Homeটুডে ওয়ার্ল্ডতামিলনাড়ুতে বিজয়ের রাজনৈতিক জয়: এআইএডিএমকে-তে ভাঙন, স্বস্তিতে নতুন সরকার

তামিলনাড়ুতে বিজয়ের রাজনৈতিক জয়: এআইএডিএমকে-তে ভাঙন, স্বস্তিতে নতুন সরকার

বিদ্যুৎ বিল মওকুফের পর এবার মদের দোকান বন্ধের ঘোষণা—পুরোদমে জনসেবায় ‘থালাপতি’

চেন্নাই ও নয়াদিল্লি | ১২ মে ২০২৬
ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের রাজনীতিতে এক নাটকীয় মোড় দেখা দিয়েছে। অভিনেতা থেকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া থালাপতি বিজয়ের (চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয়) নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার গঠনের পরপরই বিরোধী দল এআইএডিএমকে (AIADMK)-তে বড় ধরনের ভাঙন ধরেছে। আজ মঙ্গলবার দলটির ৩০ জন বিধায়ক বিজয় সরকারকে সমর্থন দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। এই সমর্থন আগামীকাল বুধবার বিধানসভায় হতে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ আস্থা ভোটের আগে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের জন্য এক বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংখ্যাগরিষ্ঠতার দোলাচল ও বিজয়ের স্বস্তি

তামিলনাড়ুর ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় সরকার টিকিয়ে রাখতে বা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন। বিজয়ের দল টিভিকের (TVK) পক্ষে বর্তমানে ১২০ জন সদস্যের সমর্থন রয়েছে। এমতাবস্থায় এআইএডিএমকে-র ৩০ জন বিক্ষুব্ধ বিধায়কের সমর্থন বিজয়ের সরকারের স্থায়িত্বকে আরও সুসংহত করল।
বিক্ষুব্ধ অংশের নেতা সি ভি সম্মুগম চেন্নাইয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাঁরা কেবল সমর্থনই দিচ্ছেন না, বরং নতুন সরকারে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও করছেন।

এআইএডিএমকে-তে কেন এই বিদ্রোহ?

বিক্ষুব্ধ নেতা সম্মুগম ও এস পি ভেলুমনি এই সিদ্ধান্তের জন্য দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ই কে পালানিস্বামীর (ইপিএস) ‘হঠকারিতা’কে দায়ী করেছেন। তাঁদের অভিযোগ:

  • নির্বাচনে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় ইপিএস তাঁদের ‘চিরশত্রু’ ডিএমকে (DMK)-র সাথে হাত মিলিয়ে সরকার গড়ার চেষ্টা করেছিলেন।
  • রাজনৈতিক আদর্শ বিসর্জন দিয়ে ডিএমকে-র সঙ্গে জোট গড়া মেনে নিতে না পেরেই তাঁরা থালাপতি বিজয়ের সরকারকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ ও জোট সমীকরণ

বিজয়ের উত্থান তামিলনাড়ুর দীর্ঘদিনের দ্বিমুখী (DMK বনাম AIADMK) রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে।

  • বিজয়ের পক্ষে যারা: কংগ্রেস (৫টি আসন), সিপিআই, সিপিএম, ভিসিকে এবং আইইউএমএল ইতিপূর্বেই বিজয় সরকারকে সমর্থনের কথা জানিয়েছে।
  • ইপিএস ও স্টালিনের সংকট: ডিএমকে নেতা এম কে স্টালিন এবং এআইএডিএমকে নেতা ইপিএস বর্তমানে অনেকটা বন্ধুহীন অবস্থায় রয়েছেন।
  • বিজেপির কৌশল: বিজেপি এই সুযোগে ডিএমকে-র কাছাকাছি আসার চেষ্টা করছে যাতে সংসদে এনডিএ (NDA) জোটকে আরও শক্তিশালী করা যায়। উল্লেখ্য, লোকসভায় ডিএমকে-র ২২ জন সদস্য রয়েছেন।

ক্ষমতায় এসেই বিজয়ের জনকল্যাণমুখী চমক

শপথ নেওয়ার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় একের পর এক সাহসী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন:

  1. বিনামূল্যে বিদ্যুৎ: গৃহস্থালি গ্রাহকদের জন্য প্রথম ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিনামূল্যে প্রদানের সুবিধা চালু করেছেন।
  2. মদ বিক্রিতে কড়াকড়ি: আজ মঙ্গলবার তিনি রাজ্যের উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাস টার্মিনালের ৫০০ মিটারের মধ্যে অবস্থিত ৭১৭টি মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এই নির্দেশ কার্যকর করতে হবে।

🔎 বিশ্লেষণ: থালাপতি বিজয়ের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

সিনেমা পর্দার ‘সরকার’ এখন বাস্তব জীবনের মুখ্যমন্ত্রী। বিজয়ের এই উত্থান কেবল একটি দল গঠন নয়, বরং তামিলনাড়ুর কয়েক দশকের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ জানানো। এআইএডিএমকে-র ভাঙন প্রমাণ করে যে, রাজ্যে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র বাইরে বিকল্প নেতৃত্বের জন্য একটি বড় অংশ মুখিয়ে ছিল। তবে জোটসঙ্গী হিসেবে কংগ্রেস ও বিক্ষুব্ধ এআইএডিএমকে সদস্যদের সামলানো এবং প্রশাসনিক সংস্কার বজায় রাখা হবে বিজয়ের জন্য আগামী দিনের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

💬 কেরালায় কংগ্রেসের দোলাচল

তামিলনাড়ুতে বিজয়ের ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলেও প্রতিবেশী রাজ্য কেরালায় কংগ্রেস এখনো মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনে হিমশিম খাচ্ছে। নিরঙ্কুশ জয় পেলেও ভি ডি সতীশন, রমেশ চেন্নিথালা এবং কে সি বেণুগোপাল—এই তিন হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে কাকে বেছে নেওয়া হবে, তা নিয়ে দিল্লিতে বৈঠক চলছে। বুধবার বা বৃহস্পতিবারের মধ্যে কেরালার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা হতে পারে।

শেষ কথা: তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে থালাপতি বিজয়ের এই অগ্রযাত্রা ভারতের দক্ষিণি রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। আগামীকাল বুধবারের আস্থা ভোটই হবে তাঁর সরকারের প্রথম বড় পরীক্ষা।


    RELATED ARTICLES

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    - Advertisment -
    Google search engine

    Most Popular