেকে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় যুদ্ধকালীন অর্থনীতি সচল রাখা ক্রেমলিনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি
রাশিয়ার জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শোধনাগারগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। তবে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও মূল্যের ওপর এর একটি পরোক্ষ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বৈশ্বিক বাজার বিশ্লেষকরা।
- [তথ্যসূত্র: রয়টার্স নিউজ এজেন্সি এবং রাশিয়ার স্থানীয় প্রশাসনিক সূত্র] *



