Homeটুডে ওয়ার্ল্ডশুভেন্দুর ছায়াসঙ্গী খুনে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ: ১৩ বছরে ৪ সহকারীর ‘অস্বাভাবিক’ মৃত্যু

শুভেন্দুর ছায়াসঙ্গী খুনে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ: ১৩ বছরে ৪ সহকারীর ‘অস্বাভাবিক’ মৃত্যু

মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথকে রেকি করে ঝাঁঝরা করল দুষ্কৃতীরা; নেপথ্যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা না কি অন্য কিছু?

কলকাতা | শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

​পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ছায়া। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী ও ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনার পর শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারীদের ধারাবাহিকভাবে ‘অস্বাভাবিক’ মৃত্যুর বিষয়টি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। গত ১৩ বছরে চন্দ্রনাথসহ শুভেন্দুর মোট চারজন সহকারীর রহস্যজনক মৃত্যু হলো।

যেভাবে চলল অপারেশন চন্দ্রনাথ

​বুধবার রাত ১০টা ২০ মিনিট নাগাদ উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়:

  • রেকি ও অনুসরণ: দুষ্কৃতীরা বেশ কয়েকদিন ধরে চন্দ্রনাথের ওপর নজর রাখছিল। বুধবার রাতে তাঁর সরকারি গাড়িটিকে একটি চারচাকা ও দুটি মোটরসাইকেল পিছু নেয়।
  • হামলার ধরন: যশোর রোড থেকে গাড়িটি দোহারিয়ার দিকে মোড় নিলে মোটরসাইকেল আরোহীরা সামনে এসে পথ আটকায় এবং চন্দ্রনাথকে লক্ষ্য করে পরপর ৪-৫টি গুলি ছোড়ে।
  • ফোনে থাকাকালীন গুলি: ঘটনার সময় চন্দ্রনাথ বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন। শঙ্কর ঘোষের বয়ান অনুযায়ী, “হঠাৎই চন্দ্রর গলা জড়িয়ে গেল, তারপর আর সাড়া নেই।”
  • চালকের তৎপরতা: গুলিবিদ্ধ অবস্থাতেই চালক গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে পৌঁছান। চন্দ্রনাথকে মৃত ঘোষণা করা হলেও চালক চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

১৩ বছরে চার মৃত্যুর রহস্য

​চন্দ্রনাথের হত্যাকাণ্ড শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত বলয়ের ওপর আক্রমণের ধারাবাহিকতা কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে।

  1. প্রদীপ ঝা (২০১৩): শুভেন্দুর তৎকালীন পিএ প্রদীপ ঝা মেদিনীপুরে রহস্যজনকভাবে মারা যান।
  2. সুব্রত চক্রবর্তী (২০১৮): শুভেন্দুর দেহরক্ষী (পিএসও) সুব্রতকে কাঁথির ব্যারাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ একে আত্মহত্যা বললেও ২০২১ সালে সিআইডি তদন্ত শুরু করে।
  3. পুলক লাহিড়ী (২০২১): শুভেন্দুর আরেক ব্যক্তিগত সহকারীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়, যার কারণ আজও অস্পষ্ট।
  4. চন্দ্রনাথ রথ (২০২৬): বিমানবাহিনীর প্রাক্তন কর্মী ও শুভেন্দুর ছায়াসঙ্গীকে প্রকাশ্য রাস্তায় গুলি করে হত্যা।

🔎 বিশ্লেষণ: রাজনৈতিক বার্তা না কি নিরাপত্তা বিঘ্নিত?

​শুভেন্দু অধিকারী বর্তমানে রাজ্যের প্রভাবশালী বিরোধী নেতা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহের সফর এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শপথ অনুষ্ঠানের প্রাক্কালে এই হত্যাকাণ্ড গভীর রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করে। শুভেন্দুর দাবি, এটি ‘পরিকল্পিত ঠান্ডা মাথার খুন’। বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বৃত্তের সদস্যদের ওপর বারবার আঘাতের ঘটনা আদতে বিরোধী দলনেতাকে মানসিক চাপে রাখা বা ভয় দেখানোর কৌশল হতে পারে।

📊 তথ্যচিত্র: চন্দ্রনাথ হত্যাকাণ্ডের ফ্যাক্ট-বক্স

  • নিহত: চন্দ্রনাথ রথ (বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মী)।
  • স্থান: দোহারিয়া, মধ্যমগ্রাম, যশোর রোড।
  • অস্ত্র: প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী ৯ এমএম পিস্তল।
  • তদন্তকারী: রাজ্য পুলিশের সিআইডি ও ফরেনসিক দল।
  • রাজনৈতিক অবস্থান: বিজেপি একে ‘তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের কাজ’ বললেও শাসক দল তা অস্বীকার করেছে।

💬 মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া

​রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তাকে হাসপাতাল চত্বরেই শুভেন্দু অধিকারী কড়া বার্তা দিয়ে বলেন:

“এদের একটাও যেন পার না পায়। দ্রুত ধরতে হবে। সিসিটিভি ফুটেজে সব স্পষ্ট আছে।”

​বিজেপি কর্মীদের শান্ত থাকার বার্তা দিয়ে তিনি আরও বলেন, “আইন হাতে তুলে নেবেন না। তদন্তের ওপর আমরা ভরসা রাখছি।” অন্যদিকে, চন্দ্রনাথের স্ত্রীর দাবি, “আমার স্বামীর খুনিদের এনকাউন্টার চাই।”

উপসংহার

​চন্দ্রনাথের মৃত্যু কেবল একজন কর্মীর বিদায় নয়, এটি পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার প্রেক্ষাপটে একটি বড় আঘাত। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় স্তরের নেতাদের সফরের আগ মুহূর্তে এই ঘটনা রাজ্যের গোয়েন্দা ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নতুন অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। পুলিশ দ্রুত দোষীদের ধরতে না পারলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি, দ্য ওয়াল, আনন্দবাজার অনলাইন এবং রাজ্য পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular