Homeটুডে ওয়ার্ল্ডবেইজিংয়ে ট্রাম্পকে রাজকীয় অভ্যর্থনা: নজরে বাণিজ্য যুদ্ধ ও ইরান সংকটের সমাধান

বেইজিংয়ে ট্রাম্পকে রাজকীয় অভ্যর্থনা: নজরে বাণিজ্য যুদ্ধ ও ইরান সংকটের সমাধান

২০১৭ সালের তুলনায় আরও শক্তিশালী চীনের মুখোমুখি মার্কিন প্রেসিডেন্ট; সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন ইলন মাস্ক ও টিম কুকের মতো প্রযুক্তি বিশ্বের শীর্ষ ব্যক্তিত্বরা।

বেইজিং | ১৪ মে ২০২৬
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিশ্বের দুই প্রধান পরাশক্তির উত্তেজনার আবহে বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান যুদ্ধ ও বাণিজ্য ঘাটতির মতো স্পর্শকাতর ইস্যুগুলো যখন বৈশ্বিক অর্থনীতিকে অস্থির করে তুলেছে, ঠিক তখন ট্রাম্পের এই চীন সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা

বেইজিং বিমানবন্দরে এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে নামার পর ট্রাম্পকে লাল গালিচায় স্বাগত জানান চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং। ২০১৭ সালের প্রথম সফরের তুলনায় এবার অনেক বেশি উচ্চপর্যায়ের আতিথেয়তা প্রদান করেছে বেইজিং। ব্রাস ব্যান্ডের সুর আর যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পতাকা হাতে সারি বেঁধে দাঁড়ানো স্বাগতকারীদের হর্ষধ্বনির মধ্য দিয়ে ট্রাম্পকে বরণ করে নেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রাজকীয় অভ্যর্থনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান শ্রদ্ধারই বহিঃপ্রকাশ।

ট্রাম্পের সফরসঙ্গী ও ‘টেক জায়ান্ট’দের উপস্থিতি

এবারের সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ছেলে এরিক ট্রাম্প ছাড়াও মার্কিন প্রযুক্তি খাতের এক ঝাঁক মহাতারকা রয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন:

  • ইলন মাস্ক (টেসলা ও স্পেসএক্স)
  • টিম কুক (অ্যাপল)
  • জেনসেন হুয়াং (এনভিডিয়া)
  • ল্যারি ফিঙ্ক (ব্ল্যাকরক)
    অবতরণের আগে এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে অনুরোধ করবেন যেন চীনকে আরও ‘উন্মুক্ত’ করা হয়, যাতে মেধাবী মানুষেরা গণপ্রজাতন্ত্রী চীনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারেন।

আলোচনার টেবিলে ‘ইরান-জট’ ও বাণিজ্য

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ও শুক্রবার দুই নেতার মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে তিনটি প্রধান বিষয়:
১. ইরান যুদ্ধ: পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা বর্তমানে স্থবির হয়ে পড়েছে। ইরান থেকে সবচেয়ে বেশি তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে চীন এই সংকটের অবসান চায়। ট্রাম্প ইরান বিষয়ে চীনের সরাসরি সাহায্য প্রয়োজন নেই বললেও, রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি শি জিনপিংকে উৎসাহিত করবেন যাতে বেইজিং তেহরানকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করতে রাজি করায়।
২. বাণিজ্য ঘাটতি: ২০২২ সালে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ছিল ৬৯০ কোটি ডলার, যা গত বছর কমে ৪১৪ কোটি ডলারে নেমেছে। ট্রাম্প চাইবেন চীন আরও বেশি মার্কিন কৃষিপণ্য কিনুক এবং ২ হাজার কোটি ডলারের বেশি বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনুক।
৩. প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও কম্পিউটিং চিপ নিয়ে দুই দেশের রেষারেষি তুঙ্গে। বেইজিংয়ের হাতে থাকা ‘বিরল খনিজ ধাতু’ রপ্তানির বিষয়টি এবার মার্কিন শুল্কনীতির বিরুদ্ধে বড় অস্ত্র হতে পারে।

🔎 বিশ্লেষণ: ২০১৭ বনাম ২০২৬
ট্রাম্প এবার এমন এক চীনের মুখোমুখি হচ্ছেন যা আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযানের সমালোচনা, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ—সব মিলিয়ে ট্রাম্পের জন্য শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দরকষাকষি করা এবার বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে।

📊 বাণিজ্য পরিসংখ্যান

সূচক২০২২ সাল২০২৫ সাল
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য৬৯০ কোটি ৪০ লাখ ডলার৪১৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার
বাণিজ্য ঘাটতি২ হাজার কোটি ডলারের বেশি (আমদানি নির্ভর)

💬 মন্তব্য

“আমরাই দুই পরাশক্তি। সামরিক শক্তির দিক থেকে আমরাই পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ।”
ডোনাল্ড ট্রাম্প, বেইজিং বিমানবন্দর।

উপসংহার: হরমুজ প্রণালীতে ইরানের টোল আরোপ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মুখে ট্রাম্প ও শি জিনপিং একমত হতে পারবেন কি না, তার ওপর নির্ভর করছে আগামীর বিশ্ব পরিস্থিতির গতিপথ।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স, এএফপি

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular