বিশেষ প্রতিবেদন | টুডে টিভি বিডি ডেস্ক | ০৬ মে, ২০২৬
তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া সি জোসেফ বিজয় (থালাপতি বিজয়) এবং তাঁর দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে) একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আবির্ভূত হয়ে ইতিহাস গড়েছে। তবে ১০৮টি আসনে জয়লাভ করলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮টি আসনের ম্যাজিক ফিগার থেকে দলটি ১০ আসন পিছিয়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার গঠনের লক্ষ্যে ‘প্ল্যান বি’ সক্রিয় করেছেন বিজয়।
📊 তামিলনাড়ু নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল
| দল/জোট | প্রাপ্ত আসন | বর্তমান অবস্থান |
| টিভিকে (TVK) | ১০৮ | একক বৃহত্তম দল (ম্যাজিক ফিগার থেকে ১০ কম) |
| ডিএমকে (DMK) | ৫৯ | দ্বিতীয় বৃহত্তম দল |
| এআইএডিএমকে (AIADMK) | ৪৭ | তৃতীয় বৃহত্তম দল |
| কংগ্রেস (INC) | ০৫ | সম্ভাব্য কিং-মেকার |
| পিএমকে (PMK) | ০৪ | সম্ভাব্য জোটসঙ্গী |
🤝 জোটের সমীকরণ: কোন পথে বিজয়?
সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় বিধায়ক সংখ্যা জোগাড় করতে বিজয় এখন ছোট দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর করছেন।
- কংগ্রেসের সমর্থন: কংগ্রেস নেতা কে সি ভেনুগোপাল জানিয়েছেন যে, বিজয় কংগ্রেসের সমর্থন চেয়েছেন। কংগ্রেসও তামিলনাড়ুতে একটি ধর্মনিরপেক্ষ সরকার গঠনের লক্ষ্যে টিভিকে-কে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সংকেত দিয়েছে।
- অন্যান্য দল: পাত্তালি মাক্কাল কাজি (পিএমকে) এবং কংগ্রেস—উভয় দলই সমর্থনের বিনিময়ে দুটি করে মন্ত্রীপদ দাবি করেছে বলে জানা গেছে।
- বাম ও আঞ্চলিক দল: বাম দলগুলো অভ্যন্তরীণ আলোচনা চালালেও এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। এছাড়া ভিসিকে (VCK) এবং ডিএমডিকে (DMDK)-এর মতো দলগুলো পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।
🔎 বিশ্লেষণ: কেন কংগ্রেসের সমর্থনই যথেষ্ট নয়?
গাণিতিক হিসেবে কংগ্রেসের ৫টি আসন পেলেও বিজয়ের আসন সংখ্যা দাঁড়াবে ১১৩-তে (১০৮+৫)। তবে বিজয় নিজে দুটি আসন থেকে জয়ী হওয়ায় একটি ছেড়ে দিতে হবে, ফলে আসন সংখ্যা কমে দাঁড়াবে ১১২-তে। স্পিকার নির্বাচনের পর ভোট দেওয়ার ক্ষমতা বিবেচনায় নিলে সরকার টিকিয়ে রাখতে বিজয়ের আরও অন্তত ১২ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন হবে। তাই কংগ্রেসের পাশাপাশি পিএমকে বা বাম দলগুলোর সমর্থন তাঁর জন্য অপরিহার্য।
⚖️ রাজভবনের ভূমিকা ও শপথের প্রস্তুতি
টিভিকে-র পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই সরকার গঠনের দাবি নিয়ে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চাওয়া হয়েছে।
- আস্থা ভোট: রাজ্যপাল একক বৃহত্তম দল হিসেবে বিজয়কে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানালে, তাঁকে ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে বিধানসভায় আস্থা ভোটে জয়ী হতে হবে।
- ব্যর্থতা: যদি টিভিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে ব্যর্থ হয়, তবে রাজ্যপাল দ্বিতীয় বৃহত্তম দল বা জোটকে সরকার গঠনের সুযোগ দিতে পারেন।
💬 রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
“ব্যক্তিগতভাবে আমি প্রত্যাশা করি কংগ্রেসের সঙ্গে আমাদের জোট হবে। বাকি সমর্থন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই চলে আসবে।”
— নানজিল পি সাম্পাত, টিভিকের প্রচার সম্পাদক
“তামিলনাড়ুর ম্যান্ডেট একটি ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের পক্ষে। বিজেপি বা তাদের কোনো ছায়া শক্তি যাতে সরকার চালাতে না পারে, সে বিষয়ে কংগ্রেস হাইকমান্ড সতর্ক।”
— কে সি ভেনুগোপাল, কংগ্রেস নেতা
📝 উপসংহার
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র দ্বিমেরু আধিপত্য ভেঙে বিজয়ের উত্থান এক নতুন যুগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে ‘কিং-মেকার’ দলগুলোর দাবিদাওয়া পূরণ করে শেষ পর্যন্ত থালাপতি বিজয় সফলভাবে সরকার গঠন করতে পারেন কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়। আগামীকালই বিজয়ের শপথ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে টিভিকে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, ইন্ডিয়া টুডে ও আইএএনএস (IANS)।



