কিয়েভসহ একাধিক শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত; অন্তত ২২ জন নিহত ও ব্যাপক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত; পশ্চিমা সাহায্যের আকুতি জেলেনস্কির।
কিয়েভ | ১৫ মে ২০২৬
গত চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ সময় পার করছে ইউক্রেন। গত দুই দিনে রাশিয়া ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে ইতিহাসের বৃহত্তম ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের মতে, বুধবার থেকে এ পর্যন্ত রাশিয়া প্রায় ১,৫৬৭টি ড্রোন এবং অর্ধশতাধিক মিসাইল নিক্ষেপ করেছে।
হামলার ভয়াবহতা ও ক্ষয়ক্ষতি
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গত শনিবার যুদ্ধ “শেষের পথে” বলে মন্তব্য করলেও বাস্তবের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই ড্রোন ও মিসাইল হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে শিশুও রয়েছে।
- কিয়েভের অবস্থা: হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল রাজধানী কিয়েভ। এখানে একটি ৯ তলা আবাসিক ভবন মিসাইল হামলায় ধসে পড়েছে, যেখানে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটস্কো শুক্রবার শোক দিবস ঘোষণা করেছেন।
- অন্যান্য শহর: দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে শিশুসহ ২৮ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ওডেসা বন্দর এবং খেরসন শহরেও হামলা হয়েছে।
- অবকাঠামো: ইউক্রেনের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ১১টি অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মোট ১৮০টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৫০টিরও বেশি আবাসিক ভবন।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির প্রতিক্রিয়া
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলাকে রাশিয়ার দ্বিমুখী আচরণের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:
“যারা বিশ্বাস করে যুদ্ধ শেষ হতে চলেছে, এটি নিশ্চিতভাবে তাদের কাজ নয়। আমাদের আকাশ সুরক্ষায় অংশীদারদের নীরব থাকা চলবে না।”
তিনি আরও জানান যে, কিয়েভের আবাসিক ভবনে যে মিসাইলটি আঘাত হেনেছে সেটি রাশিয়ার নবনির্মিত Kh-101 মডেলের। তিনি এই ধরণের উন্নত প্রযুক্তি যাতে রাশিয়ার হাতে না পৌঁছায়, সেজন্য বৈশ্বিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।
ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক আহ্বান
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিকা এই হামলার সময়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন। বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেইজিং সফরে রয়েছেন এবং ওয়াশিংটন যখন শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে, তখনই রাশিয়া এই ধ্বংসলীলা চালালো।
সিবিকা বলেন, “আমি নিশ্চিত যে রাশিয়াকে যুদ্ধ বন্ধ করতে বলার মতো যথেষ্ট প্রভাব যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের রয়েছে।”
📊 এক নজরে হামলার পরিসংখ্যান (১৪-১৫ মে ২০২৬)
| সূচক | তথ্য |
|---|---|
| নিক্ষিপ্ত ড্রোন সংখ্যা | ১,৫৬৭টি (২ দিনে) |
| মিসাইল সংখ্যা | ৫৬টি (রাতভর) |
| নিহত (বেসামরিক) | ২২ জন (এখন পর্যন্ত) |
| ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা | ১৮০টি (ইউক্রেন জুড়ে) |
| বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অঞ্চল | ১১টি অঞ্চল |
🔎 বিশ্লেষণ: যুদ্ধের নতুন মোড়? সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এই বিশাল ড্রোন হামলা ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতাকে পরীক্ষা করার একটি কৌশল। একদিকে পুতিন শান্তির কথা বলছেন, অন্যদিকে এই মাত্রার আক্রমণ ইঙ্গিত দেয় যে মস্কো আলোচনার টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চায়। ইউক্রেনের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো পর্যাপ্ত বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহ করা।
তথ্যসূত্র: ওলেনা হারমাশ ও ইউরি কোভালেঙ্কো, রয়টার্স এবং ইউক্রেন স্টেট ইমার্জেন্সি সার্ভিস।



